ই-পেপার শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩৩

শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা উদ্বেগজনক: ইউনিসেফ বাংলাদেশ

আমার বার্তা অনলাইন:
২৩ মার্চ ২০২৫, ১৭:৪৩

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছেন, বাংলাদেশে গত কয়েক সপ্তাহে শিশুদের ওপর, বিশেষ করে কন্যাশিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার খবর উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আমি গভীরভাবে আতঙ্কিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো যেসব জায়গায় শিশুদের সুরক্ষিত পরিবেশে বেড়ে ওঠার কথা, সেসব জায়গাসহ অন্যত্র শিশু ধর্ষণ ও শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার ভয়ানক ঘটনাগুলো সম্প্রতি যেভাবে বেড়েছে, তা নিয়ে আমি বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন।

রোববার (২৩ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে একথা জানান তিনি।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, মাগুরার আট বছরের শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। বাংলাদেশে শিশুরা, বিশেষ করে কন্যাশিশুরা, কীভাবে তাদের মৌলিক অধিকারগুলো ও নিরাপত্তার গুরুতর লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে, সেটা ওই শিশুর মৃত্যু আমাদের ভয়ঙ্করভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে, এই ছোট শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি শিশুদের ওপর যেসব ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে সেগুলোর নিছক একটি ঘটনা মাত্র। ইউনিসেফের নিরীক্ষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া শিশুদের সংখ্যা বড় বেদনাদায়ক ও উদ্বেগকজনক। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত সময়ে সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো শিশু ধর্ষণের প্রায় ৫০টি ঘটনা রেকর্ড করেছে। আর এই প্রবণতা যেন দিন দিন আরও ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে— শুধু ১০ মার্চ (সোমবার) এক দিনে সাতটি শিশু নিহত হয়েছে এবং ছয়টি শিশুর সঙ্গে সহিংসতার ঘটনা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এসব পরিসংখ্যান কেবল নিছক কোনও সংখ্যা নয়; এরা বিপন্ন জীবনের কথা বলে, নির্যাতনের শিকার হয়ে বেঁচে যাওয়া শিশুরা যে বিরাট মানসিক অভিঘাতের শিকার হয়, তার কথা বলে। ভুক্তভোগী পরিবার ও কমিউনিটিগুলোর বয়ে বেড়ানো অকল্পনীয় কষ্টের অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে তুলে ধরেছে।

রানা ফ্লাওয়ারস বলেন, এসব ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে ঘরে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাদের কাছে শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা সুরক্ষিত থাকে বলে সবাই আস্থা রাখে, সেই সব মানুষের হাতে তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা লঙ্ঘন হওয়ার ঘটনা সবার মনে গভীর দাগ কেটেছে, নানান প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। ইউনিসেফের হিসেবে, বিশ্বে বর্তমানে বেঁচে আছেন এমন প্রতি আট নারী ও শিশুর মধ্যে একজন ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই ধর্ষণ বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে। আর বাংলাদেশে সমীক্ষায় দেখা গেছে, এসব অপরাধী প্রায়ই ভুক্তভোগীদের পরিচিত হয়ে থাকেন। এই সংকটের প্রেক্ষিতে সরকার অপরাধীদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার যে নির্দেশ দিয়েছে সেটাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। একইসঙ্গে এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধকে এর যথাযথ নাম ‘ধর্ষণ’ বলে সম্বোধন করার ওপর জোর দিচ্ছি। নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর সহিংসতার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘শূন্য সহিষ্ণুতার’ (জিরো টলারেন্স) নীতির প্রতি অঙ্গীকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছে ইউনিসেফ। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে ক্ষতিকর আধেয় (কনটেন্ট) অপসারণে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) প্রচেষ্টারও প্রশংসা করছি আমরা।

