শিরোনাম :

  • মধ্যরাত পর্যন্ত রুদ্ধদ্বার বৈঠক, শর্ত জুড়ে দিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার আজ সশস্ত্রবাহিনী দিবস ওয়াটারফ্রন্ট স্মার্টসিটি হবে কেরানীগঞ্জে ছোট ভাই প্রেসিডেন্ট, বড় ভাই এবার প্রধানমন্ত্রী ৭ তলার জানালা দিয়ে উড়ে আসছে লাখ লাখ টাকা, কুড়োতে হুড়োহুড়ি
জয়পুরহাটে মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্ট দিয়ে বিদ্যালয়ের ছাদ ঢালাই
জয়পুরহাট প্রতিনিধি :
০৭ অক্টোবর, ২০১৯ ১১:৩৫:৫৮
প্রিন্টঅ-অ+


জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রাই উচ্চ বিদ্যালয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্ট ও নিম্নমানের রড দিয়ে ছাদ ঢালাই দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যোগসাজশ করে নিয়ম না মেনেই বিদ্যালয়ের ছাদ ঢালাই দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাত্রাই উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলা বর্ধিতকরণের কাজের অংশ হিসেবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের অধীনে ৭৫ লাখ টাকার কাজ পান নওগাঁর এশিয়া ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী নূরুল ইসলাম। তিনি কাজটি না করে কমিশনে প্যারিস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ওবাইদুল্ল্যাকে দেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্যারিস এন্টারপ্রাইজ ২০১৯ সালের জুলাই থেকে কাজটি শুরু করে গতকাল রোববার দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করে।

এদিকে ঢালাইয়ের জন্য রাখা মীর সিমেন্টের ব্যাগের গায়ে উৎপাদন তারিখ জুলাই ২০১৯ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ সেপ্টেম্বর ২০১৯ দেখে এবং রডের মান নিম্নমানের দেখে প্রধান শিক্ষকসহ স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোনো কর্ণপাত না করে ওই রড ও সিমেন্ট দিয়েই ছাদ ঢালাই দিয়েছেন।

একাধিক ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, যেহেতু সিমেন্ট মেয়াদোত্তীর্ণ, সেহেতু ওই সিমেন্টের গুণগত মান নষ্ট হয়ে গেছে। ওই সিমেন্ট দিয়ে কাজ করার পর জমাট বাঁধতে সময় লাগা ছাড়াও এর স্থায়িত্ব কমে যাবে ও নিম্নমানের রডের কারণে কিছুদিন পর ছাদ থেকে সিমেন্ট খণ্ড খণ্ড হয়ে পড়ে যাবে।

মাত্রাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, নিম্নমানের রড ও সিমেন্টের মেয়াদ দেখে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও তারা ছাদ ঢালাই দিয়েছে।

ড্রিম বিল্ডিং ডিজাইন ও কনসালটেন্সি সেন্টারের স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার সুলতান মাহমুদ জানান, সিমেন্টের মেয়াদোত্তীর্ণের ফলে গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। এই সিমেন্ট দিয়ে কাজ করলে কিছুদিন পর এর ফলাফল বোঝা যাবে। সিমেন্ট খসে খসে পড়বে বলে জানান তিনি।

প্যারিস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ওবাইদুল্ল্যা বলেন, সিমেন্ট মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও দোলা ধরেনি। এ কারণেই এই সিমেন্ট দিয়ে কাজ করা হয়েছে। সিমেন্টগুলো ঢালাইয়ের জন্য কোম্পানি থেকে মেয়াদোত্তীর্ণের আগে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু ঈদ ও বৃষ্টির কারণে ঢালাই দিতে না পারায় মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এখন তো আর কোম্পানি সিমেন্ট ফেরত নেবে না।

কালাই উপজেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের ইঞ্জিনিয়ার শাহাবুদ্দৌলা জানান, ঢালাইয়ের আগে সিমেন্টের প্যাকেট খুলে গুণগত মান দেখা হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণের কারণে সিমেন্টের পরিমাণ বেশি দিয়ে ঢালাই দেয়া হয়েছে। ফলে কোনো সমস্যা হবে না। রডের গুণগত মান ঠিক আছে বলেও জানান তিনি।

জয়পুরহাট জেলা শিক্ষা অফিসার ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ্ বলেন, বিষয়টি শুনলাম। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





আমার বার্তা/ ০৭ অক্টোবর ২০১৯/রহিমা


আরো পড়ুন