
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, শব্দদূষণ কমানোর দায়িত্ব আমাদের সবার। শুধু সরকারের উপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে হবে। অকারণে হর্ন বাজানোটা আমাদের বদভ্যাস। এই অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।
আজ বিমান বন্দর এলাকায় ‘ঘোষিত নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিতকরণ কর্মসূচি’ বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদপ্তর, ডিএমপি, বিআরটিএ, ডিএনসিসি ও সিভিল এভিয়েশনের-এর সমন্বিত অভিযানে হর্নের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আয়োজিত সমাবেশে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এসময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা শুধু হর্ন এর উপরে জোর দিচ্ছি। কোন অজুহাতেই হর্ন বাজানো যাবেনা। তিনি বলেন, অন্যান্য আইন ভাঙ্গলে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পুলিশ যেভাবে গাড়ির ব্যাপারে দণ্ড আরোপ করে, একইভাবে হর্নের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন এবিষয়ে ‘শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫’-হয়েছে। পুলিশকেও একাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃপক্ষ বেশকিছু তরুণকে একাজে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তারা এখন অফিসিয়ালি ট্রাফিক পুলিশের অংশ। সিভিল এভিয়েশন বিমানবন্দরের ঘোষিত নীরব এলাকায় হর্ন বন্ধে ভলেন্টিয়ারদের সহায়তায় কার্যক্রম শুরু করতে পারে। বিমানবন্দর এলাকা হর্নমুক্ত করে আমরা উদাহরণ একটা উদাহরণ তৈরি করতে পারি।
উপদেষ্টা জানান, উচ্চশব্দের কারণে শতকরা ৬৫ ভাগ ড্রাইভার ঢাকা শহরে কানে কম শুনেন। একটা বাচ্চা যখন স্কুলে যায় হর্নের আওয়াজ তার জন্য খুবই অস্বস্তিকর। জাতিগতভাবে আমাদের সকলকে দায়িত্ব নিতে হবে। উপদেষ্টা জনগণকে সচেতন করায় এগিয়ে আসতে গণমাধ্যমকর্মীদের আহ্বান জানান। তাদেরকে স্বপ্রনোদিত হয়ে, নিজেদের দায়িত্বের জায়গা থেকে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।
সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে যে বিধিমালাটি করা হয়েছে তা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এব্যাপারে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ডিএনসিসি-র প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ সারোয়ার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক প্রমূখ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ আনিসুর রহমান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এছাড়া, পরিবেশ অধিদপ্তর, ডিএমপি, বিআরটিএ, ডিএনসিসি ও সিভিল এভিয়েশনের ঊর্ধতন কর্মকর্তাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
আমার বার্তা/জেইচ

