শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি ৯৮ শতাংশই শিশু!
০৬ জানুয়ারি, ২০২২ ১০:৫৯:৪৯
প্রিন্টঅ-অ+

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা। শয্যা সংকটে ওয়ার্ডের মেঝেতে বিছানা করে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে মোট ৫২ জন রোগীর মধ্যে শিশুর সংখ্যা ৫০ জন। এতে করে মোট রোগীর প্রায় ৯৮ শতাংশই শিশু।


বুধবার (৫ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স আসমা খাতুন।


তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগীর মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। ১২ বেডের এই ডায়রিয়া ওয়ার্ডে সোমবার ২২ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ১৬ শিশুসহ নতুন করে ২০ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে বুধবার (৫ জানুয়ারি) রাত ৮টা পর্যন্ত মোট ভর্তি হয়েছেন ৩২ জন রোগী। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা ৩১ জন। বর্তমানে ওয়ার্ডে ৫০ শিশুসহ রোগী সংখ্যা ৫২ জন।


তিনি আরও জানান, শীতের তীব্রতা বাড়ায় বাড়ছে রোগীর সংখ্যাও। চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।


নতুন ভর্তি এক শিশুর মা মোছা. আল্পনা বেগম জানান, গত ৪ দিন ধরে আমার সন্তান অসুস্থ। বাড়িতে চিকিৎসা করে সুস্থ না হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। হাসপাতালে ভীড় দেখে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। তবে সেবার মান নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি।


রোগী বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) পুলক কুমার জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এদের মধ্যে শিশু আক্রান্তের হার বেশি।


হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক ও শিশু বিশেষজ্ঞ আল আমিন মাসুদ জানান, শীত এলেই শিশুরা ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়। এখন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। এ অবস্থায় শিশুদের বাইরের খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের যেন ঠান্ডা না লাগে সেজন্য গরম পোশাক পরিয়ে রাখতে হবে।


গ্রামের মানুষদের মধ্যে খাওয়ার স্যালাইন নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, সচেতনতার অভাবে গ্রামে অনেকেই শিশুদের ঘন স্যালাইন খাওয়ান। এটা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। স্যালাইন গোলানোর ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতিতে আধা লিটার পানিতে পুরো স্যালাইন গুলিয়ে সঠিক নিয়মে শিশুদের খাওয়াতে হবে।


এদিকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জেলায় শীতের তীব্রতা বেড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এতে করে ছিন্নমূল মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যাওয়াসহ শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আরো পড়ুন