শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
মুফতী সলিমুদ্দিন মাহদী কাসেমী
শিক্ষার্থীদের আবেগ প্রতিপালন
১৩ জানুয়ারি, ২০২২ ২১:১৮:০২
প্রিন্টঅ-অ+

মানব জীবনের সূচনা থেকে সমাপ্তি, সর্বক্ষেত্রে রয়েছে কিছু আবেগ ও উপলব্ধি। কখনো তাতে তীব্রতা আবার কখনো দুর্বলতা সৃষ্টি হয়। শৈশবে ভালোবাসা ও আসক্তির আবেগ খুব জোরালো থাকে। যৌবনকালে আত্মগৌরব ও আত্মকেন্দ্রিক চিন্তার পাশাপাশি অন্যান্য আবেগগুলো বড় দ্রুত গতিতে কাজ করতে থাকে। বৃদ্ধকালে প্রীতি-ভালবাসা ছাড়া অন্যান্য সকল আবেগ শীতল হয়ে যায়। তাই তাদের মধ্যে উচ্চ আকাক্সক্ষা, পার্থিব লোভ ইত্যাদিও এই প্রীতি-ভালবাসার কারণেই বৃদ্ধি পায়। আবেগ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের প্রভাব সৃষ্টি করে। আবেগপ্রবণ হয়ে মানুষ যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুল কিংবা অপূর্ণাঙ্গ হয়। এই জন্য জীবনের প্রতিটি মোড়ে আবেগের যাথাযথ তরবিয়ত ও প্রতিপালন অনস্বীকার্য। নিঃসন্দেহে তরবিয়ত ব্যতীত কোন আবেগের মধ্যে ভারসাম্য আসতে পারে না। স্বাছন্দ্যময় জীবনের জন্য বয়সের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবেগগুলোকে দীক্ষিত করা মানুষের জন্য এক অপরিহার্য বিষয়। বারো বছরের পূর্বে শিশুরা নিজেদের আবেগকে কন্ট্রোল করতে পারে না। বার বছর পর তারা তা কন্ট্রোল করতে সক্ষম হয়ে যায়। তবে শর্ত হলো, অভিভাবক কর্তৃক সঠিকভাবে দীক্ষিত করার জোর প্রচেষ্টা শুরু থেকেই অব্যহত থাকতে হবে। এই আবেগগুলোর যথাযথ তরবিয়ত ও প্রতিপালনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে সফল ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলা যায়। 


যে সকল শিক্ষার্থীরা শিক্ষাদীক্ষার জন্য আমাদের নিকট আসে, তাদের ধরণ ও বৈশিষ্ট্য, আবেগ ও অনুভূতি পৃথক পৃথক হয়ে থাকে। সেগুলোকে স্বর্ণকারের ন্যায় যাচাই-বাছাই করে নিরীক্ষণ করতে হয়। তবে এক্ষেত্রে লক্ষণীয় হলো, ছাত্ররা হীরা-মুক্তা ও স্বর্ণ-রূপার মত নির্জীব ও ইচ্ছাহীন নয় যে, শিক্ষক যেভাবে চান হস্তক্ষেপ করবেন। বরং ছাত্রদের নিজস্ব আবেগ-অনভূতি থাকে। তাদের স্বাধীনচেতা ইচ্ছা এবং নতুন নতুন বিষয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক থাকে। এই সকল বিষয়কে লক্ষ্য রেখে স্তর বিন্যাস হিসাবে শিক্ষাদীক্ষা প্রদান করা একটি সঙ্কটপূর্ণ কাজ। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তিনিই সফল শিক্ষক হতে পারবেন, যিনি মানবতার শিক্ষক হযরত রাসুলুল্লাহ সা.-কে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করবেন। কেননা তিনিই মানবজাতির জন্য পরিপূর্ণ শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন। তিনিই সেই মানুষদেরকে, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ‘জলুমান জাহুলা’ তথা যালিম ও অজ্ঞ; আদর্শ শিক্ষাদীক্ষার মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে আলোকিত করেছেন। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম কিংবা জাতির নিকট শিক্ষাদীক্ষার এমন কোন ব্যবস্থা নেই, যা একমাত্র রাসুলুল্লাহ সা. এর শিক্ষায় রয়েছে। ক্রটি আমাদের, আমরা তা থেকে উপকৃত হচ্ছি না। বিশেষত শিক্ষার্থীদেরকে দুটি বস্তু বুঝাতে সক্ষম হলে শৃঙ্খলা রক্ষায় বড় সহায়ক হয়। প্রথমত, আদেশ অমান্য করা একটি মহাপাপ। দ্বিতীয়ত, প্রতি মুর্হূতে প্রত্যেক ব্যক্তির উপর আল্লাহ তাআলার তত্ত্বাবধান রয়েছে। এই দুটি বস্তু এমন, যদি শিক্ষার্থীদের অন্তরে কোনভাবে বসে যায়, তাহলে তাদের তরবিয়ত ও সংশোধনের সকল স্তর সহজে পার হওয়া সম্ভব হয়ে যায়। যে এই দুটি বিষয় সদা স্মরণ রাখবে, তাকে আর কোন তত্ত্বাবধান করার প্রয়োজন পড়ে না। ছোটদেরকে বড়দের তত্ত্বাবধানে তখনই রাখতে হয়, যখন ছোটরা এই বিশ্বাসে পরিপক্ক হয় না, যে আমি সদা আল্লাহর নজরে রয়েছি।


লেখক : শিক্ষক, জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।


যসংধষরসঁফফরহ২২@মসধরষ.পড়স 


 

আরো পড়ুন