শিরোনাম :

  • সন্ধ্যার মধ্যেই আঘাত হানবে ‘গুলাব’, সতর্কতা জারিকরোনা পরীক্ষায় শাহজালালে বসল পিসিআর ল্যাবট্রেনের ছাদে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫চার অপহরণকারীকে হত্যা করে প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখল তালেবান
নির্বাচন নিয়ে রামপালে আ.লীগ প্রার্থী জেড মুন্সির ত্রাস
নিজস্ব প্রতিবেদক, রামপাল
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৫:৪৫:১২
প্রিন্টঅ-অ+

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ২ নম্বর উজলকুড় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগামী ২০ সেপ্টেম্বর। এ নির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা ইউনিয়ন। অভিযোগ আসছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী বোরহান উদ্দিন মুন্সি ওরফে জেড মুন্সি নব্য আওয়ামী লীগ।


 স্থানীয় জনতা বা দলীয় নেতা-কর্মী, কারো কাছেই তার গ্রহণযোগ্যতা নেই । তবুও বিস্ময়করভাবে তিনি নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে হতবাক খোদ দলীয় লোকজনই। আর সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেড মুন্সি জনপ্রতিনিধি হওয়ার মত কোন জনসেবা মূলক কাজ করেননি কখনো। উল্টো, মানুষকে হয়রানি, খারাপ আচরণসহ অনেক বিতর্কিত কর্মকান্ড করে সমালোচিত হয়েছেন তিনি।


স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন ত্যাগী নেতা কাজী আসাফুজ্জামান (বাবুল)। দলীয় নেতা-কর্মীরা তাকে পছন্দ করে। এলাকার মানুষও তার কর্মকান্ডে সন্তুষ্ট। সবাই প্রত্যাশা করেছিল এলাকার উন্নয়নে বাবুলই পাবেন নৌকার মনোনয়ন। কিন্তু কতিপয় দালাল চক্রের কূটচালে বিতর্কিত জেড মুন্সি পেলেন নৌকার টিকিট।


নৌকার প্রার্থী জেড মুন্সি সম্পর্কে এলাকার মানুষ জানান, তার বাবা সোহরাব মুন্সি আওয়ামী লীগ নেতা আবু হানিফ হত্যা মামলার যাবজ্জীবন দন্ড প্রাপ্ত আসামী ছিলেন। তার আপন চাচাতো ভাই পলাশ মুন্সি আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর মামলায় গ্রেফতার হন। ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের সময় জেড মুন্সি নিজে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার তালুকদারের নৌকা প্রতীকের প্রচারণায় বাধা দেয়, সহিংসতা চালায়। বর্তমানে তার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে এলাকার চিহ্নিত বিএনপি-জামায়াতের কর্মী, হরকাতুল জিহাদের মুফতি হান্নান যে বাড়িতে পালিয়েছিল, সেই বাড়ির উজ্জত আলী।


স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নৌকার প্রতীক পাওয়া জেড মুন্সিকে কেউই পছন্দ করেন না। তার প্রচারণায় দলীয় তেমন কেউ অংশ নেয় না। তিনি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এর চেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী আসাফুজ্জামান (বাবুল) এর জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। দলীয় নেতা-কর্মীরা প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতা বাবুলের পক্ষে কাজ করায় জেড মুন্সি ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর রোষানলের শিকার হচ্ছে। প্রতিনিয়ত তাদের হুমকি ধমকি দিচ্ছে। এছাড়া তারা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে, নির্বাচনে তাদের ভোট দরকার নেই। মাঠ দখলে নিয়ে নিজেদেরে ইচ্ছে মত ভোট করে জয় ছিনিয়ে নেবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তো এ ধরনের কর্মকান্ডকে সমর্থন করেন না। আমরা দলীয় নেতা-কর্মীরাও চাই সুষ্ঠু ভোট হোক। জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে তাকেই মেনে নেব জনপ্রতিনিধি হিসেবে।


এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নির্বাচনী জনসভায় জেড মুন্সি প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন আসাফুজ্জামান বাবুলকে। তার উদ্দেশে বলেন, আপনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিন। না হলে সুস্থ্য ভাবে ঘরে ফিরতে পারবেন না।


এদিকে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে জেড মুন্সির বাহিনী। তারা বৈধভাবে ভোট হতে দিতে চায় না।  ইউনিয়নের ৯টি কেন্দ্রের সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন এলাকাবাসী। জনতা সুষ্ঠু ভোট চায়। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে ঠিকমত ভোট হওয়া নিয়ে। তারা বিজিবিসহ পর্যাপ্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী আসাফুজ্জামান বাবুলসহ পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন চেয়ে নির্বাচন কমিশনে দরখাস্ত দিয়েছেন।


আমার বার্তা/ এইচ এইচ এন


 

আরো পড়ুন