শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
উত্তরায় বিএনপির ২ গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
০৬ জুন, ২০২২ ১৫:১৩:০১
প্রিন্টঅ-অ+


ঢাকা: ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কয়েকটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (৫ জুন) দুপুরে রাজধানীর উত্তরার সাত নম্বর সেক্টরে ১, ৫১ ও বিমানবন্দর সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

 ওই এলাকার এক বিএনপি নেতার বাড়ি ‘সমঝোতা’য় এই কাউন্সিলের আয়োজন করা হয়। কিন্তু নেতাদের মধ্যে সমঝোতার পরিবর্তে উত্তাপের জন্ম দেয়। বিক্ষুব্ধ নেতারা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হককে ঘেরাও করেন। তার গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে বিক্ষুব্ধরা সম্মেলন স্থল ত্যাগ করলে একতরফাভাবে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

নেতাকর্মীরা জানান, নগর বিএনপি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে উত্তরার ১২টি ওয়ার্ডে সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করছেন নগর নেতারা। নগর বিএনপি থেকে ঘোষিত প্রতিটি ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কমিটির সব যুগ্ম আহ্বায়কের সমন্বয়ের মাধ্যমে ইউনিট কমিটি করার কথা থাকলেও টিম প্রধান, আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কদের মতামতকে উপেক্ষা করে প্রত্যেক ওয়ার্ডে ব্যক্তি বিশেষের পছন্দমতো ইউনিট গঠন করা হয়।

এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের প্রভাবশালী প্রার্থীরা এতদিন লিখিতভাবে মহানগর নেতাদের অবহিত করার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে এলেও কোনো প্রতিকার পাননি। উপরোন্তু বিতর্কিত ওইসব কমিটির কাউন্সিলরদের দিয়ে নামকাওয়াস্তে কাউন্সিলের আয়োজন করা হয়। একটি সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতেই মহানগর নেতারা এ তৎপরতা শুরু করেন বলে বিক্ষুব্ধরা জানান।

তারা বলেন, রোববার ওই একপেশে কাউন্সিলের আগে সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বয় করে ইউনিট কমিটি গঠনের দাবি জানানোর একপর্যায়ে সদস্য সচিব আমিনুল হক উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং বিক্ষুব্ধদের কাউন্সিলস্থল ত্যাগ করার জন্য উচ্চবাচ্য করেন। কিন্তু বিক্ষুব্ধরা তাদের দাবিতে অটল থাকলে আমিনুল হক সম্মেলনস্থল ত্যাগ করার উদ্যোগ নিলে বিক্ষুব্ধরা তার গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন। এর কারণে তিনি আর ওই বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি। হট্টগোলের সময় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি অনেক পড়ে আসেন।

এ সময় নেতাকর্মীরা আমিনুলের একপেশে ভূমিকার সমালোচনা করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। দুই পক্ষের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ এসে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

নেতারা কাউন্সিল ভোটের নামে প্রহসন করার অভিযোগ করে বলেন, এখন পর্যন্ত যে কয়টি ওয়ার্ডে সম্মেলন করা হয়েছে সেখানে সঠিকভাবে ভোট গণনা না করে মনগড়া ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ভোট গণনার সময় সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা তার এজেন্টকে কোনো ওয়ার্ডের ভোট গণনার সময় কাছে রাখা হয়নি।

শৃংখলার কথা বলে সদস্য সচিব আমিনুল কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকেই সম্মেলনের ভোট গণনা দেখতে দেননি। মূলত অদৃশ্য কারণে ভোট নিয়ে এ নাটকের আয়োজন করছেন নগর বিএনপির নেতারা।

সম্মেলনে উপস্থিত মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জিয়াউর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, এটা নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা সব জায়গায়ই থাকে। কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে আমরা তিনটি ওয়ার্ডের সম্মেলন করে এসেছি। সুষ্ঠুভাবে ভোট হয়েছে। কমিটি ঘোষণা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঝামেলা বলতে সবাই আমাদের দলের। তাদের কিছু অবজেকশন ছিল, যেগুলো সঠিক সময়ে না বলে শেষ মুহূর্তে জানিয়েছে। এটা মনে হয়েছে একেবারে পরিকল্পিত।

সদস্য সচিব আমিনুল হক ওখান থেকে সরে আসতে চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টা সেরকম না। উনি একটু অন্য জায়গায় গিয়ে অভিযোগকারীদের বক্তব্য শুনতে চেয়েছিলেন। তবে, তারা তাকে যেতে দেয়নি। তারা বলেছেন এখানেই সমাধান করতে হবে। এটা আসলে বড় কিছু না, যেকোনো কাউন্সিলে রাজনৈতিক একটা উত্তেজনা থাকবেই।


আরো পড়ুন