ই-পেপার মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

কৈফিয়তের জন্য চাপ বাড়লেও শেখ হাসিনাকে ফেরাচ্ছে না ভারত

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন
আমার বার্তা অনলাইন:
১৭ নভেম্বর ২০২৫, ১৮:১২

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করলেও তিনি এখন যে দেশের আশ্রয়ে আছেন, সেই ভারত সরকার এই ঘটনায় তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

তবে ভারতের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা বিবিসিকে আভাস দিয়েছেন, এই রায়ের ফলে শেখ হাসিনাকে নিয়ে দিল্লির অবস্থান আদৌ বদলাচ্ছে না এবং তাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ারও কোনও প্রশ্ন উঠছে না।

বস্তুত শেখ হাসিনা এই পর্বে যবে থেকে ভারতে পা রেখেছেন, মানে সেই ৫ অগাস্ট ২০২৪ থেকে আজ পর্যন্ত সেদেশে তাকে আশ্রয় বা আতিথেয়তা দেওয়া নিয়ে ভারতের অবস্থান অবিকল একই রকম আছে। আর সেই ঘোষিত অবস্থানটা হলো, একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে তাকে ‘সাময়িক’ (ফর দ্য টাইম বিয়িং) আশ্রয় দেওয়া হয়েছে; এর বেশি কিছু নয়।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার পরও ভারতের সেই অবস্থান অপরিবর্তিতই থাকছে। এর অর্থ, তাকে আশ্রয় দেওয়া কিংবা ভারতের মাটিতে তাকে আপাতত রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত; পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে, এমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

তবে এখন এই প্রশ্ন উঠতেই পারে, দুই দেশের মধ্যকার অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশ ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের যে দাবি বা অনুরোধ জানিয়েছিল তার এখন কী হবে?

এর সহজ উত্তর হলো, সেই চিঠি পাওয়ার পর বছর ঘুরতে চললেও ভারত সেটি নিয়ে এতদিন একেবারে চুপচাপ বসেছিল। কিন্তু এবারে হয়তো তা নিয়ে মুখ খোলার জন্য তাদের ওপর চাপ বাড়বে।

প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে একটি কূটনৈতিক পত্র বা নোট ভার্বাল পাঠানো হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরে। তার মাত্র দু’দিনের মধ্যে সেই নোট ভার্বালের প্রাপ্তি স্বীকার করা হলেও এরপর তারা সেই অনুরোধ নিয়ে কী ভাবছে বা কী অবস্থান নিচ্ছে; ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিয়ে আজ পর্যন্ত একটি শব্দও খরচ করেনি।

তবে একান্ত আলোচনায় ভারতের পররাষ্ট্র কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বারবারেই বলেছেন, প্রত্যর্পণ চুক্তির হাজারটা ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে এই হস্তান্তরের অনুরোধ নাকচ করার বা দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রেখে কালক্ষেপণ করার অজস্র সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন হলে ভারত যে কোনও সময় সেই রাস্তাও নিতে পারে।

• পরিস্থিতি এখন কতটা পাল্টাল?

গত বছরের ডিসেম্বরে যখন প্রথম শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ জানিয়ে নোট ভার্বাল পাঠানো হয়, তখন তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা সবে শুরু হয়েছে।

তখনও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জও গঠন করেননি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আওয়ামী লীগের নেতামন্ত্রীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু করা শুরু হয়ে গেছে, আদালত প্রাঙ্গণেই বর্ষীয়ান নারী নেত্রী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মণিকে হেনস্থা করার বা আনিসুল হক বা সালমান এফ রহমানকে কিল-চড়-ঘুষি মারার মতো ঘটনাও ঘটছে।

সেই সব ঘটনার দৃষ্টান্ত দিয়ে ভারতের কর্মকর্তারা তখন অনানুষ্ঠিকভাবে সব সময়ই বলতেন, শেখ হাসিনাকে বিচারের জন্য বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হলে তিনি যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হবেন না বা তিনি ন্যায় বিচার পাবেন, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। এই কারণেই ঢাকার অনুরোধে সাড়া দেওয়া দিল্লির পক্ষে সম্ভব নয়।

তবে গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় আজকের পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। কারণ শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশের আদালতে গণহত্যার অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী।

এমন একজন অন্য দেশের পলাতক ও দণ্ডিত অপরাধীকে ভারত কেন দিনের পর দিন ধরে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে, সেই কৈফিয়ত দেওয়ার জন্য ভারতের ওপর অবশ্যই এখন চাপ বাড়বে। ফলে ধারণা করা যেতেই পারে, আজকেই না হোক, খুব শিগগিরই ভারতকে আবার এই ব্যাখ্যা দিতে হবে, কেন তারা শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে এবং তাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ উপেক্ষা করে যাচ্ছে।

সেই বিবৃতি বা বক্তব্য যখনই আসুক, তাতে অবশ্য এই প্রশ্নে ভারতের মৌলিক অবস্থান একেবারেই পাল্টাচ্ছে না। অন্যভাবে বললে, শেখ হাসিনাকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য ভারতকে হয়তো এখন নানা সাফাই বা কৈফিয়ত দিতে হবে। কিন্তু তার পরও শেখ হাসিনাকে আদৌ বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে না।

• প্রত্যর্পণ চুক্তিতে আছে যে সব ফাঁকফোকর

বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা আছে। আর সেটা হল, যার হস্তান্তরের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগটা যদি রাজনৈতিক প্রকৃতির হয়, তাহলে সেই অনুরোধ খারিজ করা যাবে।

