শিরোনাম :

  • প্রয়াত এমপি ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পীর মায়ের খোলাচিঠি সারওয়ার আলীকে হত্যাচেষ্টা : মূল পরিকল্পনাকারী নাজমুল আটক শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা নেমেছে ৬ ডিগ্রিতে, আসছে বৃষ্টি প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন শুক্রবার
খাগড়াছড়ি ১৫ বছর ঘরবন্দি এক্স-রে মেশিন, গ্যারেজে অ্যাম্বুলেন্স
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :
১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৫:৪৪:২৭
প্রিন্টঅ-অ+


জাতীয় স্বাস্থ্য সূচকে যখন খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল শীর্ষ ১০ আর বিভাগীয় পর্যায়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে তখন মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের পাশাপাশি ‘এক্স-রে মেশিন বিকল ও অ্যাম্বুলেন্স সংকট’ গোদের ওপর বিষফোঁড়া হিসেবে ভর করেছে। এ অবস্থায় প্রতিনিয়ত চিকিৎসাসেবা প্রার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

তৃণমূল মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০৪ সালের শেষ দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন এক্স-রে মেশিন বসানো হলেও গত ১৫ বছরেও তা আলোর মুখ দেখেনি। বছরের পর বছর ধরে তালাবদ্ধ কক্ষেই বিকল অবস্থায় পড়ে রয়েছে মেশিনটি।

‘লো ভোল্টেজ আর দক্ষ জনবল’ নেই এমন অজুহাতে ১৫ বছরেও চালু হয়নি পার্বত্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিন। আদৌ চালু হবে কিনা তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা।

উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন এক্স-রে মেশিন স্থাপনের খবরে মাটিরাঙ্গার সেবাপ্রার্থী মানুষ খুশি হলেও তা ফিকে হতে বেশি দিন লাগেনি। ১৫ বছরেও এক্স-রে মেশিনটি চালু না হওয়ায় সেবাবঞ্চিত পাহাড়ি জনপদের দেড় লক্ষাধিক মানুষ। কাঙ্ক্ষিত এক্স-রে মেশিনটি আলোর মুখ না দেখায় এক্স-রে করানোর জন্য চিকিৎসাসেবা প্রার্থীদের ছুটতে হয় বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

এদিকে, গত দুই বছর ধরে গ্যারেজে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স। গ্যারেজবন্দি অ্যাম্বুলেন্সে ধুলার আস্তরণ পড়েছে। দুই বছরের মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে অ্যাম্বুলেন্সের অধিকাংশ যন্ত্রাংশ।

জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স বণ্টনে অসমতা রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. খায়রুল আলম বলেন, রামগড়ে দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও আমাদের একটিও নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়নি।

এদিকে, হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি বিকল হওয়ায় রোগী পরিবহনে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের।

জানতে চাইলে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. খায়রুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক স্বল্পতাসহ নানামুখী সংকটে ভুগছে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চিকিৎসক স্বল্পতায় চিকিৎসা দিতে আমাদেরকে হিমশিম খেতে হয়। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এক্স-রে মেশিন থাকলেও সেবা পাচ্ছে না রোগীরা। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট। হাসপাতালের সংকটের বিষয়টি সিভিল সার্জনকে জানানো হয়েছে।

খুব শিগগিরই চিকিৎসক সংকট কেটে যাবে জানিয়ে খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন মো. ইদ্রিস মিঞা বলেন, ১৫ বছর ধরে তালাবদ্ধ থাকা এক্স-রে মেশিনটি আর ঠিক করা যাবে না।



আমার বার্তা/১০ ডিসেম্বর ২০১৯/রহিমা


আরো পড়ুন