
রাজধানীর বনানীতে একটি সিসা বারে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মদ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বনানীর ১১ নম্বর সড়কের একটি বহুতল ভবনের নবম তলায় ‘দ্য আনতালিয়া’ নামের সিসা বারে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে ভেতরে লুকানো অবস্থায় প্রায় ১০০ বোতল মদ, ২০টির বেশি সিসা সেবনের যন্ত্র (স্টেম) এবং মাদক গ্রহণে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সিসা বারটির মালিক জেভিকো কোম্পানির ইরফান আলম নাবিল। ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসার আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগ রয়েছে। নাফিজ আলম নামের আরেক ব্যক্তির সহযোগিতায় সেখানে নিয়মিত মাদক সেবন ও লেনদেন চলত। গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান-বাজনা ও অনিয়ন্ত্রিত পার্টির আয়োজন করা হতো বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ প্রযোজ্য ধারায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বনানী ও গুলশান এলাকায় আরও কিছু অনুমোদনহীন সিসা লাউঞ্জ গোপনে পরিচালিত হচ্ছে। এসব স্থানে মাদক সেবনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সেসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে গত ৩ মার্চ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ গুলশান-বনানী এলাকায় অবৈধ সিসা লাউঞ্জ ও মাদক কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং অবৈধ সিসা লাউঞ্জের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

