
ঢাকার অলিগলিতে, ফুটপাতে কিংবা ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা ভিখারী শিশু-কিশোরদের পলিথিনে ডেন্ডি সেবনের দৃশ্য আমাদের নাগরিক সমাজের জন্য গভীর ট্র্যাজেডি। আমরা অনেক সময় এ দৃশ্য দেখে উল্টো দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরিয়ে নিই, অথচ এই অবহেলিত শিশুরাই ভবিষ্যতে বড় হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। আজকের এই ছোট্ট মানুষগুলোই প্রতিকূলতার মধ্যে হারিয়ে কাল হতে পারে চোর, ছিনতাইকারী, কিংবা কোনো কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।
আমাদের স্বপ্নের ঢাকা শহরকে যদি সত্যিই একটি সভ্য, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ জায়গা রূপান্তর করতে হয়, তবে উন্নয়নের প্রথম পদক্ষেপ হবে এই টোকাই শিশুদের পুনর্বাসন। ঢাকা শহরকে বিশ্বের প্রায় মডেল মহানগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে শুধু রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা বা অবকাঠামো উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, বরং শহরের প্রতিটি মানুষের মানবিক উন্নয়ন অপরিহার্য।
টোকাই শিশুদের এভাবে রাস্তায় ছেড়ে রাখা কিংবা অবজ্ঞার চোখে দেখা। আমরা কখনোই একটি সুস্থ নাগরিক সমাজ আশা করতে পারি না। এই শিশুদের মূলধারার জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের একত্রে কাজ করতে হবে। ঢাকা শহরের প্রতিটি শিশুর দায়িত্ব নেওয়া মানে দেশের ভবিষ্যতের সম্পদ রক্ষা করা।
এই শিশুদের চিহ্নিত করে তাদের জন্য নির্দিষ্ট আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ব্যবস্থা করতে হবে। সেখানে তাদের হাতের কাজ, কারিগরি শিক্ষা এবং নৈতিক মূল্যবোধ শেখানো হবে। যাতে তারা একদিন সমাজের বোঝা না হয়ে দেশের অর্থনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের সুযোগ পায়।
শহর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার এই উদ্যোগ তখনই সফল হবে যখন রাস্তায় থাকা টোকাইদের সরিয়ে তাদের একটি সুন্দর ও নিরাপদ ঠিকানায় বসবাসের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রতিটি পথশিশুকে দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগ জাতির মেরুদণ্ড শক্ত করবে। রাষ্ট্র যখন প্রতিটি শিশুর জীবনের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেবে, তখন ঢাকা শহর নতুন করে তার মানবিক মর্যাদা খুঁজে পাবে।
সামাজিক বৈষম্য কমিয়ে যখন আমরা এই পথশিশুদের হাতে বই, কলম কিংবা কারিগরি সরঞ্জাম দেব, তখন তারা আমাদের উন্নয়নের অংশীদার হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকেরা যদি এমন উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন, তবে শুধু ঢাকা নয়, পুরো দেশ এক মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় নতুন করে উজ্জীবিত হবে। শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করেই একটি সভ্য শহরের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।

