শিরোনাম :

  • রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন মারা গেছেন
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৫:১৩:৩৫
প্রিন্টঅ-অ+


বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন (৮৩) মারা গেছেন। আজ বুধবার রাত ৯টা ৩০ মিনিটে গুলশানে নিজ বাসায় বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।  শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ১ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে গেছেন। তার ছেলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।



রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের জানাজা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টায় জানাজা হয়। এর আগে শাহ মোয়াজ্জেমের মরদেহ বিএনপির পতাকা দিয়ে ঢাকা হয়। জানাজা ও বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল শাহ নেছারুল হক।


জানাজা শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয় দলের পক্ষ থেকে। জানাজার আগে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীরা তার বর্ণাঢ্য জীবনের স্মৃতিচারণা করেন।


স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বর্ণাঢ্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ শাহ মোয়াজ্জেমকে হারিয়ে আমরা শোকাহত। তিনি একজন সংগ্রামী নেতা ছিলেন। ছাত্রজীবনে স্বাধিকার আন্দোলনে বিশাল ভূমিকা রেখেছেন তিনি। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তার আন্দোলন প্রত্যক্ষ করেছি। তার বক্তৃতা শোনার জন্য ছাত্ররা দলবেঁধে যেত।


‘পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধেও তার বিশাল ভূমিকা রয়েছে। ভারতীয় পার্লামেন্টে যে বক্তৃতা রেখেছেন তিনি তা ঐতিহাসিক ঘটনা। তিনি আমৃত্যু একজন দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ ছিলেন। এই মুহূর্তে দেশের মানুষের অধিকার নেই, এই আন্দোলনে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের মতো সংগ্রামী নেতাকে আমাদের খুব প্রয়োজন। তার সংগ্রামকে অনুসরণ করে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাব।’


স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতীয় পার্লামেন্টে দীর্ঘ সময় বক্তৃতা দিয়েই ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন বর্ষীয়ান এই নেতা।’


এ সময় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান ও জাগপার চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান জানাজায় অংশ নেন।


এ ছাড়াও বিএনপি নেতাদের মধ্যে আমানউল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, রুহুল কবীর রিজভী, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, খায়রুল কবীর খোকন, হাবিবুর রহমান হাবিব, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আমিনুল হক, এ বি এম মোশাররফ হোসেন ও সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন।


শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ১৯৩৯ সালের ১০ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জ জেলার দোগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগ ও পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।


১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর খন্দকার মোস্তাক আহমেদের মন্ত্রিসভায় ছিলেন তিনি।


পরে শাহ মোয়াজ্জেম হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তারপর তিনি যোগ দেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে।



আরো পড়ুন