শিরোনাম :

  • রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
নোটিশ লাগিয়ে সপ্তাহে ৩ দিন অফিস করেন ৪৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাইদুল ইসলাম মোল্লা
মিজানুর রহমান, উত্তরা
১৯ আগস্ট, ২০২২ ১৭:০৩:১৩
প্রিন্টঅ-অ+

দুই সিটি উন্নয়ন ও জনসাধারণের জীবনমানে আরও গতি আনতে কাজ করে যাচ্ছেন মেয়ররা। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম দিন রাত কাজ যাচ্ছেন সিটিকে আরও আধুনিক করে তুলতে। কিন্তু কিছু সংখ্যক কাউন্সিলরদের জন্য ভাবমূর্তি ক্ষূণ্ণ হচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের। তারই যেন এক প্রমাণ দিলেন ৪৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম মোল্লা। নিদিষ্ট সময় কখনো তাকে অফিসে গিয়ে পায়নি ৪৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। কাউন্সিলর জাহিদুলের বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। 


জাহিদুল ইসলাম মোল্লার বেশিরভাগ সময় কাটে গাজীপুরে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুরে তদবির বাণিজ্য, ঝুট ব্যবসাসহ নানা অর্পকর্মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গাজীপুরের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের নাম ভাঙিয়ে এসব অর্পকর্ম করে বেড়ান তিনি। 


স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মত নাগরিক সেবা কখনো তারা ভোগ করতে পারেনি। নাগরিকত্ব সনদ, জন্ম নিবন্ধন, হোল্ডিং ট্যাস্কসহ নাগরিক নিত্য প্রয়োজনী কাজেও ঘুরতে হচ্ছে মাসের পর মাস। কারণ, তিনি সপ্তাহে অফিস করেন মাত্র দু'দিন। যদিও তার কার্যালয়ের বাহিরে সাটানো নোটিশে দেখা যায়, তিনি অফিস করবেন মাত্র তিন দিন। এলাকাবাসীর দাবি, মূলত ঝুট ব্যবসা ও গাজীপুরে তদবির বাণিজ্যের কারণে নিজ ওয়ার্ডে সময় দিতে পারেন না তিনি। ভাঙা সড়ক, পয়নিস্কাশন, রাস্তা থেকে পানি নিষ্কাশন, সড়ক বাতিসহ নাগরিক সেবার ব্যাপারে বরাবরই তিনি উদাসীন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা বলছেন, গেল ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মত করে হঠাৎ কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে যান জাহিদুল মোল্লা। মূলত এলাকার সিনিয়র দুই নেতার ভোট কাটাকাটির সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে যান এই জাহিদুল। দলীয় সূত্র থেকে জানা যায়, জাহিদুল ইসলাম মোল্লা গেল কাউন্সিলর নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের কোন পদে ছিলেন না এবং এলাকায় কোন রাজনৈতিক ও সামাজিক কোন কর্মকান্ডে তাকে দেখা যায়নি। এবারের আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলে পার্শ্ববর্তী টঙ্গি থেকে ভাড়া করা লোক এনে ওয়ার্ডের নেতৃতে নিজের লোক আনতে শোডাউন করান। তাছাড়া তৃণমূলের কোন পর্যায়েই কর্মী বা নেতা তিনি ছিলেননা বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ।


এ বিষয়ে কথা বলতে ও তথ্য জানতে ৪৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম মোল্লার কার্যালয়ে বেশ কয়েকবার গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তার কার্যলয়ের সাটানো নোটিশে বলা হয়েছে তিনি সপ্তাহে তিন অফিস করবেন। গত ৯ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে ৪৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাইদুল ইসলাম মোল্লার কার্যালয়ে ঢোকার মুখে হাতের বামপাশের একটি তালাবদ্ধ রুমের দরজায় নোটিশটি দেখা যায়। যাতে লেখা রয়েছে যে, "এত দ্বারা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ৪৬ নং ওয়ার্ডের সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, প্রতি সপ্তাহে শনিবার সোমবার ও বৃহস্পতিবার এই তিনদিন সকাল ৯ টা থেকে কাউন্সিলর মহোদয় অফিস করবেন।


তার একটু উপরের দিকে অপর একটি রুমে দরজায় নক করলে একজন ব্যক্তি বেরিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন, কি চাচ্ছেন ? কাউন্সিলর সাহেব আছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি নোটিশ দেখেননি? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি বলেন, কাউন্সিলর সাহেব সপ্তাহে শনিবার সোমবার বৃহস্পতিবার অফিস করেন। কাউন্সিলরের সচিব অফিসে আছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিস বন্ধ, কেউ নেই। আমি শুধু দেখাশুনা করি। সাধারণ বাসিন্দারা জরুরী সেবা নিতে আসে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসে কিন্তু কাউন্সিলর সাহেব তো থাকেনা তাই চলে যায়, এতে মানুষের সেবা পেতে ভোগান্তি হয়। কিন্তু আমি আর কি করব তাই মানুষকে বুঝিয়ে বিদায় করে দেই।


এসময় সেবা নিতে আসা ইব্রাহিম নামের এক ব্যক্তি এই দৈনিক আমার বার্তাকে বলেন, আমি আমার আত্নীয়ের সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে কয়েকবার এসে ফেরত গিয়েছি। কাউন্সিলর সাহেবকে পাইনি। উনি একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে উনি কি পারেন এভাবে নোটিশ লাগিয়ে অফিস আর সেবা বন্ধ রাখতে? আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে এই ব্যাপারে জানতে চাই।


অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য তার দেয়া নোটিশ মোতাবেক কার্যালয়ে দেখা করতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মন্তব্য জানতে কাউন্সিলর জাইদুল ইসলাম মোল্লার সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমিতো প্রতিদিন অফিস করি। আপনি আসেন অফিসে সাক্ষাতে কথা বলি। নোটিশসহ অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি রেগে যান। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমি কি করবো না করবো আপনাকে জিজ্ঞেস করে করিবো নাকি? আপনি কোন পত্রিকার সাংবাদিক? নাম কি? মোখলেসকে চিনেন নাকি? বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। 


এবিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-৮ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) সাজিয়া আফরীন


দৈনিক আমার বার্তাকে বলেন, এমন কোন নির্দেশনার কথা আমার জানা নেই। সাধারণত কাউন্সিলরা নিজেদের মত করে অফিস করেন। ছুটির বাদেও তারা কিন্তু কাজ করে থাকেন। তবে বিষয়টি জানতে তিনি কাউন্সিলরের সঙ্গে কথা বলতে অনুরোধ করেন। শুধুমাত্র তার মন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে কোন সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন তিনি।


মন্তব্য জানতে চাইলে একই বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) মো: জুলকার নায়ন বলেন, এ ধরনের কোন নির্দেশনা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে কাউকে দেওয়া হয়েছে বলে জানা নেই। আমার অধীনে থাকা কাউন্সিলররা তো রবি থেকে বৃহস্পতিবার অফিসিয়াল সময়ে কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে সেবা প্রদান করেন। এর বাহিরে তারা ছুটির দিনেও মেয়র মহোদয়ের সঙ্গে মশা নিধন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমসহ নানাবিধ সময় দিচ্ছেন। কিন্তু নোটিশ করে কোন কাউন্সিলর যদি সেবা প্রদানের নিদিষ্ট সময়,দিন,ক্ষণ বেঁধে দেন তবে সেটি ঠিক নয়। একই বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

আরো পড়ুন