শিরোনাম :

  • আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আজ ঢাকার তাপমাত্রা বাড়তে পারে অন্ধ্রপ্রদেশে কোভিড সেন্টারে অগ্নিকান্ডে নিহত ৭ ব্রাজিলে করোনায় মৃতের সংখ্যা লাখ ছাড়াল
বীর বিক্রম আবদুল খালেক মারা গেছেন
রাজশাহী প্রতিনিধি :
৩০ জুলাই, ২০২০ ১৪:০৩:১২
প্রিন্টঅ-অ+


দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় ৫০ বছর পর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা বীর বিক্রম আবদুল খালেক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

বীর বিক্রম আবদুল খালেকের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চাপাল গ্রামে। করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে গত সোমবার (২৭ জুলাই) তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা শনাক্ত হয়নি।

দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় ৫০ বছর পর খেতাব পাওয়ায় খুশি হতে পারেননি রণাঙ্গনের এই লড়াকু সৈনিক। গত ৬ জুন নতুন প্রকাশিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটে তার নাম ওঠে। গেজেট বিভ্রাটের কারেণ তার বীর বিক্রম স্বীকৃতি পেতেও বিলম্ব হয়েছে।

বীর বিক্রম আবদুল খালেকের বড় ছেলে মাসুম আক্তার জামান জানান, হাসপাতালে ভর্তি করার তিন-চার দিন থেকে তার বাবার জ্বর ও কাশির সমস্যা দেখা দেয়। গত রোববার (২৬ জুলাই) রাতে তিনি মাথার যন্ত্রণায় খুব কাতরাচ্ছিলেন। তাই সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় তার বাবার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

গেজেট বিভ্রাটের কারণে এতদিন বীর বিক্রম আব্দুল খালেক স্বীকৃতি পাননি। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত গেজেটে এক ধরনের ভুল ছিল, ২০০৪ সালের গেজেটে আরেক ধরনের ভুল। প্রথমবার লেখা হলো ‘এক্স নেভি’। পরেরবার সেনাবাহিনী। তার অফিয়াল নম্বরের শেষে ১৯ এর জায়গায় ভুলবশত লেখা হয়েছিল ৯১, যা ছিল পাঞ্জাবি সৈন্যের।

২০১১ সালে জনতা ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঠিকানাবিহীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে তার বাবার নাম, নৌ বাহিনীর পদবী ও সার্ভিস নম্বর দেয়া ছিল। তার ভিত্তিতে তারা গেজেট সংশোধন করার জন্য আবেদন করেন। সে আবেদন মন্ত্রণালয় থেকে হারিয়ে যায়। এভাবে অনেক ভোগান্তির পর গত বছর নতুন করে আবার আবেদন করেন। এরপর বীর বিক্রম স্বীকৃতি মেলে।

এতদিন পর এই স্বীকৃতিতে খুশি হতে পারেননি আবদুল খালেক। খেতাব পাওয়ার পর গত ২৫ জুন তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর একাত্তরের দোসররা আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। তিনি গ্রামছাড়া হন। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি ফেরারি ছিলেন। এতো দিন কেন তার স্বীকৃতি বুঝিয়ে দেয়া হয়নি? কোথায়, কীভাবে ছিলেন কেউ কেন তার খোঁজ নেয়নি?

মুক্তিযুদ্ধকালে গোদাগাড়ীর খেতুর গ্রামে সিরাজুল চেয়ারম্যানের বাড়িতে ছিল পাকিস্তানি হায়েনাদের ঘাঁটি। একাত্তরের ৩ সেপ্টেম্বর সেখানে গ্রেনেড হামলা করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন বীর সৈনিক আবদুল খালেক। কিন্তু গ্রেনেড ছোড়ার আগেই আহত হন তিনি। শত্রুবাহিনীর একটা গুলি বুক ভেদ করে চলে যায় তার। জীবনের মায়া ত্যাগ করে সাত নম্বর সেক্টরের আরও বেশ কিছু সম্মুখ সমরে অংশ নেন তিনি।







আমার বার্তা/৩০ জুলাই ২০২০/জহির   





 


আরো পড়ুন