শিরোনাম :

  • রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
গত ১৩ বছরে দেশকে মুমূর্ষু অবস্থায় নিয়ে গেছে, দেশ এখন আইসিইউতে আছে : নুর
গাজী আক্তার
১৩ মে, ২০২২ ১৭:১৬:১৮
প্রিন্টঅ-অ+

বর্তমান সরকার গত ১৩ বছরে দেশকে মুমূর্ষু অবস্থায় নিয়ে গেছে, দেশ এখন আইসিইউতে আছে। বলে মন্তব্য করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।


শুক্রবার (১৩ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের উদ্যোগে ভোজ্যতেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।


সরকারি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদ নেতা নুরুল হক নুর বলেন, জনগণ রাস্তায় নামলে, আপনাদের অবস্থাও শ্রীলঙ্কার মতো হবে। একসময় শ্রীলঙ্কায় উন্নয়নের ঢোল বেজেছে। আজ তাদের অবস্থা আপনারা দেখছেন। আমাদের দেশের জনগণ ধৈর্য ধরছে বলেই যে দেশ শ্রীলঙ্কার মতো হবে না, তা ভাবার কারণ নেই।


গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া নয়, এ সরকারকে হঠানো নয়, আমাদের লক্ষ্য রাষ্ট্রের কার্যকর সংস্কার। দেশকে একটি প্রকৃত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা চাই একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।


নুর বলেন, খেয়াল করে দেখবেন, সব জিনিসের দাম বাড়ছে। সংসদের ৬২ শতাংশ এমপি ব্যবসায়ী। তারা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। প্রতি সপ্তাহে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি লেগেই আছে। সময় থাকতে আপনারা ভালো হয়ে যান। এই ব্যবসায়ী অবৈধ সংসদ সদস্যদের পতন না হওয়া পর্যন্ত বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠিক হবে না, জনগণের মুক্তি মিলবে না। আর সরকার যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম না কমায় তাহলে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি হবে সচিবালয় ঘেরাও।


তিনি বলেন, সারাদেশে অভিযান চালিয়ে একদিনে তিন লাখ লিটার অবৈধ মজুত রাখা সয়াবিন তেল আটক করেছে। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, একজন ব্যবসায়ীকে ৭৩ হাজার লিটার সয়াবিন তেল ও এক লাখ ৬০ হাজার লিটার পাম ওয়েল মজুত করার জন্য মাত্র এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


‘সে যদি লিটার প্রতি দুই টাকাও লাভ করে, তাতেও তো দেড় লাখ টাকার মতো হয়ে যায়। এতো কম জরিমানা তো হাস্যকর। এসব নামে মাত্র অভিযানের কারণেই অসৎ ব্যবসায়ীরা তাদের সিন্ডিকেট থেকে সরে আসছেন না। শুধুমাত্র তাই নয়, যখন তাদের জরিমানা করা হয়, তখন সরকারি দলের নেতারাই তাদের রক্ষা করতে ছুটে আসেন। কারণ তারা সেখান থেকে কমিশন পায়।’


ব্যবসায়ীদের কাছে সরকার জিম্মি মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কমছে। তার বিপরীতে আমদানি ব্যয় বাড়ছে। আগামীতে আমদানি পণ্যের দাম আরও বাড়বে। কারণ সরকার ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি। আবার অবৈধ ভোটেই এই সরকার সংসদ সাজিয়েছে। যেখানে বেশিরভাগই ব্যবসায়ী। অতএব অবৈধ সংসদের পতন না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থার পরিবর্তন হবে না।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশে নুরুল হক নুর বলেন, আপনারা কি দেখছেন না বর্তমান সরকার চারদিক থেকে কালো মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে গেছে? এখনও আপনারা সরকারের উন্নয়নের গুণগান গেয়ে যাচ্ছেন। এখনও আপনারা বিরোধী দলের নেতাকর্মী দেখলে পেটাচ্ছেন। আপনারা কেন এ নিষেধাজ্ঞা (র‌্যাব ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের) পেলেন, এটা কি জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে পেয়েছেন? না কি জনগণের বিপক্ষের সরকারের পাশে দাঁড়িয়েই এ নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন আপনারা।


সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ যুব অধিকার পরিষদ ছাত্র অধিকার পরিষদ শ্রমিক অধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আরো পড়ুন