শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
মো. আশিকুল্লাহ মাহমুদ
ছোটবেলার ঈদ
২৮ এপ্রিল, ২০২২ ২১:১৬:২০
প্রিন্টঅ-অ+

ঈদ শব্দটা কানে আসলেই কেমন যেন ছোটবেলা টা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট ভেসে উঠে চোখের সামনে। ঈদের আনন্দ শিশুদের ছুঁয়ে যায় সবচে’ বেশি। ছেলেরা পাঞ্জাবি আর মেয়েরা লাল টুকটুকে শারি পরে ঘুরে ঘুরে ঈদের দিনটি উদযাপন করতে ভালোবাসে। আর শিশুদের ভালোলাগার আনন্দই ছুঁয়ে যায় বড়দেরও।শিশুদের ঘিরেই যেনো ঈদের আনন্দ। তাই ঈদ মানেই তো শিশুর খুশি। তাই তো শিশুদের জামাটাই কিনতে হয় সবার আগে। সবাই গ্রামের বাড়িতে একত্র হয়। এতে শিশুদের জন্য পরিবারের দাদা-দাদী চাচা-চাচী ফুফু-ফুফাসহ অন্যদের সাথে আন্তরিকতাপূর্ণ সুসর্ম্পক গড়ে ওঠে। আনন্দ উৎসবের অন্য রকম মাত্রা নিয়ে শিশু কিশোরদের জীবনে ঈদ আসে। ঈদ হলো খুশির দিন। খুব মনে পরে ছোটবেলা টাকে। ঈদের দিন যতোটা আনন্দ পেতাম, তার থেকে বেশি আনন্দ পেতাম ঈদের আগে এক দুটো দিন। খালি মনে হতো কখন ঈদ আসবে, নতুন কাপড় পরে ঈদগাহে যাবো। আমাদের বাসা থেকে মসজিদ ছিলো বেশখানিকটা দূরে। আর আব্বু ছিল ঐ মসজিদের খতিব, তাই ঈদের দিন সকালে আমাদেরকে সাজিয়ে ঈদগাহে সাথে করে নিয়ে যাওয়ার মতো সময় আব্বুর ছিলো না। তাই আব্বু ঈদের আগের দিন রাতেই আমাদের দু’ভাই কে লক্ষ করে আম্মুকে বলে রাখতো যে ঈদের দিন সকাল সকাল তাদেরকে গোসল করিয়ে কাপড় পরিয়ে রেডি করে রাখবা। আটটার সময় মুয়াজ্জিন সাহেব এসে নিয়ে যাবে মসজিদে। যেই কথা সেই কাজ, আম্মু রেডি করে রাখতেন পরে মুয়াজ্জিন সাহেব এসে আমাদেরকে নিয়ে যেতেন। মসজিদে পৌঁছার সাথে সাথেই আব্বুর সাথে দেখা করিয়ে দিতেন। আব্বু হাসিমুখে কাপড়ে আতর মেখে দিয়ে বলতেন মসজিদে এক কর্ণারে বসে থাকো কিছুক্ষণ পর নামাজ শুরু হবে। নামাজ শেষে এখানেই বসে থাকবা, পরে আমি এসে নিয়ে যাবো। নামাজ শেষে অনেকেই চলে যেতো, কেউ কেউ থাকতো আমরাও থাকতাম, কারণ আব্বুর আদেশ তিনি এসে নিয়ে যাবেন। তখন আব্বুর অনেক মুসল্লী আমাদের কাছে আসতো। বিভিন্ন বিষয় জিজ্ঞেস করতেন, অনেকেই কুলে নিতেন,কেউ কেউ অনেক কিছু কিনে দিতে চাইতেন। ইমাম সাহেবের ছেলে বলে কথা। তো যাইহোক কেউ কিছু দিতে চাইলে হাতে নিতাম না, খুব জোর করেও যখন দিতে ব্যর্থ হতেন, তখন আব্বুকে ডেকে বলতেন, হুজুর আপনার ছেলে কিছু নিতে চায় না। তখন আব্বু হেসে দিয়ে নিতে বলতেন তখন হাতে নিতাম। আব্বুর মসজিদের মুয়াজ্জিন সাহেব খুব ভালো ছিলো আমাদের খুব মোহাব্বত করতেন। উনি এখন আমাদের মাঝে নেই আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে ওপারে চলে গেছেন, আল্লাহ ওপারে ভালো রাখুক। উনি হয়তো জানেন না যে আজ আমরা এতো বড় হয়েছি। বেঁচে  থাকলে হয়তো খুব খুশি হতেন। তো নামাজ শেষে আব্বু সাথে করে বাসায় নিয়ে যেতেন। ছোটবেলায় অনেকেরই অনেকের কাছ থেকে সালামি পাওয়ার আশা থাকে এবং পায়ও। কিন্তু সালামি কি জিনিস আমরা তখন তেমনটা বুঝতাম না, কারণ কখনো গ্রামে দাদা-দাদী অন্য আত্মীয় স্বজন কারো সাথে ঈদ করা হয়নি। আব্বুর ইমামতির ব্যস্ততার কারনে। শহরে একাকী বাসায় ঈদ করেই বড় হয়েছি। আব্বু-আম্মু ঈদ উপলক্ষে যা দিতেন তা নিয়েই যেনো খুশির সীমা থাকতো না। এখনোও একাকী ব্যস্ত শহরেই ঈদ করতে হয়। গ্রামে যাওয়া হয় না, একেতো আব্বুর ইমামতির ব্যস্ততা, তা ছাড়া দাদী এখন আর বেঁচে নেই, তাই যেতেও ইচ্ছে করে না। আল্লাহ উনাকে জান্নাতবাসী করুক। 


লেখক : শিক্ষার্থী: ফজিলত ২য় বর্ষ, উত্তরা, ঢাকা


ashikullahmahmud@gmail.com


 

আরো পড়ুন