শিরোনাম :

  • প্রধানমন্ত্রী রাতে দেশে ফিরবেন পদ্মা সেতুর আড়াই কিলোমিটার দৃশ্যমান হচ্ছে আজ যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ালমার্টের বাইরে গোলাগুলিতে নিহত ৩ আজ বিমানে পেঁয়াজ আসছে ইডেনে যে বিষয়টাতে বেশি ভয় পাচ্ছেন মিরাজ
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে ভাসছে পাহাড়ি মরা মাছ
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :
০৫ নভেম্বর, ২০১৯ ১৬:৫৮:৩৫
প্রিন্টঅ-অ+


মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের পানিতে পাহাড়ি বামাস মাছসহ বিভিন্ন জাতের মাছ ও অন্যান্য জলজপ্রাণী মরে ভেসে উঠেছে। এতে জলপ্রপাত এলাকার বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। জলপ্রপাতের পানিতেও দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত এসব মাছ মারা যাওয়ার কারণ এখনো জানা যায়নি। পানি পরীক্ষা করে কোনো ধরনের রাসায়নিকজাতীয় বিষ পাওয়া যায়নি। ফলে কি কারণে মাছ মারা যাচ্ছে তা অনেকটা রহস্যজনক।

স্থানীয়দের দাবি, বিষ প্রয়োগের ফলে এমনটা হয়েছে। তবে মৎস্য বিভাগের লোকজন মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের পানি পরীক্ষা করে এমন কিছুই পাননি। তারা বলছেন, পানির প্যারামিটার মোটামুটি স্বাভাবিক।

পানির প্যারামিটার স্বাভাবিক থাকলেও মাছ মারা যাওয়ার কারণ হিসেবে পাহাড়ি বিষলতাকে দায়ী করছেন তারা। তাদের ধারণা মাছ মারার জন্য কেউ পানিতে পাহাড়ি বিষলতা দিয়েছে। ফলে মাছসহ অন্যান্য জলজপ্রাণী মারা যাচ্ছে।

মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে মাধবকুণ্ডের ছড়ার পানিতে মাছসহ বিভিন্ন ধরনের জলজপ্রাণী ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। মৃত মাছের কারণে মাধবকুণ্ড পর্যটন এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জলপ্রপাতের পানিতেও দুর্গন্ধ রয়েছে। মৃত জলজপ্রাণীর মধ্যে ছিল পাহাড়ি বামাস মাছ, কাঁকড়া, পুঁটি, ব্যাঙ, পাহাড়ি চিংড়ি, শুকনো জায়গায় বিচরণে সক্ষম পাহাড়ি মাছ পিপলা, ছোট বাইন, সরপুঁটিসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ কীটপতঙ্গ।

দুর্গন্ধময় পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় লোকজন ও মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের কর্মীরা মরা মাছ পানি থেকে তুলে সরিয়ে নেন। সোমবার বেশ কিছু মরা কাঁকড়া, বাইন, ব্যাঙ, পুঁটি, বিভিন্ন ধরনের জলজপ্রাণী পানিতে ভেসে থাকতে দেখা যায়। তবে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, পানিতে ভেসে ওঠা মরা মাছের সংখ্যা আগের চেয়ে কমে এসেছে।

স্থানীয়দের ধারণা, পাহাড়ি ছড়ায় অনেক ধরনের মাছ থাকে। মাছ ধরার জন্য মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের ওপরের অংশে উজানে কেউ বিষ প্রয়োগ করতে পারে। ওপর থেকে গড়িয়ে পড়া জলপ্রপাতের পানিতে দুর্গন্ধ রয়েছে। এসব পানি ছড়া দিয়ে হাকালুকি হাওরে পড়ে। পানি বিষাক্ত হলে হাওরেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। সেজন্য হাওরের মাছ মারা যেতে পারে।

বন বিভাগের সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন রায় বলেন, মাছ মরার কারণ জানতে অনুসন্ধান চলছে। খবর শুনে আমরা সেখানে যাই। কিন্তু কি জন্য মারা যাচ্ছে তার কারণ এখনো জানা যায়নি।

বড়লেখা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কুলাউড়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বলেন, মাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি জেনেছি। এরপরই লোক পাঠিয়েছি। মাছ মরার কারণ বলা যাচ্ছে না। তবে পানি পরীক্ষা করে দেখা গেছে পানির মান স্বাভাবিক আছে। পানিতে কোনো সমস্যা নেই। পানিতে রাসায়নিক জাতীয় বিষ পাওয়া যায়নি। ধারণা করছি একজাতীয় বিষলতা আছে। বিষলতা পিসে কেউ রস প্রয়োগ করে থাকতে পারে, যেটাতে মাছ মারা যেতে পারে। মঙ্গলবার সকালে পানিতে ওষুধ দেয়া হয়েছে। পানিতে বিষাক্ত কিছু থাকলে তা ধ্বংস হয়ে যাবে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রধান ড. কাজী আহসান হাবীব বলেন, যেহেতু পানিতে কিছু পাওয়া যায়নি তাই বিষলতা বা প্রাকৃতিক কোনো বিষ থাকতে পারে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য মারা যাওয়া জলজপ্রাণীকে ল্যাবরেটরিতে নিয়ে পরীক্ষা করতে হবে।





আমার বার্তা/০৫ নভেম্বর ২০১৯/রহিমা


আরো পড়ুন