ই-পেপার বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

দেশের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে এত সংস্কার আগে হয়নি: আসিফ নজরুল

আমার বার্তা অনলাইন:
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৬

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ব‌লে‌ছেন, সংস্কার কী হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এখন একটি সাধারণ প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে বলেন যে কোনো সংস্কার হয়নি, কিন্তু এতো অল্প সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে এতগুলো সংস্কার কখনো হয়নি।

রোববার (১৮ জানুয়া‌রি) সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন— শীর্ষক এক সংলাপে এসব কথা ব‌লেন তি‌নি।

আসিফ নজরুল ব‌লেন, কিছু মানুষ নেতিবাচকতা ছড়িয়ে দেয় যা এক ধরনের উদ্দীপক হতে পারে, তবে এগুলো মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ১৯৫৪-৫৫ সালের যে প্রত্যাশা ছিল স্বাধীন বিচার বিভাগ গঠন করা, তা আমরা করেছি। সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ যে নিয়োগ হয়েছে, তা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো।

তিনি আরও বলেন, সরকারের সব ক্ষমতা উচ্চ আদালতকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে জবাবদিহিতা ছাড়া স্বাধীনতা সফল হয় না। উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের কোড অব কন্ডাক্টকে কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। মেজরিটি প্রোভিশন মানুষকে সফলতা দেবে। আইনগত সহায়তা এখন ৫ গুণ বেড়েছে।

আসিফ নজরুল ব‌লেন, তাত্ত্বিকভাবে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যা কিছু প্রয়োজন ছিল, আমরা তা করেছি। যদি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়, তবে আপনি এর সফলতা পাবেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আইনের শাসনের পথে আমরা অনেকটাই এগিয়ে গেছি। নির্বাচিত সরকার যদি পরবর্তী সময়ে আন্তরিকতা না দেখায়, তবে আমরা এর সফলতা অর্জন করতে পারব না।

অনুষ্ঠানে আলোচকদের মধ্যে ছিলেন- জাপা মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, সিপিবি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির সাবেক মন্ত্রী নিলুফার চৌধুরী মনি ব্রিটিশ স্কুল অব ল’ এর ভাইস প্রিন্সিপাল ব্যারিস্টার নুসরাত খান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বজলুর রশীদ ফিরোজ, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সাবেক জজ ইকতেদার আহমেদ, ব্যারিস্টার এম মঈন আলম ফিরোজী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান, ব্যারিস্টার সারওয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আলী, সিজিএস’র নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী, সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) সভাপতি জিল্লুর রহমান প্রমুখ।

তাজুল ইসলাম বলেন, ৪৭ লাখ মামলা এখনও বিচারাধীন রয়েছে। হাইকোর্টের যে মামলার রিপোর্টগুলো রয়েছে, সেগুলো নিষ্পত্তি করতে ২৫ থেকে ৩০ বছর সময় লাগবে। বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা ছাড়াও দক্ষ বিচারক ও গতিশীল বিচারক না থাকলে এই মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, হাইকোর্ট বিভাগে বর্তমানে যে বেঞ্চগুলো রয়েছে, সেগুলোর মতো নতুন বেঞ্চ গঠন না করলে মামলার নিষ্পত্তি কমানো সম্ভব নয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা যেমন বৃদ্ধি করতে হবে, তেমনি বিচার বিভাগে যোগ্য ব্যক্তির সংখ্যা বাড়াতে হবে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন প্রধান বিচারপতি একদিন প্রকাশ্যে আমাকে বলেছিলেন— মনে রাখবেন আল্লাহর পর শেখ হাসিনা, তারপর আমরা, কথাবার্তা হিসাব করে বলবেন। যদি প্রধান বিচারপতি এমন মন্তব্য করেন, তাহলে বিচার বিভাগ দিয়ে আমরা কী করতে পারব? এখনো এমন বিচারপতি রয়েছেন, যাদের মানসিকতা পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, যতদিন না বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হচ্ছে, ততদিন বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না এবং ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠাও সম্ভব হবে না। মবের মাধ্যমে বিপ্লবী নেতা বা বিপ্লবী মতাদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। ডিজিটাল ফর্মে বিচারকাজ পরিচালিত হলে, বিপুল মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।

বোরহান উদ্দিন খান বলেন, বিচার বিভাগ এবং আইনের শাসন অতীতে আরও শক্তিশালী ছিল; তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, আইনের চর্চা অবনতির দিকে এগিয়েছে, যদিও আইনের প্রয়োগের বিষয়ে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। অনেক রাজনৈতিক দল আইনের শাসন রক্ষা এবং শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু খুব কমই এই প্রতিশ্রুতিগুলো পূর্ণ হয়েছে।

তি‌নি ব‌লেন, বিচার ব্যবস্থায় জনগণের বিশ্বাস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এটি পুনরুদ্ধার করতে হবে। এজন্য শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং বিচারিক নেতৃত্বের প্রয়োজন, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রচারে এবং আইন সঠিকভাবে ও নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, সরকার আছে, তবে মূল সমস্যাগুলোর সমাধান হচ্ছে না। বিচারকের নিয়োগ প্রক্রিয়া আগের মতোই চলছে।

তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মামলার ক্ষেত্রে যে বিচারপতিরা ছিলেন, তাদের কারো না কারো পক্ষ থেকে ছোটাছুটি ছিল। যদি সরকারের বিরুদ্ধে ভয় কাজ না করে, তবে আমাদের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেবল কাগজে-কলমে রয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না এবং তাদের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। যখন যেই রাজনৈতিক দল সরকারে থাকে, তখন সেই দল বিচার বিভাগের কাজে প্রভাব ফেলেছে, যা আমাদের হতাশ করে। বিচারকদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং বিচার বিভাগের সুষ্ঠু কাজের জন্য আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে হবে।

বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে। বিচারকের নিয়োগ প্রক্রিয়ার মানদণ্ডের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সরকার যদি সদিচ্ছা রাখে, তবে একদিনেই সরকারের ক্ষমতা-বিভাগ সম্ভব। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো সরকার এই সদিচ্ছা প্রকাশ করেনি।

অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, বিচারকদের আচরণ আগে যেমন ছিল, এখনো তারা সেই ধারা থেকে বের হতে পারেননি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য আমরা দিনের পর দিন ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে আসছি, কিন্তু এখনো কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ব্যারিস্টার এম মঈন আলম ফিরোজী বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার টার্মিনোলজিতে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। আমরা শুধু প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের কথা বলছি, কিন্তু স্বাধীনতার পরেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অনেক ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, সংবিধানের শুরুতে আমরা এর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারিনি। বিচার বিভাগের যে উদ্দেশ্য ছিল, তার শুরু থেকেই সেটি আমাদের কাছে অবাস্তব ছিল।

ব্যারিস্টার নুসরাত খান বলেন, বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা বা নতুন করে স্বাধীনভাবে কাজ করার বিষয়টি কার্যকরভাবে চালু করতে হলে, সেখানে যারা সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছেন, তাদের ক্ষমতা-বিভাগের পরিপূর্ণতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শামীম হায়দার পাটওয়ারী বলেন, যদি দীর্ঘ সময় ধরে অন্যায় চলতে থাকে, তবে তা আরও বড় আকারে ফিরে আসে এবং গণবিচারকে উৎসাহিত করে। যদিও বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন হওয়া উচিত, কিন্তু এটি বাস্তবে প্রায়ই স্বাধীনতার অভাব থাকে। এটি বিচার বিভাগের অত্যাচার-অন্যায়ের একটি অন্যতম বিপজ্জনক রূপ, যা প্রতিরোধ করতে হবে জবাবদিহিতা এবং সংস্কারের মাধ্যমে। বিচার বিভাগের প্রতিষ্ঠানের উন্নতি প্রয়োজন, কিন্তু যথাযথ বাজেট বরাদ্দ এখনও হয়নি।

তি‌নি ব‌লেন, বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ ভারতসহ অনেক দেশ বাংলাদেশের তুলনায় বিচার ব্যবস্থায় এগিয়ে।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন আলোচনা করার সময়, এটি চিহ্নিত করা জরুরি যে, আইনের শাসন শুধু আইন থাকার মাধ্যমে নয় বরং সেগুলো কীভাবে, সঠিকভাবে এবং ন্যায়পরায়ণভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর নির্ভর করে। বাস্তবে আইন প্রণয়ন একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক স্তরের মাধ্যমে ঘটে, যেখানে নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো প্রায়শই প্রক্রিয়া বিলম্ব এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে পড়ে। রাষ্ট্রকে ন্যূনতম শর্তে নাগরিকদের জন্য সময়মতো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের সভাপতি জিল্লুর রহমান।

আমার বার্তা/এমই

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবৈধ বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রে যেসব বাংলাদেশি অবৈধভাবে বাস করছেন, তাদের ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর

১৮ মার্চও ছুটির প্রস্তাব, অনুমোদন হলে ঈদের ছুটি হবে সাতদিন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পূর্ব ঘোষিত ছুটির পাশাপাশি ১৮ মার্চও ছুটির প্রস্তাব করা হয়েছে।

ঈদের ছুটি একদিন বাড়ানোর দাবি যাত্রীকল্যাণ সমিতির

পবিত্র ঈদুল ফিতরে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ঈদের ছুটি এক দিন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ

কর্মকর্তা অনুপস্থিত, বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, আমি সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসে এসে আশাহত হয়েছি। কারণ সকাল
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারত মহাসাগরে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবৈধ বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১৮ মার্চও ছুটির প্রস্তাব, অনুমোদন হলে ঈদের ছুটি হবে সাতদিন

তিতাস গ্যাস ও সিটি ব্যাংকের মধ্যে অনলাইনে গ্যাস বিল আদায়ে চুক্তি স্বাক্ষর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে নারী শিক্ষককে হত্যা

সংসদীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে দলীয় এমপি-মন্ত্রীদের ২ দিনের প্রশিক্ষণ দেবে বিএনপি

ঈদের ছুটি একদিন বাড়ানোর দাবি যাত্রীকল্যাণ সমিতির

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চাই: বাণিজ্যমন্ত্রী

কর্মকর্তা অনুপস্থিত, বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই সারাদেশে অভিযান

৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

৫ দিনে শাহজালাল বিমানবন্দরে বাতিল হলো ১৭৩ ফ্লাইট

ইরানের সাবমেরিন-সহ ১৭টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র

হাসপাতাল থেকে দালালের দৌরাত্ম্য নির্মূল করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চাপের মুখে অর্থনীতি, নতুন সরকারের কঠিন চ্যালেঞ্জ

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতা নিহত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ল

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কারিগরি শিক্ষা খাতই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বার্সার কাছে তিন গোলে হেরেও ১৩ বছর পর ফাইনালে আতলেতিকো