
সম্ভাব্য রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ আরও সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী নিজের দেশে নিপীড়নের শঙ্কার কথা জানালে তাকে ভিসা দেওয়া হবে না।
সম্প্রতি এক কূটনৈতিক বার্তার মাধ্যমে নতুন নিয়মের বিষয়টি সব দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়মটি ‘নন-ইমিগ্র্যান্ট’ ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে আছে পর্যটক, শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মী ভিসা। বিভিন্ন দূতাবাসে পাঠানো কূটনৈতিক বার্তাটি পর্যালোচনা করেছে সিএনএন। একই বার্তা নিয়ে এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।
বার্তায় বলা হয়েছে, ভিসা আবেদনকারী ভ্রমণের উদ্দেশ্যর ক্ষেত্রে কোনো জালিয়াতির আশ্রয় নিচ্ছে কি না তা কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে কারও যাতে রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদনের উদ্দেশ্য না থাকে তা আগেই নিশ্চিত করতে হবে।
কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ‘নন-ইমিগ্র্যান্ট’ ভিসা আবেদনকারীদের দুটি প্রশ্ন করতে বলেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সেগুলো হলো, ‘আপনি কি আপনার নিজ দেশ বা সবশেষ বসবাসের স্থানে কোনো ক্ষতি বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন?’ এবং ‘নিজ দেশে ফিরে গেলে আপনি কি কোনো ক্ষতি বা নির্যাতনের আশঙ্কা করছেন?’ কূটনৈতিক বার্তায় আরও বলা হয়েছে, ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হলে আবেদনকারীকে এই দুই প্রশ্নের উত্তরে মুখে ‘না’ বলতে হবে।
অভিবাসন নীতি বিশ্লেষক ক্যামিল ম্যাকলার সিএনএনকে বলেন, এই নতুন নির্দেশনা মানুষকে খুব কঠিন ও বিপজ্জনক অবস্থায় ফেলবে। এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যা শেষ পর্যন্ত তাদের এবং পরিবারের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ৭৫টি দেশের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করে। শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাইও কঠোর করা হয়েছে। নতুন নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী তথ্য মিলিয়ে দেখার জন্য স্থগিত করা হয়েছে কিছু আবেদনের সিদ্ধান্ত।
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে হলে একজন ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে দেশটিতে উপস্থিত থাকতে হয়। সেই ব্যক্তি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করতে পারেন যিনি নিজের দেশে রাজনৈতিক, বর্ণ বা ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। - সূত্র : সিএনএন
আমার বার্তা/এমই

