শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
শিশু-নওমুসলিম বক্তা
বোকা হচ্ছে জনগণ
আমিনুল ইসলাম কাসেমী
২৫ নভেম্বর, ২০২১ ২১:৪২:৫৮
প্রিন্টঅ-অ+

ওয়াজ মাহফিলের উদ্দেশ্য মানুষের হেদায়েত। পথ ভোলা মানুষকে সঠিক পথ দেখানো। সমাজ থেকে জাহেলিয়্যাত বিদায় করে আলোর পথে মানুষকে আহ্বান করা। মানে একটা মোবারক কাজ। যেখানে রয়েছে পূণ্য তথা সওয়াব। কেননা, ওয়াজ মাহফিলে কোরআন-হাদিস এবং পেয়ারা হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত নিয়ে আলোচনা হয়। সুতরাং যে মজলিসে কোরআন-হাদিসের আলোচনা এবং নবীজীর সীরাত নিয়ে আলোচনা হবে, নিঃসন্দেহে সেটা এক মোবারক জলসা। নূরানী এক পরিবেশ তৈরী হয় সেখানে। 


আর হাদিসের ভাষায় তো এসব ওয়াজ মাহফিলে যেখানে কোরআনের তেলাওয়াত, কোরআনের তাফসির, হাদিস নিয়ে কথা হবে, সে মজলিসকে জান্নাতের বাগানের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এসব মজলিসে আল্লাহ তায়ালার সকিনা নাযিল হয়, রহমতের ফেরেশতারা সে মজলিসকে বেস্টন করে রাখে। অর্থাৎ  একটা মূল্যবান বা দামি মজলিস হল ওয়াজ মাহফিল। যেটার সাথে দুনিয়ার আর কোন মজলিসের তুলনা হয় না।


তবে এরকম মোবারক মজলিসকে যদি হাসি-তামাশার বানানো হয় সেটা হবে একটা জঘন্যতম কাজ। মাহফিলে অতিথি করা হল এমন কিছু লোককে যারা অজ্ঞ-মূূর্খ। যাদের কোরআন-হাদীসের ইলম নেই। শুধু মঞ্চে বসে নাটক করে। বেফাঁস কথা বলে। লাইন ছাড়া বক্তৃতা দেয়।  কোরআন-হাদিসের কথা না বলে শুধু হুমকি-ধমকি দেয়। অথবা স্রোতাদের শুধু বিনোদন দেওয়ার জন্য মঞ্চে বসে থাকে। গান গায়। শরীরের অঙ্গভঙ্গি দিয়ে নাচ-গান এবং যৌন সুরসুরি দেয়। এরকম বিনোদন উদ্দেশ্য হলে সেটা হবে চরম অন্যায়।


আবার ওয়াজ মাহফিলে শিশু বক্তা বেরিয়েছে। যেটা অনেক বিনোদন। তাকে দেখার জন্য মানুষের ভিড়। কোন লেখাপড়া জানা নেই। তাদের নিয়ে বসানো হচ্ছে ওয়াজের স্টেজে। আবার  আছে ২৬ ইঞ্চি বক্তা, কিছু আছে নওমুসলিম বক্তা, কিছু আছে গানের শিল্পি। এভাবে বিভিন্ন নাম দিয়ে মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে। আর তারা ওয়াজে উঠে ভেল্কিবাজি করে। ওয়াজ করা দুরে থাক, তাদের ভেল্কি দেখে পাবলিক অস্থির।


ওয়াজ মাহফিলের মত পবিত্র জায়গা কী ভেল্কি দেখানোর জন্য? ওখানে নাটক করার  জায়গা? তাদেরকে কেন ওঠানো হচ্ছে? কেন আজ পবিত্র স্থান নষ্ট করা হচ্ছে?


মূল সমস্যা হল, ওয়াজ মাহফিল এখন আগের মত নেই। সেই লিল্লাহিয়্যাত ওয়াজ নেই। ওয়াজের মাহফিল থেকে রুহানিয়্যাত বিদায় নিয়েছে। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ওয়াজ করার মত কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ ওয়াজ মাহফিল এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। সবাই জানে, ওয়াজে গেলে মোটা অংকের টাকা পাওয়া যাবে। দু-চার দিনের মধ্যে গাড়ি-বাড়ির মালিক হওয়া যাবে। এজন্য এই ওয়াজের ব্যবসায় অনেকের টার্গেট। যিনি যেভাবে পারে, সে বক্তা হওয়ার চেষ্টা করছে। গান গেয়ে হোক বা নাটক করে হোক, সিনেমার ডায়ালগ মুখস্থ করে হোক, সে তখন স্রোতাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। তাই সে ওয়াজকে পেশা হিসাবে বেছে নিচ্ছে। 


অনেক অসাধু অভিভাবক মোটা অংকের টাকা কামানোর জন্য নিজের সন্তানকে ময়দানে নামাচ্ছে। তার লেখাপড়ার দিকে নজর না দিয়ে আগেই তাকে দিয়ে কীভাবে অর্থ উপার্জন করা যায় সেই ধান্ধা। আর কিছু অন্ধ পাবলিক আছে, যারা শিশু বক্তার কথা শুনলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কোন হুঁশ থাকে না। তাই আয়োজকগণ সেই সুযোগে শিশু বক্তা বা ওই জাতীয় ভেল্কিবাজ বক্তাকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসছে।


এখন এসব শিশু বক্তা, নওমুসলিম বক্তা, গানের শিল্পি বক্তা, এদের তো কোন কোরআন- হাদিসের জ্ঞান নেই, কোন ইলম নেই, মাদরাসাতে পড়েনি, ওরা তখন ওয়াজের স্টেজে বসে নাটক করে, ভেল্কি দেখায়, গান গায়, বেঁফাস কথা বলে, আর এভাবেই ওয়াজের মাহফিলের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। সে মজলিসে আর বরকত থাকে না। 


এজন্য ওয়াজের মাহফিল বিনোদনের জন্য নয়। সেখানে হাসি-তামাশার জায়গা নয়। নিছক একটা বরকতপূর্ণ জায়গা। যেখানে অফুরন্ত সওয়াব রয়েছে। সুতরাং সে জায়গাকে নষ্ট করা যাবে না। যারা আলেম নয়। যারা মূর্খ, যারা এখনও কথা বলার উপযুক্ত হয়নি, এ ধরনের বক্তাকে দাওয়াত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে যারা ওয়াজ মাহফিলের আয়োজক, তাদের সতর্ক থাকতে হবে। 


ওয়াজ মাহফিলের উদ্দেশ্য শুধু লোক জড়ো করা নয়। বেশী মানুষ জমা করার জন্য হাসি- তামাশার বক্তা দাওয়াত দেওয়া বা অনুপোযুক্ত ব্যক্তিকে মঞ্চে বসানো দ্বীন ইসলামের সাথে খেয়ানত করা। এজন্য সাবধান হোন। আল্লাহ আমাদের বিশুদ্ধ জ্ঞান দান করুন। আমিন।


লেখক : মুহতামিম, নিজামিয়া মাদরাসা, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী


 

আরো পড়ুন