শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
বর্ষীয়ান আলেমে দ্বীন আল্লামা মুফতি মুজাফফর আহমদ (রহ.)
মুহাম্মদ হেদায়ত উল্লাহ মহেশখালী
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২০:৪৭:১১
প্রিন্টঅ-অ+

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বর্ষীয়ান আলেমে দ্বীন জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগের প্রধান আল্লামা মুফতি মুজাফফর আহমদ (রহ.) ঢাকার ধানমন্ডি ল্যাব এইড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকাবস্থায় গত ২ মে ২০১৭ সনে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ৭৭ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ৩রা মে পটিয়া মাদ্রাসা মাঠে আল্লামা সোলতান জওক নদভি সাহেবের ইমামতিতে জানাজা শেষ করে দমাকবরায়ে আজিজিয়া-এ তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি নয় ছেলে ও এক স্ত্রী রেখে যান।


বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আল্লামা মুফতি মুজাফ্ফর আহমদ (রহ.) ১৯৪০ সনে কক্সবাজার জেলার দীপাঞ্চল মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের  মিয়াজির পাড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম  পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হাজী মুহাম্মদ জহির উদ্দিন ও মাতা কমলজান।


পারিবারিক দ্বীনি পরিবেশে তিনি ছোটবেলায় গৃহশিক্ষকের নিকট প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন। জামাতে নাহবেমীর পর্যন্ত তিনি মহেশখালী থানার অন্তর্গত জামিয়া আরবিয়া গোরকঘাটা মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন। 


অতঃপর জামাতে হেদায়াতুন্নাহু এবং কাফিয়া মহেশখালীর আরেকটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান আশরাফুল উলুম ঝাপুয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন। শরহেজামী জামাত থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) পর্যন্ত জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ায় সমাপ্ত করে, মুফতি ইবরাহিম সাহেব (রহ.) ও ইসহাক গাজি (রহ.)-এর তত্ত¡াবধানে অভিন্ন মাদ্রাসায় ইফতা শেষ করেন। বরেণ্য এ শিক্ষাবিদ ১৯৭০ সালে যে বছর জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা আজিজুল হক (রহ.) ইন্তেকাল করেন সেই বছর দাওরা হাদিস কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন।


ঈর্ষণীয় মেধা ও স্মরণশক্তির অধিকারী আল্লামা মুফতি মুজাফ্ফর আহমদ (রহ.) প্রতিটি ক্লাসে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর প্রতি আকাবিরদের স্নেহ, মায়া, ভালোবাসা ও সুনজর ছিল। জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হযরত আল্লামা মুফতি আজিজুল হক (রহ.) এর নিকট তাঁর অনেক কিতাব পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে।


স্বভাবগত প্রচারবিমুখ এই বিদগ্ধ আলেমে দ্বীন কর্মজীবন শুরু করেন সৈয়দপুরের একটি মাদ্রাসায় অধ্যাপনার মাধ্যমে। অতঃপর বগুড়া জামিল মাদ্রাসায় দু’বছর অধ্যাপনা করেন। জামিল মাদ্রাসা থেকে এসে তিনি যথাক্রমে- মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি আজিজিয়া মাদ্রাসায় দু’বছর এবং মহেশখালীর ঝাপুয়া মাদ্রাসায় আট বছর অধ্যাপনা করেন। ১৯৭৫ সাল হতে তিনি মুরব্বিদের নির্দেশে সাড়া দিয়ে জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ায় শিক্ষকতা শুরু করেন। তখন থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি জামিয়ার একজন খ্যাতিমান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ সতেরো বছর তিনি জামিয়ার সহকারী শিক্ষা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। 


কয়েক বছর তিনি নাজেমে দারুল ইক্বামা (হলসুপার)-এর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। এছাড়াও কয়েক বছর খÐকালীন ভারপ্রাপ্ত পরিচালকও ছিলেন। তিনি জামিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও ফতোয়া বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন প্রায় তিন যুগ ধরে। তিনি মৃত্যুর আগে প্রায় ১৫ বছর মাদ্রাসা থেকে একটাকাও বেতন নেননি।


তিনি দুই একটি ব্যতীত দরসে নেজামীর প্রায় প্রতিটি কিতাবই দরস দিয়েছিলেন। আল্লামা মুফতি মুজাফ্ফর আহমদ (রহ.) ছাত্রজীবন থেকে আধ্যাত্মিক জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র কুতুবে জামান হযরত মুফতি আজিজুল হক সাহেব (রহ.)-এর স্নেহ, মায়া ও রূহানি ছত্র-ছায়ায় বেড়ে ওঠেন। মুফতি সাহেবের মৃত্যুর পর শায়খুল আরব ওয়াল আজম শাহ ইউনুস (রহ.)-এর কাছে নিজেকে অর্পণ করেন। তাঁদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি জীবন কাটিয়েছেন।


শিক্ষকতার পাশাপাশি রাজনীতিবিদ হিসেবেও তিনি বেশ  ফলপ্রদ ছিলেন। তারই অংশ হিসেবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশের বৃহৎ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীরের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।


মহেশখালীর যে কজন প্রতিভা ও সর্বজনীন ব্যক্তি ছিলেন তাঁদের মধ্যে আল্লামা মুফতি মুজাফফর আহমদ (রহ.) ছিলেন অন্যতম। প্রাতিষ্ঠানিক ও জাতীয় কর্মতৎপরতা ছাড়াও তিনি মহেশখালী উপজেলার ওলামায়ে কেরামের অভিভাবক ছিলেন। আল্লাহ হজরতকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চমাকাম দান করুন। আমিন।


লেখক : শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্বিবিদ্যালয়


আমার বার্তা/ সি এইচ কে

আরো পড়ুন