
এলপিজি অটোগ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব ফিলিং স্টেশন কার্যত বন্ধ। অটোগ্যাস না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি প্রকৌশলী মো. সিরাজুল মাওলা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৪০ হাজার টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ অর্থাৎ ১৫ হাজার টন এলপিজি অটোগ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানাই। সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে অটোগ্যাস শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, সারাদেশে প্রায় ১০০০ এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন রয়েছে। দীর্ঘদিন স্টেশন বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংক ঋণের কিস্তি ও পরিচালন ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক উদ্যোক্তা দেউলিয়ার দারপ্রান্তে।
অবিলম্বে এলপিজির আমদানি স্বাভাবিক করা, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, চাহিদা অনুযায়ী অটোগ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, ভবিষ্যৎতে যেন এ রকম সংকট না হয় তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে এলপি গ্যাসের বাজারে নজিরবিহীন অরাজকতা বিরাজ করছে। ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ১৩০৬ টাকা নির্ধারিত থাকলেও অনেক জায়গায় ১৯০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
সংকটের প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলা হয়, নভেম্বর ২০২৫ মাসে এলপিজির আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লক্ষ ৫ হাজার মেট্রিক টন। অথচ ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১ লক্ষ ২৭ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি বৃদ্ধি হলেও বাজারে এলপি গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নাই। এলপিজির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে; কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পর এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) বিবৃতি প্রদান করে। এলপি গ্যাসের দামে কারসাজির দায় খুচরা বিক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে জড়িত বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। এর একদিন পরে কমিশন বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের ((বিইআরসি) সঙ্গে বৈঠকে কমিশন বৃদ্ধির আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে। তবে এখনও বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে এলপিজি।
আমার বার্তা/জেএইচ

