ই-পেপার শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩৩

ভোটের দিন থেকে ভবিষ্যতের পথে: গণতন্ত্র ও কৃষিনির্ভর টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার

ড. মো. আনোয়ার হোসেন:
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:২১

১২ ফেব্রুয়ারি কেবল একটি নির্বাচনি তারিখ নয়; এটি রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনা পুনর্বিবেচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। নাগরিকেরা এই দিনে শুধু প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন না, বরং উন্নয়ন, শাসনব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পর্কে তাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবেন। নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি শক্তিশালী করে।

গণতন্ত্রের মৌলিক শক্তি হলো আস্থা। সেই আস্থা গড়ে ওঠে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, নিরপেক্ষ প্রশাসন, আইনের শাসন এবং সক্রিয় নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে। নির্বাচন কিংবা নীতিগত সিদ্ধান্ত-যে প্রক্রিয়াই হোক না কেন, তার গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবেশের ওপর। একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়া ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি করে; বিপরীতে, প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়া সামাজিক অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হলো ডিজিটাল রূপান্তর। অনলাইনভিত্তিক নাগরিকসেবা, ই-গভর্ন্যান্স, প্রযুক্তিনির্ভর জবাবদিহি ও স্বচ্ছ তথ্যপ্রবাহ রাষ্ট্রকে আরও দক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে পারে। তবে প্রযুক্তি যেন কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নে সীমাবদ্ধ না থাকে; এটি হতে হবে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যম। শহর-গ্রাম, নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণ - সকল শ্রেণির মানুষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত ডিজিটাল অগ্রযাত্রার লক্ষ্য।

রাজনৈতিক সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও পরিপক্বতা প্রয়োজন। প্রতিহিংসা ও বিভাজনের পরিবর্তে নীতিনির্ভর আলোচনা, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া সময়ের দাবি। রাষ্ট্র পরিচালনায় যে-ই দায়িত্ব গ্রহণ করুন না কেন, নাগরিকদের প্রত্যাশা একটাই - সুশাসন, স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা। ভিন্নমত ও সমালোচনাকে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে সম্মান করাই একটি পরিণত রাষ্ট্রের লক্ষণ।

অর্থনৈতিক বাস্তবতা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীল খাতের সম্প্রসারণ ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বিশেষত তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি অপরিহার্য।

এক্ষেত্রে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোয় কৃষি এখনো একটি মৌলিক ভিত্তি। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম হিসেবে গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

কৃষি গবেষণাকে আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির স্বাস্থ্য, পানি ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন ব্যয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর সমাধান উদ্ভাবিত হয়। স্থানভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন - অর্থাৎ অঞ্চলভেদে উপযোগী জাত, ফসল বিন্যাস ও ব্যবস্থাপনা কৌশল উন্নয়ন—উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয়করণ ও দ্রুত সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

এখানে “মডেল প্রযুক্তি গ্রাম” ধারণাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। নির্দিষ্ট এলাকাকে কেন্দ্র করে গবেষণা, প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হলে কৃষকরা বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আধুনিক চর্চা গ্রহণে উৎসাহিত হবেন। এ ধরনের উদ্যোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সম্প্রসারণ সংস্থা ও স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে।

ভ্যালু চেইনভিত্তিক কৃষি উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদন থেকে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে দক্ষতা ও প্রযুক্তির সংযোজন কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে। কৃষি বীমা সম্প্রসারণ, ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি, যান্ত্রিকীকরণ, ডিজিটাল কৃষিসেবা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য অপরিহার্য। গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রবর্তন উন্নয়নের ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে দ্রুত পৌঁছানো এবং কৃষকের অংশগ্রহণমূলক প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ নীতিনির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

১২ ফেব্রুয়ারি তাই কেবল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ নয়; এটি উন্নয়ন দর্শন পুনর্নির্ধারণের সুযোগ। মূল প্রশ্ন ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা, নীতির স্থিতিশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রযাত্রা। দল, মত বা পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যদি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া যায়, তবে এই দিনটি নতুন আস্থা ও সহযোগিতার সূচনা হতে পারে।

বাংলাদেশ বহু সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। সামনে এগোতে হলে প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ মানসিকতা, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ। বিভাজনের পরিবর্তে সহযোগিতা, প্রতিহিংসার পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ এবং সম্ভাবনামুখী উন্নয়ন—এই ধারণা নিয়েই আমাদের ভবিষ্যতের পথে যাত্রা করা উচিত। কারণ ভোটের দিন শেষ হয়ে যায় একদিনে; কিন্তু সেদিনের সিদ্ধান্ত একটি জাতির দীর্ঘমেয়াদি পথচলা নির্ধারণ করে।

লেখক :প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং প্রকল্প পরিচালক, এলএসটিডি প্রকল্প।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।

আমার বার্তা/ড. মো. আনোয়ার হোসেন/এমই

জলবায়ু ঝুঁকি: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা থেকে অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় রূপান্তর এখন অপরিহার্য

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই হচ্ছে, কিন্তু আমাদের নীতিনির্ধারণে এখনো একটি মৌলিক সীমাবদ্ধতা

মরক্কোর আমাজিঘ নারী: প্রাচীন হস্তশিল্পের মানব জাদুঘর ও ঐতিহ্যের ধারক

মরক্কোর গ্রাম, পাহাড়ি জনপদ, মরুভূমি অঞ্চল ও এর আশেপাশে আমাজিঘ সম্প্রদায়ের নারীরা বসবাস করেন। তারা

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: ইতিহাস ও ভূগোলের কঠিন বাস্তবতা

আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ করেছে। এই আক্রমণের ফলে কি ইরান পরাজিত হবে? স্পষ্ট

দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়বো, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়বো

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরা বাংলাদেশ একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। ভৌগোলিক অবস্থান, বিস্তীর্ণ
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার

ডিএমপির ১০ জন কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্বে পদায়ন

গাইবান্ধায় তদন্ত কেন্দ্রে জুয়া-অনৈতিক কর্মকাণ্ড, দুই পুলিশ সদস্য ক্লোজড

পহেলা বৈশাখে ২ কোটি ২০ লাখ কৃষক কৃষি কার্ড পাবে: ড. তিতুমীর

মধ্যপ্রাচ্যের ৩ দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে একযোগে হামলা ইরানের

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের সিদ্ধান্ত হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী

ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাইওয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান

ইরানের ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি

রাত থেকে গণপরিবহনে তেল নেওয়ার সীমা থাকছে না: সড়কমন্ত্রী

সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সরাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন অভিযান উদ্বোধন

ঈদযাত্রায় অনিয়ম পেলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

দেশের আরও ৫ সিটি করপোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হবে ৫০ ঘণ্টা

বন্ধ পাটকল চালু করে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

ভারত মহাসাগরে নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার প্রতিশোধ নেবে ইরান

অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে: ফখরুল

উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কাশিমপুর কারাগার থেকে কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংসদে স্বাভাবিক বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী