ই-পেপার রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩

হযরত শাহ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিরুদ্ধে হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ

সাহিদা বেগম:
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৬:৪৫

ঢাকার মিরপুর এলাকার হযরত শাহ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি বড় অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষক খলিফা উজির আহমেদ বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যার মধ্যে রয়েছে হয়রানি, দুর্নীতি এবং অসদাচরণ। এসব অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস আক্তার এবং বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক। এই অভিযোগ অনুযায়ী, খলিফা উজির বিদ্যালয়ের প্রশাসনকে অস্থিতিশীল করার জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা আবেদন ও অভিযোগ দাখিল করেছেন, যাতে তিনি নিজস্ব স্বার্থ সিদ্ধ করতে পারেন।

হয়রানি এবং ক্ষমতার লড়াই

খলিফা উজির বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো তিনি প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস আক্তারকে তার পদ থেকে অপসারণের চেষ্টা করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, উজির আক্তারসহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপর হয়রানি চালিয়ে আসছেন এবং মিথ্যা আবেদন ও অভিযোগ দাখিল করেছেন। ২০২০ সালের ১৮ জুলাই, খলিফা উজির নিজেই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করেন, যাতে তাকে হযরত শাহ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তার লক্ষ্য ছিল বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নিজেদের হাতে নেওয়া। এই কর্মকাণ্ড এতটাই প্রকাশ্য হয়ে পড়ে যে, তাকে প্রকাশ্যে তার কাজের জন্য দায়ী করা হয় এবং তিনি একটি হলফনামা সই করেন, যাতে তিনি ভবিষ্যতে এমন কোন কাজ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগ

এই ঘটনার পর পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে ওঠে, যখন অভিযোগ উঠলো যে উজির রাজনৈতিক সম্পর্ক ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করছেন। দাবি করা হয়েছে যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার শাসনামলে, খলিফা উজির এমপি মঈনুল ইসলাম খান নিকিলের সাথে যোগসাজশ করতেন। তাদের সম্পর্কের মাধ্যমে উজির তার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হুমকি প্রদান ও হয়রানি করেছেন, এর মধ্যে প্রধান শিক্ষিকা আক্তারও ছিলেন। আরও একাধিক অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি মহিলা অভিভাবকদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়ে তাদের ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন।

কিছু অভিভাবক অভিযোগ করেছেন যে, উজির শিশুদেরকে কৌশলে তাদের অভিভাবকদের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ব্যবহার করেছেন। এসব কর্মকাণ্ড বিদ্যালয়ের মান ও ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে, ফলে কিছু অভিভাবক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অভিযোগ করেছেন।

সরকারী শাসনের পরও চলতে থাকা অপরাধ

২০২৪ সালের আগস্টে স্বৈরশাসনের পতনের পরও নার্গিস আক্তার অভিযোগ করেছেন যে, উজিরের অসদাচরণ থেমে থাকেনি। তিনি দাবি করেছেন যে, উজির তার বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং আক্রমণাত্মক রিপোর্ট ছড়াচ্ছে, এমনকি একটি কাল্পনিক মিডিয়া আউটলেট তৈরি করে তাকে হেনস্থা করার চেষ্টা করছেন। আক্তার জানান, এটি ছিল তার নেতৃত্বকে দুর্বল করার একটি চক্রান্ত।

এ কারণে, কিছু অভিভাবক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও মনিটরিং দপ্তরে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন, যাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব অভিযোগ বিদ্যালয়ে এক বিষাক্ত কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করেছে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার শিক্ষাঙ্গনে যে বিপদ তৈরি করতে পারে তা স্পষ্ট করেছে।

দুর্নীতি এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস

আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো, খলিফা উজির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন। শিক্ষিকা হিসেবে তার সময়ে, তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পরীক্ষার উত্তর দেয়ার জন্য সুবিধা গ্রহণ করতেন, যার ফলে বিদ্যালয়ে দুর্নীতির এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অপ্রতিরোধ্য সুবিধা তৈরি হয় এবং বিদ্যালয়ের পরীক্ষার ন্যায্যতা ক্ষুণ্ণ হয়। যখন এই অভিযোগের মুখোমুখি হন, উজির দাবি করেন যে, তার মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে এসব ঘটনা ঘটেছে, এবং তার স্ত্রীর দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কারণে তিনি ভুল করেছেন। তিনি আরও বলেন, তার মানসিক সমস্যা ছিল, যা তার অসদাচরণের মূল কারণ।

কুৎসিত উপকরণ এবং রাজনৈতিক চক্রান্ত

এছাড়াও, খলিফা উজির প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস আক্তারের বিরুদ্ধে কুৎসা প্রচারিত লিফলেট ও পোস্টার তৈরি এবং বিতরণের সাথে যুক্ত আছেন। এসব লিফলেট স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করে ছড়ানো হয়, যাতে লোকজনের সমর্থন পাওয়া যায় এবং আক্তারের নেতৃত্বকে খাটো করা যায়। এসব কুৎসা উপকরণ তিনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে, যেমন দুর্নীতি দমন কমিশন এবং শিক্ষা বোর্ডে নিয়ে গেছেন, যাতে তিনি তার রাজনৈতিক অভিলাষ পূরণ করতে পারেন।

উজিরের অস্বীকার এবং জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া

এ সমস্ত অভিযোগের মুখে, খলিফা উজির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তা মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ। তবে, শিক্ষকদের এবং অভিভাবকদের পক্ষ থেকে তোলা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার দাবি এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। স্কুল কমিউনিটি এবং জনসাধারণ তার উপর আরও কঠোর তদন্ত দাবি করছে।

উপসংহার: ন্যায় এবং জবাবদিহিতার আহ্বান

খলিফা উজির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো শিক্ষাঙ্গনে ক্ষমতার লড়াই, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং দুর্নীতির গভীর সমস্যা উন্মোচন করেছে। শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের অভিযোগ পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত করেছে যে বিদ্যালয়ে স্বচ্ছতা, সততা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এসব গুরুতর অভিযোগের ব্যাপারে দ্রুত এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

এই মামলার ফলাফল ভবিষ্যতে অন্যান্য similar পরিস্থিতির মোকাবিলায় একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে, এবং এটা সময়ের ব্যাপার যে, খলিফা উজির তার অযাচিত কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তি পান। অভিভাবক এবং শিক্ষকদের আশা, তাদের কণ্ঠস্বর শোনা হবে এবং বিদ্যালয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে।

লেখক: সমাজকর্মী ও নারী সংগঠক

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনা

সরকার অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল

জুলাই থেকে বিনামূল্যে ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা পাবেন শিক্ষার্থীরা: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জুলাই

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে স্যার ফজলে হাসান আবেদের ৯০তম জন্মদিন উদ্যাপন

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে স্যার ফজলে হাসান আবেদের ৯০তম জন্মদিন উদ্যাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আজ ২৭

শিক্ষা-প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় পাকিস্তান

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মার্কিনিদের নৌ-অবরোধ এড়িয়ে ২৭০০ কোটি টাকার তেল নিয়ে গেলো ইরানি ট্যাংকার

আজ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের শপথ

শতভাগ ভিসা ইস্যু, সৌদি আরব পৌঁছেছেন ৪৩০১৯ হজযাত্রী

সিলেটে পিকআপ-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৭ জন

মেসির নৈপুণ্যে ৩ গোলে এগিয়ে গিয়েও অবিশ্বাস্য হার মায়ামির

ছাত্রদলকর্মী হত্যা: হাসিনা-কাদেরসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

বুড়িমারীতে ভারতের সহকারী হাইকমিশনার, ভিসা জটিলতা নিরসনের আশ্বাস

২২ বছর পর চাঁদপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

তথ্যকে মনের মাধুরি মিশিয়ে প্রকাশের প্রবণতা মোকাবিলাই বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাব পর্যালোচনা করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

৩ মে ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা

নতুন প্রজন্মের ওপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলায় দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে হবে

২৭ সালের মধ্যে রোহিঙ্গাদের গুডবাই জানানো হবে: শাহজাহান চৌধুরী

শেষ ম্যাচ হেরে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজ ভাগাভাগি করল বাংলাদেশ

ঢাকায় ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ ভারতের: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে রোববার: ৪৯৮ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে

কৃষকের মর্যাদা বাড়লেই শক্তিশালী হবে বাংলাদেশ: কৃষিমন্ত্রী

‘আ.লীগের শেষ ১০ বছরে কমপক্ষে ৫০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে’

বিএনপি সরকার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করছে: আনু মুহাম্মদ