তিনি বলেন, যেহেতু এসব পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত জরুরি, এগুলোকে শিশুদের ওপর সহিংসতার মূল কারণগুলো মোকাবিলায় একটি বৃহত্তর ও স্থায়ী প্রচেষ্টার অংশ করে নিতে হবে। এমন একটি সমাজ নির্মাণ করতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিশু ভয় ও সহিংসতা থেকে মুক্ত হয়ে বেড়ে উঠতে পারবে, তার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ও সব অংশীদারদের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলোতে বিনিয়োগ এবং সেগুলো জোরদারে অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে জোরালো তদন্ত, প্রসিকিউশন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুর ওপর সহিংসতার সব ঘটনার বিষয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে একটি বিশেষায়িত শিশু সুরক্ষা ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। এই ইউনিটের সদস্যদের মানসিক আঘাতপ্রাপ্তদের বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে তদন্ত পরিচালনার প্রশিক্ষণ এবং ভুক্তভোগীর প্রতি সংবেদনশীল মনোভাব নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। তাছাড়া সমাজ সেবায় নিয়োজিত জনবল বৃদ্ধি এবং তাদের পেশাগত উৎকর্ষ আনা গেলে, তা ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারগুলোকে জেন্ডার-সংবেদনশীল ও শিশু-কেন্দ্রিক সহায়তা প্রদানে কাজে দেবে। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য অবশ্যই স্বাধীন ও জেন্ডার-সংবেদনশীল প্রসিকিউটর নিয়োগ দিতে হবে, যাতে সময়মতো বিচার নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলার বিচার শেষ করা সরকারের যে লক্ষ্য, তা অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে সংবাদমাধ্যমেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষগুলোকে নৈতিকতাসম্পন্ন (ইথিকাল) মিডিয়া ও শিশু সুরক্ষার নীতিগুলোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে শিশুর মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষিত হয়। একইসঙ্গে সংবাদমাধ্যমগুলোকে নির্যাতনের শিকার শিশু ও ভুক্তভোগীদের পরিচয়, গোপনীয়তা ও মর্যাদা সুরক্ষিত রেখে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। এক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরকে চটকদার করে অহেতুক উত্তেজনা তৈরি পরিহার করার এবং ভুক্তভোগী, তাদের পরিবার ও কমিউনিটির আরও ক্ষতি হতে পারে— এমন কাজ এড়িয়ে চলার নীতি অবলম্বন করতে হবে।

শিশুদের নিরাপত্তায় ঘাটতি বাল্যবিবাহ এবং শিশুর ওপর অন্যান্য ধরনের সহিংসতা টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, প্রতিটি শিশুর একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে এবং তা ঘরে ও জনসমাগমস্থল উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। বিশেষ করে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে সহিংসতার শিকার শিশু কোনোভাবেই যেন আর মানসিক আঘাতের শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সহিংসতার শিকার ব্যক্তি মর্যাদা, ক্ষত সারিয়ে ওঠা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে। তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। কর্তৃপক্ষ, সংবাদমাধ্যম, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ ও জনসাধারণ সবাইকে এটা মেনে চলতে হবে। এটা তাদের সেরে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। শিশু ভুক্তভোগীদের জন্য দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং এখানে কোনও আপস চলবে না। যারা দায়ী তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইউনিসেফে আমরা শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও শিশুর সুরক্ষায় আমাদের প্রতিশ্রুতিতে অবিচল রয়েছি। সেই সঙ্গে শিশু সুরক্ষার ব্যবস্থাগুলো জোরদার করা এবং সব শিশুর জন্য আরও নিরাপদ একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকারকে সহায়তা করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

আমার বার্তা/এমই

সংসদ ভোটের চেয়ে গণভোটের হার বেশি হওয়ার ব্যাখ্যা দিলো ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ ভোটের তুলনায় গণভোটে ভোটার উপস্থিতি বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন

নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে: কমনওয়েলথ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি)

বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানালো জাতিসংঘ

নির্বাচন ও গণভোটের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছে জাতিসংঘ। শ‌নিবার (১৪ ফেব্রুয়া‌রি) জাতিসংঘ এক বার্তায় এই

তারেক রহমান-শফিকুর-নাহিদকে ফোন দিলেন মুহাম্মদ ইউনূস

নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ করে তোলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখায় তারেক রহমান, ডা. শফিকুর রহমান এবং
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশ নেই বলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে যাচ্ছেন না বিসিবি সভাপতি

ঠাকুরগাঁওয়ের ১,২,৩ আসনেই বিএনপির জয়

সংসদ ভোটের চেয়ে গণভোটের হার বেশি হওয়ার ব্যাখ্যা দিলো ইসি

১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ছাত্রশক্তির

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বাগেরহাটে হামলা-ভাংচুর

যেকোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে: তারেক রহমান

দাগনভুঞায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহতদের খোঁজ নিলেন জামায়াত প্রার্থী

নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে: কমনওয়েলথ

বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানালো জাতিসংঘ

এবার দেশ গড়ার পালা— ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: তারেক রহমান

আমরা অবশ্যই সার্ক পুনরুজ্জীবিত করতে চাইব: তারেক রহমান

কোনো ধরনের অন্যায় বরদাশত করা হবে না : তারেক রহমান

৩১ দফা ও জুলাই সনদে দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব: তারেক রহমান

এ বিজয় বাংলাদেশ, গণতন্ত্র ও মানুষের আকাঙ্ক্ষার: তারেক রহমান

বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: মির্জা ফখরুল

তারেক রহমান-শফিকুর-নাহিদকে ফোন দিলেন মুহাম্মদ ইউনূস

নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে: ব্রাসেলস

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

নির্বাচনে ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা চোখে পড়েনি: ইওএস

তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালো কমনওয়েলথ