
অ্যাঙ্গোলার রাষ্ট্রপতি জোয়াও লরেনকোর কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মিয়া মো. মাইনুল কবির। পরিচয়পত্র পেশ শেষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এক একান্ত বৈঠকে মিলিত হন রাষ্ট্রদূত। তিনি বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণের পক্ষ থেকে অ্যাঙ্গোলার জনগণ ও সরকারের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
তিনি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন এবং সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রধান প্রধান রপ্তানি পণ্যের বিষয়ে আলোকপাত করে অ্যাঙ্গোলার বাজারে পণ্যগুলোর রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। বাংলাদেশে বিরাজমান বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশের কথা উল্লেখ করে তিনি অ্যাঙ্গোলার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
কৃষি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সফলতার কথা উল্লেখ করে তিনি কন্ট্যাক্ট ফার্মিং প্রস্তাবনার বাস্তবায়নে অ্যাঙ্গোলার প্রেসিডেন্টের সহায়তা কামনা করেন। বর্তমান পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় জ্বালানি আমদানি উৎস সম্প্রসারণে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত অ্যাঙ্গোলা থেকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের ইতোমধ্যে উত্থাপিত প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি দুই সরকারের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা স্থাপনের উদ্দেশ্য দীর্ঘস্থায়ী কাঠামো গঠনের পাশাপাশি সরকারি-ব্যবসায়ী অথবা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
উভয় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে যথাশীর্ঘ সম্ভব সরাসরি আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব দেন। এছাড়া তিনি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি অ্যাঙ্গোলায় সমর্থন কামনা করেন।
অ্যাঙ্গোলার রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা ব্যাক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতির উল্লেখ করে বিশেষত তৈরি পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যাল, পেট্রোলিয়াম, কৃষি ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
তিনি আলোচিত বিষয়গুলো তার সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে উল্লেখ করেন এবং রাষ্ট্রদূতকে তার দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এছাড়া রাষ্ট্রদূতের প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে তিনি সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ ভ্রমণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। একান্ত বৈঠকে অ্যাঙ্গোলায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেতে আন্তোনিও উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূতকে অ্যাঙ্গোলায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, মিয়া মো. মাইনুল কবির নাইজেরিয়াতে বাংলাদেশের হাই কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সমদূরবর্তী হিসেবে অ্যাঙ্গোলায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন।

