
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের আগে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নিয়োগে বিদ্যমান সিন্ডিকেট ব্যবস্থা বিলুপ্ত এবং প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে মাইগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক (এমডব্লিউএন)। সংগঠনটি বলেছে, নিয়োগ সিন্ডিকেটের কারণে অভিবাসন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং হাজারো শ্রমিক ঋণদাসত্ব ও শ্রম শোষণের শিকার হচ্ছেন।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এসব দাবি জানান এমডব্লিউএন-এর সচিব নিরঞ্জন।
নিরঞ্জন বলেন, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রম অভিবাসন করিডোরে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, শোষণ ও দুর্নীতি চলে আসছে। মালয়েশিয়া ১৪টি উৎস দেশ থেকে শ্রমিক নিলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কয়েকটি নির্বাচিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সীমিত ও সিন্ডিকেটনির্ভর নিয়োগ ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এই একচেটিয়া ব্যবস্থা কৃত্রিমভাবে অভিবাসন ব্যয় বাড়িয়েছে এবং দুর্নীতিকে উৎসাহিত করেছে। অনেক শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যেতে প্রায় ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে বাধ্য হন, যদিও সরকার নির্ধারিত ব্যয় প্রায় ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে অনেকেই উচ্চ সুদে ঋণ নেন বা পারিবারিক সম্পদ বন্ধক রাখেন।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়।নএর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট জব্দ করে রাখা, বেতন না দেওয়া বা কম বেতন দেওয়া, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, অস্বাস্থ্যকর আবাসন, মিথ্যা চাকরির প্রতিশ্রুতি, অনিয়মিত আউটসোর্সিং কোম্পানির মাধ্যমে নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন না করা এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ। অনেক শ্রমিক বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় গেলেও পরবর্তীতে নিজেদের কোনো দোষ ছাড়াই অনথিভুক্ত হয়ে পড়েন। ফলে তারা আটক, চাঁদাবাজি, বহিষ্কার ও জোরপূর্বক শ্রমের ঝুঁকিতে পড়েন।
সচিব বলেন, বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া শ্রম অভিবাসন করিডোর নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বেড়েছে। ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের শোষণ ও অপরাধীকরণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর একই ধরনের উদ্বেগ আবারও উত্থাপিত হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন সংস্থা এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
এমডব্লিউএন থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বর্তমান বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সমঝোতা স্মারক বাতিল করে বাধ্যতামূলক দ্বিপক্ষীয় শ্রম চুক্তি স্বাক্ষর, নিয়োগ সিন্ডিকেট বিলুপ্তি, অনথিভুক্ত শ্রমিকদের বৈধতার আওতায় আনা, শোষণের শিকার শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায়, পাসপোর্ট জব্দ ও জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে অভিবাসী শ্রমিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
এমডব্লিউএনের সদস্যরা আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিয়োগ সিন্ডিকেটই শ্রম অভিবাসন সংকট, অভিবাসন স্থগিতাদেশ, ঋণদাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রমের অন্যতম প্রধান কারণ। সংগঠনটি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকার, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও অধিকারভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাচ্ছি।
মানববন্ধনে এমডব্লিউএন-এর বাংলাদেশ শাখার সভাপতি ওমর ফারুকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার বার্তা /জেএইচ

