
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কাছাইট ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত মোহাম্মদ ইশতেয়াক ভূঁইয়ার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বিশেষ কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। তার পরিবর্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মুসলেম উদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ জুলফিকার হোসেন, ভাদুঘর ডিএস কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আকরাম হোসেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার পাপিয়া আক্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞান প্রযুক্তি কলেজের শিক্ষক তুফায়েল আহমেদ, শিক্ষাবিদ আব্দুল কাহার মুন্সি এবং ঘাটিয়ারা আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কালাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাছাইট ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আমির হামজা ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাদ্রাসার সুপারেন্টেনডেন্ট মাওলানা মোবারক হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দাখিল পরীক্ষার্থীদের সফলতা কামনায় মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা দৌড়, লাফসহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুসলেম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সুশিক্ষাই মানুষের জীবনের মূল ভিত্তি। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না, তাদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। তিনি পরীক্ষার্থীদের সফলতা কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ জুলফিকার হোসেন তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বর্তমানে মেয়েদের শিক্ষায় অগ্রগতি লক্ষ্যণীয়, যা সমাজের জন্য ইতিবাচক দিক। তবে ছেলে শিক্ষার্থীদেরও সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ আমির হামজা ভূঁইয়া বলেন, কাছাইট ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসাকে ভবিষ্যতে একটি আলিম মাদ্রাসায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, নতুন ভবন নির্মাণসহ শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের জন্য মোট দুই লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ঢাকা থেকে দক্ষ শিক্ষক এনে এই প্রতিষ্ঠানকে একটি মডেল মাদ্রাসায় রূপান্তর করা হবে। শেষে দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আমার বার্তা/মো. আরিফুল হক জুয়েল/এমই

