
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দেশের পটভূমি পরিবর্তনের পর সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হবে?’ অবশেষে সব অবকাশ কাটিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনী হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে শহরের অলিগলি থেকে গ্রামগঞ্জের আনাচে-কানাচে। এর ঢেউ লেগেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও, যার ব্যতিক্রম নয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)।
এই নির্বাচনে বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে তরুণ ও শিক্ষার্থী ভোটাররা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের। একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান তারা? ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সেই ভাবনাই তুলে ধরেছেন—সাব্বির আহমেদ।
“মেধাভিত্তিক নিয়োগ, স্বাধীন বিচার ও শিক্ষাবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা চাই”
একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার প্রত্যাশা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠুক, যেখানে কোটা নয়—মেধাই হবে যোগ্যতার মূল ভিত্তি। রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নির্বিঘ্ন মতপ্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষিত তরুণদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা চাই।
পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেখানে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকবে। গবেষণাবান্ধব শিক্ষা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং র্যাগিংমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করাই হবে আমাদের আগামীর অঙ্গীকার।
মো. আজিন
শিক্ষার্থী, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ
“নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন বাংলাদেশ চাই”
ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সব রাজনৈতিক দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা না গেলে নির্বাচন অর্থবহ হয় না। একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়তে স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়ার প্রত্যাশা রাখি।
পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তথ্যের অবাধ প্রবাহই পারে জনগণের সচেতন ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে।
সানজিদা ইসলাম
শিক্ষার্থী, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ
“বাক্স্বাধীনতাসম্পন্ন রাজনৈতিক পরিবেশ চাই”
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–২০২৪’-এর সর্বশেষ অংশ। নির্দলীয় এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা বহির্বিশ্বে একটি দেশের ভাবমূর্তি নির্মাণ করে। সাম্রাজ্যবাদ, দুর্নীতি এবং আধিপত্যবাদবিরোধী একটি রাষ্ট্র গঠনে অবাধ, সুষ্ঠু এবং জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারের বিকল্প নেই। তাই আগামী নির্বাচন যেন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে এবং সেই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়। পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়ে শাসনব্যবস্থায় ভারসাম্য বজায় থাকুক, যেন নতুন করে কোনো ফ্যাসিস্টের আগমন না হয়।
মোফাজ্জেল হোসাইন বরকত
শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ
“স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রই আমাদের আকাঙ্ক্ষা”
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে লক্ষ্য করে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক আশা-আকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি এমন এক বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থার, যেখানে থাকবে না কোনো শোষণ, অন্যায়, দুর্নীতি এবং দুঃশাসনের ছায়া। রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথোপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বত্র সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামোই তরুণদের প্রত্যাশা। এমন যোগ্য ব্যক্তিদের জনগণ রাষ্ট্রক্ষমতায় বসাবে বলে আমরা তরুণ সমাজ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
মেহরাব হোসেন
শিক্ষার্থী, সমাজকল্যাণ বিভাগ
“শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন হোক”
২৪-এর জুলাই আন্দোলনে তরুণ সমাজ প্রমাণ করেছে—তারা কেবল শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থী নয়, রাষ্ট্রের সচেতন নাগরিক। তারা লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির বদলে নীতিভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি প্রত্যাশা করে। এই প্রত্যাশা পূরণে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন জরুরি। একই সঙ্গে নতুন সরকারের কাছে দাবি—সকল ক্ষেত্রে মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন হোক, যেন তা সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী হয়। বাক্স্বাধীনতা নিশ্চিত করে নতুন উদ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনাই হোক আগামীর লক্ষ্য।
তানভীর হোসেন শুভ
শিক্ষার্থী, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ
“নির্বাচনে সংঘাত নয়, হোক উৎসবমুখর পরিবেশে”
নির্বাচন গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি, এর কোনো বিকল্প নেই। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এই নতুন বাংলাদেশে নির্বাচন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন কমিশন অপরিহার্য। ভোটাররা যেন ভয়ভীতি ছাড়া ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রয়োজন। সংঘাত নয়, উৎসবমুখর পরিবেশেই হোক নির্বাচন।
হোসাইন মাহমুদ
শিক্ষার্থী, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ
আমার বার্তা/সাব্বির আহমেদ/এমই

