শিরোনাম :

  • একদিন পিছিয়ে আজ হেমন্তের শুরু টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২ বছিলায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান : তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৮ নভেম্বর সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫ ওমরাহ যাত্রী নিহত পাক-ভারতের গোলাগুলি, নিহত ৪
মুন্সিগঞ্জে ইয়াবার কাছে হারল বন্ধুত্ব, ৮ হাজার টাকার জন্য বন্ধুকে খুন
মুন্সিগঞ্ প্রতিনিধি :
০৬ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:৪৭:৩৮
প্রিন্টঅ-অ+


মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় ইয়াবা ব্যবসার অগ্রিম আট হাজার টাকার জন্য জাহিদুল ইসলামকে (১৯) গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেছেন তারই বন্ধু শওকত মিয়া ও তার সহযোগীরা।

শনিবার বিকেলে মুন্সিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রবিউল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানান শওকত মিয়া।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে জাহিদুলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের কেউ মামলা করতে রাজি না হওয়ায় শ্রীনগর থানা পুলিশের এসআই আবুল কালাম বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য মাঠে নামে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের নয়দিন পর পুলিশ জানতে পারে জাহিদুলকে হত্যা করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শনিবার ভোরে (০৫ অক্টোবর) বান্দরবান থেকে শওকত মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদুলকে হত্যার কথা স্বীকার করেন শওকত মিয়া।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-অপারেশন) কামরুজ্জামান বলেন, জাহিদুলের মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের কেউ মামলা করতে রাজি না হওয়ায় এসআই আবুল কালাম বাদী হয়ে মামলা করেন। এরপর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য মাঠে নামে পুলিশ। জাহিদুলের প্রতিবেশী শেখ সিরাজের ছেলে শওকতকে গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য বেরিয়ে আসে। শনিবার দুপুরে শওকতকে আদালতে পাঠানো হয়।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শওকত জানান, জাহিদুলের কাছ থেকে ইয়াবা কিনে অন্যত্র বিক্রি করতেন। কিছুদিন আগে ইয়াবা ব্যবসার অগ্রিম হিসেবে বন্ধু জাহিদুলকে আট হাজার টাকা দেন শওকত। টাকা নিয়ে ইয়াবা না দেয়ায় জাহিদুলের সঙ্গে শওকতের কথা কাটাকাটি হয়। এর সূত্র ধরে শওকত কৌশলে তার সহযোগীদের নিয়ে জাহিদুলকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে মরদেহ জঙ্গলে ফেলে পালিয়ে যান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার জাহিদুল ইসলাম উপজেলার পূর্ব বাঘড়া এলাকার শাহাবুদ্দিন মাস্টার হত্যা মামলায় চার বছর সাজা ভোগকারী রুবেল ইসলামের ভাই।

গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে নিখোঁজ হন জাহিদুল। নিখোঁজের পরদিন জাহিদুলের বোন বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় জিডি করেন। ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের জঙ্গলে জাহিদুলের মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। কিন্তু মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা মামলা না করায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।

মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর-সার্কেল) আসাদুজ্জামান বলেন, জাহিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে শওকত ছাড়াও তার সহযোগীরা অংশ নেয়। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।



আমার বার্তা/ ০৬ অক্টোবর ২০১৯/রহিমা


আরো পড়ুন