শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
দেশে অক্টোপাসের মতো দমবন্ধ পরিবেশ বিরাজ করছে: ফখরুল
২০ এপ্রিল, ২০২২ ১২:৫৪:২২
প্রিন্টঅ-অ+

দেশে ‘অক্টোপাসের মতো দমবন্ধ করা পরিবেশ’ বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাজধানীর গুলশানে এক আলোচনা সভায় দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশে মানুষ প্রতিদিন অধিকার নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করছে, পারছে না।


এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা সেই চেষ্টা করছি। আগামী দিনে অবশ্যই সে ধরনের একটা আন্দোলন তৈরি করতে সক্ষম হবো, যে আন্দোলরের মধ্যদিয়ে যে ভয়াবহ দানব আমাদের ওপর চেপে বসে আছে তাকে পরাজিত করে সত্যিকার অর্থেই জনগণের একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো, পার্লামেন্ট তৈরি করতে সক্ষম হবো।


বিএনপি মহাসচিব বলেন, আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে রক্ষা করবার জন্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করবার জন্য, গণতন্ত্রকে ফিরে পাবার জন্য এবং গুম হয়ে যাওয়া সন্তানদের ফিরে পাওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রাম করি, আন্দোলন করি। একটা সত্যিকার অর্থেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে নিয়ে আসি, যেখানে জবাবদিহিতা থাকবে। কোনো মা কাঁদবে না, কোনো সন্তান তার বাবাকে খুঁজবে না-এমন পরিবেশ আমরা তৈরি করি। মির্জা ফখরুল বলেন, যারা গুম হয়ে গেছেন, আমি জানি না তারা আমাদের কাছে ফিরে আসবে কি না। 


আমরা প্রতি মুহূর্তে প্রার্থনা করি, আল্লাহর কাছে দোয়া চাই তারা (গুম হওয়া) যেন ফিরে আসে। আর যারা খুন হয়েছে, যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের পরিবার-পরিজনদেরও একই অবস্থা। ‘আমাদের গুম হয়ে যাওয়া পরিবারগুলো আছে, তাদের স্বজনদের কথায় আমরা কষ্ট পেলেও অনুপ্রাণিত হই। তারা যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, এখনো করে যাচ্ছে, সেটা আমাদের এই সংগ্রামে, এই যুদ্ধে সাহস জোগাবে এবং আমরা সামনের দিকে আরও এগিয়ে গিয়ে সফল হতে পারবো।’ গুম হওয়া পরিবারগুলোর পাশে বিএনপির থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুম হওয়া প্রতিটি পরিবারের খবর রাখেন। আমাদের মানবাধিকার সেল আছে, তারা চেষ্টা করে বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক মহলে নিয়ে এসে কাজ করার জন্য।


বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘ইলিয়াস আলীসহ সকল গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দাও’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়াজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপির ছয় শতাধিক নেতাকর্মীর ‘গুম’ হওয়ার ওপর একটি ভিডিও ক্লিফ দেখানো হয়। ২০১৭ সালে ১৭ এপ্রিল বনানীর আমতলীর কাছ থেকে এম ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক আনসার আলীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আমরা এখানে বসেছি। গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত¡না দেওয়ার ভাষা আমাদের নেই, তাদের প্রতি কীভাবে আমরা সহানুভূতি প্রকাশ করবো তার ভাষাও আমাদের কাছে নেই। গুম করে নানা নির্যাতন করা, এমনকি থানায় জিডি পর্যন্ত করতে দেয়নি- আজকে কিন্তু এই বিষয়গুলো আর গোপন থাকেনি। এসব পরিবারের সদস্যদের কান্নায় আমরা ভাষাহীন।


‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আজকে আমাদের জনগণের কাছে এটা পরিষ্কার যে, এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে এই স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করতে হবে। এই কান্নার শেষ দেখতে হলে এই সরকারকে বিদায় করতে হবে। তা করতে হলে এ দেশের সব গণতান্ত্রিক, দেশপ্রেমিক সব জনগণকে, দলকে ‘সরকার হটানোর ইস্যুতে’ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তা না হলে এ দেশে কারো কান্না থামবে না।’ তিনি বলেন, স¤প্রতি প্রকাশিত আমেরিকার মানবাধিকার রিপোর্টে বাংলাদেশের মানবাধিকার বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে প্রকৃত সত্য ঘটনাগুলোকে তুলে ধরা হয়েছে।


অনেক মন্ত্রী বলেন, এই রিপোর্টের সঙ্গে বাস্তবতার অনেক তফাত। আমি তাদের সঙ্গে একমত যে এই রিপোর্টের সঙ্গে বাস্তবতার তফাত এই কারণে যে, বাস্তবতা হচ্ছে আরও কঠিন, বাস্তবতা হচ্ছে আরও বেশি ঘটনা। এই রিপোর্ট দেখলে বুঝতে পারি, সরকার কোনো কিছু ধামাচাপা দিয়ে রাখতে পারেনি। নাগরিক ঐক্যের আহŸায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এখন এতগুলো বছর পর এটাই সত্য যে, আমরা সিন্দাবাদের দ্বৈত্যের চাইতে নিষ্ঠুর একটা দ্বৈত্যকে কাঁধে নিয়ে চলছি। না নিয়েও উপায় নেই। আমরা যদি অনেক জোরে কাঁধ ঝাঁকি দেই, উনি পড়েন না, আমরা যে রকম করেই চেষ্টা করছি, উনি যাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ভাববার বিষয়। তখনই বলেছিলাম, মাফ চেয়ে, হাত বদল করে যত মিনতি করেন, এরা আপনাদের হারানো স্বজনদের ফিরিয়ে দিতে পারবে না।


কারণ ওরা তো নিজেরাই নিয়ে গেছে এবং নিয়ে যে গেছে, এর পেছনে লক্ষ্য ছিল একটাই, তাদের রাজনীতি, তাদের দল, তাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করবে। মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ও মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল ও ইলিয়াস আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াসের সঞ্চালনায় সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, গণ-অধিকার পরিষদের আহŸায়ক ড. রেজা কিবরিয়া, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ এবং বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভেকেট আসাদুজ্জামান আসাদ বক্তব্য রাখেন।


সভায় গুম হওয়া নেতা-কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ইলিয়াস আলীর সহধর্মিনী তাহসিনা রুশদীর লুনা, সাইদুর রহমানের বাবা শফিকুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম রাসেলের ভাই মশিউর রহমান লোটাস, পারভেজ হোসেনের ছোট মেয়ে আদিবা হোসেন হৃদি, নুরুজ্জামান রনির স্ত্রী মনিসা, মনির হোসেনের ভাই ওবায়দুল্লাহ হোসেন তাদের মনবেদনা ও আকুতির কথা তুলে ধরেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, জ্যেষ্ঠ নেতা শাহজাহান ওমর, জয়নুল আবদিন ফারুক, শাহজাদা মিয়া, ইসমাইল জবিউল্লাহ, অধ্যাপক সাহিদা রফিক, অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক মামুন আহমেদ, শ্যামা ওবায়েদ, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর হেলাল, ফরিদা ইয়াসমীন, আবেদ রাজাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্য ও কানাডা দূতাবাসের ক‚টনীতিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন