
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা হয়নি মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানার। ওয়ানডে সিরিজ শেষ হতেই প্রশ্ন জেগেছিল, তাহলে কি তারা আবার পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ পিএসএলে ফিরে যাচ্ছেন?
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, তাদের আর পিএসএলে ফেরার সুযোগ নেই। এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের বাকি মৌসুমের জন্য বিসিবি তাদের কোনো অনাপত্তিপত্র বা এনওসি দেবে না।
মোস্তাফিজের পিএসএলে না ফেরার কারণটি বেশ স্পষ্ট। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হাঁটুতে অস্বস্তি বোধ করছিলেন তিনি। প্রথম ওয়ানডেতে খেলতে পারেননি, দ্বিতীয় ম্যাচেও ছিলেন মাঠের বাইরে। তৃতীয় ওয়ানডেতে খেললেও এখন তাকে কঠোর পর্যবেক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২০ মে পর্যন্ত মোস্তাফিজকে পুনর্বাসনে থাকতে হবে। এ কারণেই তিনি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও আপাতত কোনো দলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হননি। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
অন্যদিকে, নাহিদ রানার জন্য পরিকল্পনাটা একদম আলাদা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বল হাতে দারুণ দাপট দেখিয়ে সিরিজসেরা হয়েছেন তিনি। ওয়ানডে সিরিজ শেষে তিনি আপাতত বিশ্রামে থাকবেন। আগামী মাসেই পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজ রয়েছে। সেই সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবেই নাহিদকে তৈরি করা হচ্ছে। তরুণ এই পেসারকে টেস্ট ফরম্যাটে আরও দক্ষ করে তুলতেই বিসিবি তাকে আপাতত আন্তর্জাতিক সিরিজের প্রস্তুতির দিকেই মনোযোগী হতে বলছে।
এবারের পিএসএলেই প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন নাহিদ রানা। পেশোয়ার জালমির হয়ে ৪ ম্যাচে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছিলেন তিনি। ওভারপ্রতি ৫.৪২ গড়ে রান খরচ করে শিকার করেছিলেন ৭ উইকেট। অন্যদিকে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে ৫ ম্যাচ খেলে মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছিলেন ৬ উইকেট। তাঁদের এমন উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের কারণেই ভক্তদের মনে আশা ছিল যে তাঁরা হয়তো পিএসএলে ফিরে নিজেদের ফর্ম ধরে রাখবেন।
টি-টোয়েন্টি দলে তাঁদের অন্তর্ভুক্তি না হওয়ায় ভক্তদের মনে কিছুটা বিস্ময় থাকলেও বিসিবির এই সিদ্ধান্তের পেছনে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাই প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। মোস্তাফিজের ইনজুরি ও নাহিদ রানার টেস্ট প্রস্তুতির কথা চিন্তা করে বোর্ডের এই সতর্ক অবস্থানকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। আপাতত দেশে অবস্থান করেই নিজেদের ফিটনেস ও স্কিল নিয়ে কাজ করবেন এই দুই পেসার। সামনে থাকা ব্যস্ত ক্রিকেট সূচির কথা মাথায় রেখেই বিসিবির এই সিদ্ধান্ত। দেশের হয়ে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ নিতেই এখন সব মনোযোগ তাদের।
আমার বার্তা/জেএইচ

