
ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের মাকড়াই বাজার এলাকায় মুদির দোকানদার আবু ছাইদ মুন্সির ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘটিত এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, হামলার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো মূল আসামিরা ধরা পড়েনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নয়নচালা গ্রামের বাসিন্দা আবু ছাইদ মুন্সি দীর্ঘদিন ধরে মাকড়াই বাজারে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করে আসছেন। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে একদল দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। অভিযোগ রয়েছে, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে এবং দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।
হামলাকারীরা তাকে মাটিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে সেখান থেকে সরে পড়ে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হলে তার প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।
আহত আবু ছাইদ বলেন, “আমার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই।”
আহতের স্ত্রী চম্পা বেগম ১৬ ফেব্রুয়ারি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে।
আহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “আমার ছেলেকে এভাবে মারধর করেছে, আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।” সন্তানরাও বাবার ওপর হামলার ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি খোরশেদ আলম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
এ বিষয়ে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। পরিবারের প্রত্যাশা—দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করে তাদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