তবে, কোন কোন অপরাধের অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক’ বলা যাবে না, সেই তালিকাও বেশ লম্বা। এর মধ্যে হত্যা, গুম, অনিচ্ছাকৃত হত্যা, বোমা বিস্ফোরণ ও সন্ত্রাসবাদের মতো নানা অপরাধ আছে। এখন বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে সব মামলা রুজু হয়েছিল তার মধ্যে হত্যা, গণহত্যা, গুম ও নির্যাতনেরও নানা অভিযোগ আছে।

ফলে আপাতদৃষ্টিতে এগুলোকে ‘রাজনৈতিক’ বলে খারিজ করা কঠিন। তার ওপর ২০১৬ সালে যখন মূল চুক্তিটি সংশোধন করা হয়, তখন এমন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছিল, যা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে বেশ সহজ করে তুলেছিল।

সংশোধিত চুক্তির ১০(৩) ধারায় বলা হয়েছিল, কোনও অভিযুক্তের হস্তান্তর চাওয়ার সময় অনুরোধকারী দেশকে সেই সব অভিযোগের পক্ষে কোনও সাক্ষ্যপ্রমাণ পেশ না করলেও চলবে। শুধু সংশ্লিষ্ট আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পেশ করলেই সেটিকে বৈধ অনুরোধ হিসেবে ধরা হবে।

কিন্তু এরপরও চুক্তিতে এমন কিছু ধারা আছে, যেগুলো প্রয়োগ করে অনুরোধ-প্রাপক দেশ তা খারিজ করার অধিকার রাখে। যেমন, অনুরোধ-প্রাপক দেশেও যদি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনও প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধের মামলা চলে, তাহলে সেটা দেখিয়ে অন্য দেশের অনুরোধ খারিজ করা যায়।

শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে অবশ্য এটা প্রযোজ্য নয়। কারণ ভারতে তার বিরুদ্ধে কোনও মামলা হচ্ছে না বা অচিরে হওয়ারও সম্ভাবনা নেই। দ্বিতীয় ধারাটি হল, যদি অনুরোধ-প্রাপক দেশের মনে হয় অভিযোগগুলো কেবল ন্যায় বিচারের স্বার্থে, সরল বিশ্বাসে আনা হয়নি, তাহলেও তাদের সেটি নাকচ করার ক্ষমতা থাকবে।

অভিযোগগুলো যদি সামরিক অপরাধের হয়; যা সাধারণ ফৌজদারি আইনের পরিধিতে পড়ে না, তাহলেও একইভাবে অনুরোধ নাকচ করা যাবে। ফলে ভারত এখনো অনায়াসেই বলতে পারে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সঠিক ও সুষ্ঠু বিচার পেয়েছের বলে তারা মনে করছে না এবং সে কারণেই তাকে হস্তান্তর করা সম্ভব নয়।

অর্থাৎ অভিযোগগুলো শুধুমাত্র ন্যায় বিচারের স্বার্থে, সরল বিশ্বাসে আনা হয়নি, এই ধারাটি ব্যবহার করেই তখন প্রত্যর্পণের অনুরোধ নাকচ করা যাবে বলে দিল্লিতে অনেক পর্যবেক্ষকের অভিমত।

আমার বার্তা/এমই

জায়নবাদ মানবতার হুমকি, ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপানো হয়েছে: পাকিস্তান

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, জায়নবাদ (উগ্র ইহুদি) জাতীয়তাবাদ মুসলিম বিশ্বে অস্থিতিশীলতার চালিকাশক্তি এবং মানবতার

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় নিহত ৭৮৭: রেড ক্রিসেন্ট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রেড

ওমান উপসাগরে ইরানের সব যুদ্ধজাহাজ ধংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ওমান উপসাগরে ইরানের নৌবাহিনীর ১১টি জাহাজ টহল দিচ্ছিল। সবগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে

হিজবুল্লার রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র ইসলামি রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লার সামরিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। সেই
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মধুপুরে মাদক কারবারিকে দেড় বছরের কারাদণ্ড

মূল সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিষিদ্ধে ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশ

কড়াইল বস্তি থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন ১০ মার্চ

ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই: সেতুমন্ত্রী

বর্ষা মৌসুমে মশা নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

পাহাড় কেটে রিসোর্ট নির্মাণ বরদাশত করা হবে না: পার্বত্য মন্ত্রী

চালের দাম বাড়ার খবর পেলেই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকার আইসিইউতে ওষুধ প্রতিরোধী ছত্রাক: গবেষণা

চীনের সামনে বাংলাদেশের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন মিলি আক্তার

ট্রেন ও মেট্রো ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও শিক্ষার্থী

ডিজিটাল ডিভাইসে নকল প্রতিরোধে আইন হবে: শিক্ষামন্ত্রী

জায়নবাদ মানবতার হুমকি, ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপানো হয়েছে: পাকিস্তান

নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাশা পূরণে পদত্যাগ: দুদকের বিদায়ী চেয়ারম্যান

কাতার-দুবাইসহ ছয় রুটে বিমানের সব ফ্লাইট ৫ মার্চ পর্যন্ত বাতিল

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় নিহত ৭৮৭: রেড ক্রিসেন্ট

মিরপুরের চাঁদাবাজের মূলহোতা শাহীনুল ইসলাম জীবন ও দুই সহযোগী আটক

বরগুনায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২টি জবাইকৃত হরিণ উদ্ধার, শিকারি আটক

পোশাক শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে বিশেষ ঋণ সুবিধা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

আগামী ৭ কর্মদিবসে শ্রমিকদের বেতন ও ১২ মার্চের মধ্যে বোনাস দিতে হবে

পদত্যাগ করলেন দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনাররা