ই-পেপার বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

সন্তান জন্মের পর কর্মজীবী মায়ের নতুন লড়াই

আমার বার্তা অনলাইন
০৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৪২

একটা সময় ছিল যখন নারীদের জীবন সীমাবদ্ধ ছিল ঘরের চার দেয়ালের ভেতরে। পরিবার ও সংসারের দায়িত্বই ছিল তাদের প্রধান পরিচয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলেছে। এখন নারীরা ঘরের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষা, পেশা, ব্যবসা ও নেতৃত্বের নানা ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। তবুও বাস্তবতা হলো- এই পথচলায় অনেক নারীকে প্রতিনিয়ত বৈষম্য, চাপ ও অসহযোগিতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়। বিশেষ করে সন্তানের জন্মের পর কর্মজীবী মায়েদের সামনে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়ায়।

নারীর জীবনে সন্তানের জন্ম নিঃসন্দেহে আনন্দ ও ভালোবাসার এক অনন্য মুহূর্ত। একটি নতুন জীবনের আগমন পরিবারে নতুন আশার আলো নিয়ে আসে। তবে এই আনন্দের পাশাপাশি মায়ের জীবনে আসে নতুন দায়িত্ব, শারীরিক পরিবর্তন এবং মানসিক চাপ। যারা কর্মজীবী, তাদের জন্য এই সময়টি আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। প্রতি বছর নারী দিবসে আমাদের মনে করিয়ে দেয় নারীরা শুধু পরিবার নয়, কর্মক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, এবং তাদের এই পথচলায় নানা বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়।

শরীর ও মনের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া

শিশুর জন্মের পর প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হলো শরীর ও মনের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মের পর একজন মায়ের শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগে। এই সময় অনেকেই শারীরিক দুর্বলতা, ক্লান্তি কিংবা ঘুমের অভাবে ভোগেন। অথচ মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ হওয়ার পর অনেক কর্মজীবী মাকে দ্রুতই কাজে ফিরতে হয়। ফলে শারীরিক পুনরুদ্ধারের সময় না পেয়ে তারা দ্বিগুণ চাপের মধ্যে পড়ে যান।

সময় ও দায়িত্বের ভারসাম্যের লড়াই

সময়ের ভারসাম্য বজায় রাখাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অফিসের দায়িত্ব যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে শিশুর যত্ন, ঘরের কাজ এবং পরিবারের অন্যান্য দায়িত্ব। অনেক মা সকালে অফিসের প্রস্তুতি নিয়ে বের হন, আবার সন্ধ্যায় ফিরে শিশুর যত্নে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দিনের পর দিন এই ব্যস্ততার ভেতর দিয়ে চলতে গিয়ে তারা নিজের জন্য সময় বের করতে পারেন না। এতে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি বাড়তে পারে।

শিশুকে রেখে কাজে যাওয়ার মানসিক চাপ

শিশুকে রেখে কর্মস্থলে যাওয়ার বিষয়টি অনেক মায়ের জন্য মানসিকভাবে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় মায়েরা মনে করেন, তারা হয়তো সন্তানের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে পারছেন না। এই অপরাধবোধ তাদের মানসিকভাবে অস্থির করে তুলতে পারে। অন্যদিকে কর্মক্ষেত্রেও নিজের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা ধরে রাখার চাপ থাকে। ফলে অনেক নারী এক ধরনের মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে দিন কাটান।

কর্মক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশের প্রয়োজন

কর্মক্ষেত্রের পরিবেশও এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি কর্মস্থলে সহায়ক নীতি ও পরিবেশ থাকে, যেমন মাতৃত্বকালীন ছুটি, নমনীয় কর্মঘণ্টা বা শিশুর যত্নের সুবিধা থাকে তাহলে কর্মজীবী মায়েদের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়া তুলনামূলক সহজ হয়। সহকর্মী ও কর্তৃপক্ষের সহানুভূতিশীল মনোভাব একজন মাকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করতে উৎসাহ দেয়।

