শিরোনাম :

  • দুবাই শাসকের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক আরব আমিরাতের আরও বড় বিনিয়োগ প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সহজে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ আফগানিস্তানের রোনালদোর গোলে ইউরোর মূলপর্বে পর্তুগাল গ্রিজম্যান ঝলকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইউরোর মূলপর্বে ফ্রান্স
স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর আন্তঃনগর ট্রেন পেতে যাচ্ছে কুড়িগ্রামবাসী
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ১৫:৫৫:২২
প্রিন্টঅ-অ+


স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর প্রথম ঢাকা-কুড়িগ্রাম আন্তঃনগর ট্রেন পেতে যাচ্ছে কুড়িগ্রাম জেলাবাসী। আগামীকাল বুধবার (১৬ অক্টোবর) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বহুল প্রতীক্ষিত আন্তঃনগর ট্রেন কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল করতে চলছে নানা প্রস্তুতি। দেশের দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী উত্তরাঞ্চলের সর্বশেষ জেলা কুড়িগ্রাম। ঢাকা-কুড়িগ্রাম-ঢাকা একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু হতে যাওয়ায় উচ্ছ্বসিত জেলাবাসী। এই ট্রেন চালু হলে দারিদ্র্যপীড়িত এ জেলার মানুষ আর্থসামাজিক উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন।

২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনবার কুড়িগ্রাম সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সফরকালে জেলার উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ঢাকা-কুড়িগ্রাম সরাসরি একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুরও প্রতিশ্রুতি দেন। তার এ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বুধবার থেকে পূর্ণাঙ্গ আন্তঃনগর ট্রেনের সুবিধা পেতে যাচ্ছে জেলাবাসী। এর আগে ২০১৮ সালে একটি শাটল ট্রেন চালু হয় কুড়িগ্রাম থেকে কাউনিয়া রেলস্টেশন পর্যন্ত।

টগরাইহাটের বাসিন্দা ফজললু হক (৬০), কাদের মিয়া (৪৫) জলিল হোসেন (৭০) ও সালাম আলী (৫৫) বলে, ‘বাহে হামরা স্বপ্নেও ভাবি নাই কুড়িগ্রাম-ঢাকা ট্রেন চালু হবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর এই প্রথম ঢাকা-কুড়িগ্রাম সরাসরি চালু হওয়ায় হামরা খুব খুশি। কেননা ২০০১ সালে বিএনপির সময় জেলার লোকাল ট্রেনগুলা সব বন্ধ করি দিছিল। আজ আওয়ামী লীগ আসিয়া আবারও হামার দাবি মানি নিলে।’

শিক্ষার্থী কল্লোল, মৌসুমী, ফারুক, বুলবুলি আক্তারসহ অনেকেই জানান, এ ট্রেন চালু হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক উপকারে আসবে। দীর্ঘদিন থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি ছিল। এখন সময় মতো শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবে। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয় হবে না।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-কুড়িগ্রামের দূরত্ব ২৮৬.৮ মাইল বা ৪৬১ কিলোমিটার। প্রস্তাবিত কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস সপ্তাহে ছয়দিন সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে কুড়িগ্রাম ছাড়বে। ঢাকা থেকে ৬৩৮টি আসন নিয়ে কুড়িগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেবে রাত ৮টা ৪৫ মিনিট। শুধু বুধবার কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস বন্ধ থাকবে। প্রস্তাবিত এ ট্রেনের স্টপিজ হবে রংপুর-বদরগঞ্জ-পার্বতীপুর-জয়পুরহাট-সান্তাহার-মাধবনগর-ঢাকা-বিমানবন্দর স্টেশন। কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা যাত্রাকালীন ৬৫৭টি আসন এবং ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম ফেরার পথে ৬৩৮টি আসন থাকবে। এর মধ্যে শোভন চেয়ার ৫১০ টাকা, এসি চেয়ার ৯৭২ টাকা, এসি সিট ১ হাজার ১৬৮ টাকা এবং এসি বাথ ১ হাজার ৮০৪ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের উদ্বোধন শেষে বাণিজ্যিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হবে ১৭ অক্টোবর থেকে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার মো. হারুন অর রশীদ বলেন, বুধবার প্রধানমন্ত্রী আন্তঃনগর ট্রেনটি উদ্বোধন করবেন। এর সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ট্রেনের গতি বাড়ানোসহ অন্যান্য যে সমস্যা রয়েছে তা আমরা দ্রুত শেষ করব।





আমার বার্তা/১৫ অক্টোবর ২০১৯/রহিমা


আরো পড়ুন