শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
মাসউদুল কাদির
কুরআন পাখির সম্মান
১৮ নভেম্বর, ২০২১ ২১:১৫:৪২
প্রিন্টঅ-অ+

 


কুরআন আল্লাহর কথা। পবিত্র ভাষা। হৃদয়ে আলোড়ন তোলার মতো জিকর। অন্ধকারে হারিয়ে থাকা মানুষকে আলোর পথে এনেছিল এই কুরআন। কুরআন শোনে শোনেও ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকেই। নবীজীর নবুওয়াত পাওয়ার আগে কবিতার ছল ছিলো মক্কায়। কিন্তু এমন শিহরিত পঙক্তির সঙ্গে কেউই পরিচিত ছিলো না। নবীজী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধুময় এমন বাণিই প্রচার করে আসছিলেন। বয়স যখন চল্লিশ বছর একদিন। তখনই অবতীর্ণ হলো ‘ইকরা’। আপনি পড়ুন। পাঠ করুন। আবৃত্তি করুন। এ পড়া কত কঠিন। পাঠ কত কষ্টকর। সহসাই পাঠ করতে পারেননি প্রিয় নবীজী। অলৌকিক এই প্রেমময়ী উষ্ণতায় নবীজীর মুখে যেনো নতুন করে কথা ফোটে। তিন বারের মাথায় তিনি আবৃত্তি করেন ‘ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাযি খালাক’। পড়ুন, যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। 


মক্কার দুষ্টুবুদ্ধির লোকেরা নবীজীকে মানতে পারেননি। কিন্তু কুরআনের ভাষা তাদের হৃদয় জয় করতে পেরেছিল। কুরআনই কুফরশক্তির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল। কুরআনের শব্দ, গবেষণা, ইতিহাস- মক্কার চিন্তাশীল মানুষদের অহংকার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। কুরআনের মোকাবেলায় দাঁড়াতে পারেনি কিছুই। কবিরা মূক ও বধির হয়ে গেল। কুরআনের চ্যালেঞ্জও গ্রহণ করতে পারেনি। নবীজী পবিত্র কুরআনের সুর-ব্যাঞ্জনায় বাঙ্গময় করে তুলতেন ঘর। কুরআনের আলোক রশ্মির ছটায় ঘরে থাকতে পারতেন না সেই কুফরবিশ^াসীরাও। কান লাগিয়ে নবীজীর তেলাওয়াত শুনতো। কী অনন্য তেলাওয়াত। কী মায়াময় শব্দমালা। কী অপরূপ আল্লাহর কালাম।   


জুঁই পোকার আলোর মতো পথ দেখাতেন নবীজী। কথায় কথায় জবাব দিতেন কুরআনের ভাষায়। সমাধান, পরামর্শ, শিক্ষা-সবই ছিলো কুরআনের পঙক্তিতে। 


নবীযুগ থেকে সাহাবা, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন, অলি আউলিয়া, গাউস কুতুবসহ যারাই কুরআনের সঙ্গে একাত্ম হয়েছেন- তারা সম্মানিত হয়েছেন। কুরআন সম্মানের। কুরআন ছুঁয়েছে যারা-তারাও সম্মানিত হয়েছেন। নিজের বোনের বাড়িতে কুরআন তেলাওয়াতের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়েই হযরত উমার বিন খাত্তাব রা. ইসলামে এলেন। শেষে কুরআনের শব্দই তাকে টানলো। কুরআনের সুরেই তিনি মজে গেলেন। কুরআনই তাকে কাবু করলো। করলো সম্মানিত। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হিসেবে সম্মানিত হতে পেরেছিলেন। তার শাসনামলেই আধা পৃথিবী আসে মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে। কুরআন এভাবেই কাছে টেনেছে মানুষকে। করেছে সম্মানিত। এখনও যারা কুরআন নিয়ে থাকেন, কুরআন ভালোবাসেন, কুরআনের পাঠের ব্যবস্থা করেন, কুরআন হিফজ করেন, কুরআনকে ধারণ করেন-নবীজী তাদের পুরস্কার প্রদানের কথা বলেছেন। কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, নিঃসন্দেহে এই কুরআন মহাসম্মানিত। কিতাব আকারে (লিখিত) সংরক্ষিত। পবিত্রগণ ছাড়া আর কেউ এটি স্পর্শ করে না। বিশ্বজাহানের রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত। সূরা ওয়াকিয়া : আয়াত : ৭৭-৮০ 


পৃথিবীতে আল্লাহ তাআলা হাফেজদের মাধ্যমে কুরআনকে সংরক্ষণ রাখছেন। হিফজ পড়ার প্রতি কোনো একটি শব্দের মাধ্যমেও নিরুৎসাহিত করা উচিত নয়। কোনোভাবেই যেনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমÑ হিফজ, কুরআন ও হাফেজ বিরোধিতার বাতায়ন না হয়। অবশ্যই মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনকে নিজ দায়িত্বে সংরক্ষণ করবেন। তিনি বলেছেন, নিশ্চয় আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তা সংরক্ষণ করব। সূরা হিজর : আয়াত ৯


মেধাপাচারের কঠিন সময়ে নিজেকে কুরআনের সঙ্গে রাখা একটা যুদ্ধ। যাকে আল্লাহ কুরআনের জন্য কবুল করেন, তার বড় সৌভাগ্য। কুরআন পাখিরে তাই সম্মান করাটাই হোক আমাদের সদিচ্ছা। কুরআনের প্রেমে কাটুক আমাদের আগামী। কুরআন বিধানে সাজুক আমাদের হৃদয় ও দেশ। 


লেখক : সহকারী সম্পাদক, দৈনিক আমার বার্তা


 

আরো পড়ুন