
পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো ইতেকাফ। মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ এবং হাজার মাসের চেয়েও সেরা রাত ‘লাইলাতুল কদর’ পাওয়ার আশায় মুমিন মুসলমানরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মসজিদে অবস্থান করেন। তবে বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে একটি প্রশ্ন অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়—ইতেকাফরত অবস্থায় কি মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে? আর এটি কি ইবাদতের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে?
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ইতেকাফরত অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার করা সরাসরি নিষিদ্ধ নয় এবং এটি ব্যবহার করলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে না। তবে ইতেকাফ এমন একটি ইবাদত যার মূল লক্ষ্যই হলো দুনিয়াবি সব কোলাহল ও ব্যস্ততা থেকে নিজেকে মুক্ত করে একমাত্র আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন হওয়া। তাই ফকিহ ও আলেমরা পরামর্শ দেন, ইবাদতের একাগ্রতা ধরে রাখতে ইতেকাফ অবস্থায় মোবাইল ফোন সঙ্গে না রাখা বা প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার না করাই শ্রেয়।
ইতেকাফ মানেই হলো নিজেকে মহান স্রষ্টার সমীপে সঁপে দেওয়া। প্রখ্যাত ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ.)-এর মতে, ইতেকাফের উদ্দেশ্য হলো অন্তরকে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর প্রতি নিবিষ্ট করা এবং সৃষ্টির সংস্পর্শ ত্যাগ করে স্রষ্টার সঙ্গে নির্জনে সময় কাটানো। আজকের দিনে অনেক ইতেকাফকারীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, মসজিদে অবস্থান করেও তারা মোবাইলে অপ্রয়োজনীয় সময় ব্যয়, দীর্ঘক্ষণ গল্পগুজব বা অনর্থক কথাবার্তায় লিপ্ত থাকেন। এটি ইতেকাফের মূল চেতনার পরিপন্থী।
ইতেকাফরত অবস্থায় মোবাইলে গুনাহের কাজ তো দূরের কথা, বৈধ দুনিয়াবি কাজ থেকেও যতটা সম্ভব বিরত থাকা উচিত। মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা এবং ইবাদতের নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখতে সোশ্যাল মিডিয়া বা বিনোদনমূলক অ্যাপের ব্যবহার একজন ইতেকাফকারীর জন্য আত্মিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইতেকাফ আমাদের কবরের নির্জনতায় আল্লাহর সংস্পর্শ লাভের আনন্দের জন্য প্রস্তুত করে, যেখানে মোবাইল বা অন্য কোনো পার্থিব সঙ্গী থাকবে না।
রমজানের শেষ দশকে যারা সুন্নত ইতেকাফে বসছেন, তাদের মনে রাখা উচিত ইতেকাফ যেন শুধু মসজিদে ঘুমানো বা সময় কাটানোর জায়গা না হয়। মসজিদে বসে মোবাইলের মাধ্যমে গিবত, অপবাদ বা কোনো গর্হিত কাজে লিপ্ত হওয়া একজন রোজাদারের জন্য চরম দুর্ভাগ্যের বিষয়। আলেমদের মতে, জরুরি প্রয়োজনে (যেমন পরিবারের সাথে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ) সামান্য সময়ের জন্য মোবাইল ব্যবহার জায়েজ হলেও, এটিকে অভ্যাসে পরিণত করা ইবাদতের স্বাদ কমিয়ে দেয়।
সুতরাং, ইতেকাফের দিন-রাতগুলো তসবিহ পাঠ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির এবং নফল নামাজের মাধ্যমে অতিবাহিত করাই মুমিনদের কাজ। মোবাইল ফোন বা স্মার্টফোনের মতো ডিজিটাল মাধ্যমগুলো যেন এই আত্মশুদ্ধির পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।
আমার বার্তা/জেএইচ