পরিবারের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ

পরিবারের সহযোগিতাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বামী, বাবা-মা বা পরিবারের অন্য সদস্যরা যদি শিশুর যত্নে অংশ নেন, তাহলে মায়ের ওপর চাপ অনেকটাই কমে যায়। এতে তিনি নিজের কাজ ও পরিবার-দুই ক্ষেত্রেই ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন।

এসব চ্যালেঞ্জের মাঝেও অসংখ্য নারী সাহস, ধৈর্য এবং ভালোবাসা দিয়ে প্রতিদিন নিজেদের পথ তৈরি করছেন। তারা প্রমাণ করছেন যে মাতৃত্ব ও পেশা দুটাই একসঙ্গে সামলানো সম্ভব। প্রয়োজন শুধু সহযোগিতা, সম্মান এবং সমান সুযোগের।

নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়,কর্মজীবী মায়েদের এই সংগ্রাম কেবল ব্যক্তিগত নয়, এটি সমাজের অগ্রগতির সঙ্গে জড়িত। তাই তাদের জন্য সহায়ক ও মানবিক কর্মপরিবেশ তৈরি করা এবং তাদের অবদানকে যথাযথ সম্মান দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। - সূত্র: মিডিয়াম, আমেরিকান ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন, হিন্দুস্তান টাইমস

আমার বার্তা /জেএইচ

তেরেঙ্গানু: মালয়েশিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এক রাজ্য

মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলের অন্যতম ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর রাজ্য তেরেঙ্গানু (Terengganu)। এই রাজ্যটি আজ

সিলেটের পর এবার কুড়িগ্রামে বিস্তৃত নাদিরার নারী উন্নয়ন প্রকল্প

দেশের উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত জনপদ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার জামতলা গ্রামে শুরু হয়েছে নতুন সম্ভাবনার গল্প। সুবিধাবঞ্চিত

আখের রস না কি ডাবের পানি, গরমে কোনটি বেশি উপকারী?

যখন গরম চরমে ওঠে, তখন আমরা বেশিরভাগই ঠান্ডা ও সতেজকারক কিছুর দিকে হাত বাড়াই। গ্রীষ্মের

চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে যে ৫ খাবার খাবেন

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, ছানি ও অন্যান্য
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কেরানীগঞ্জে অটোরিকশাচালক হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিজ দেশে নিপীড়নের শঙ্কার কথা বললে ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে, কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নয়: সংসদে গয়েশ্বর

প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ‘ড্র’ অনুষ্ঠিত, ৬ লাখ টাকা পেল ০০০১০৩৫ নম্বর

ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ প্রকল্প সম্প্রসারণে জোর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

মুজিব বলেছিলেন সাবধানে থাকিস, জিয়া বলেছিলেন যুদ্ধ করো: সংসদে গয়েশ্বর

ইরানকে ৬ স্থলপথ ব্যবহারের অনুমতি পাকিস্তানের, ক্ষুব্ধ হবে আমেরিকা?

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আগামী দুই বছর কঠিন হবে: অর্থমন্ত্রী

পেট্রলের লাইন আর নাই, লোডশেডিংও কমে গেছে: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী

বাংলাদেশ সীমান্তে বিষধর সাপ ও কুমির মোতায়েনের পরিকল্পনা ভারতের

একাত্তরে কসাই টিক্কা খানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন গোলাম আযমরা

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রম জাতিসংঘে তুলে ধরলেন সচিব

বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে থেকে দেশের উন্নয়নে কাজ করেছে: ডা. জাহিদ

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা: ৬ লাখ টিবি কিট, শিশুদের ১১ হাজার ওষুধ প্রদান

শরিয়াহ আইন নিয়ে জামায়াতের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান

একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ২ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

পদত্যাগ না করেই নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন তামিম ইকবাল

রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করতে হবে: সংসদে নাহিদ ইসলাম

দেশের স্বার্থে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে: সংসদে চিফ হুইপ

ইরানের ইউরেনিয়াম ইস্যুতে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন পুতিন: ট্রাম্প