
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে ভাইরাল হওয়া বিরল অ্যালবিনো মহিষটি শেষ পর্যন্ত কোরবানির তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সংরক্ষণের জন্য সেটিকে রাখা হয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানায়। ঈদুল আজহার দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) চিড়িয়াখানায় আসা দর্শনার্থীদের বড় একটি অংশের আগ্রহের কেন্দ্র ছিল এই মহিষটি।
চিড়িয়াখানার ৭ নম্বর শেডে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মহিষটিকে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শেডের বাইরে মহিষটির নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ লেখা থাকায় অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে—এটাই কি এখন প্রাণীটির আনুষ্ঠানিক নাম?
যদিও এ বিষয়ে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে নামফলকে একটি মজার ভুলও চোখে পড়েছে। সেখানে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ লেখার বদলে ভুলবশত লেখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’। ‘ট্র’ যুক্তাক্ষরের জায়গায় ‘ট্ট’ ব্যবহার হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে হাস্যরস ও ট্রল শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিরল গোলাপি-সাদা অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটির মাথায় সোনালি রঙের লোম এবং চোখের ভিন্নধর্মী বৈশিষ্ট্যের কারণে খামারিরা শখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম অনুসারে এর নাম রাখেন। পরে মহিষটি নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সেও এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
কী এই অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালবিনিজম একটি জিনগত অবস্থা, যেখানে প্রাণীর শরীরে ‘মেলানিন’ নামের রঞ্জক পদার্থ খুব কম তৈরি হয় বা একেবারেই তৈরি হয় না। এই মেলানিনই মূলত চামড়া, লোম ও চোখের স্বাভাবিক রং নির্ধারণ করে।
মেলানিনের ঘাটতির কারণে প্রাণীর শরীর সাদা, ফ্যাকাশে বা গোলাপি আভাযুক্ত হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে চোখও লালচে বা হালকা গোলাপি দেখা যায়, যা আলোর প্রতিফলনের কারণে আরও স্পষ্ট হয়।
কতটা বিরল এই ধরনের প্রাণী
জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রাণী অত্যন্ত বিরল। বিশেষ করে গবাদিপশুর ক্ষেত্রে এমন বৈশিষ্ট্য খুব কম দেখা যায়। কিছু গবেষণায় বলা হয়, হাজার বা দশ হাজারে একটি প্রাণীর মধ্যে এ ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। তবে বন্য পরিবেশে টিকে থাকার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত সংখ্যা আরও কম হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
কেন গুরুত্ব পায় এমন প্রাণী
অ্যালবিনো প্রাণী শুধু দৃষ্টিনন্দন বা ব্যতিক্রমী বলেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, জীববৈচিত্র্য ও জিনগত গবেষণার ক্ষেত্রেও এদের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রাণী নিয়ে গবেষণা করলে জিনগত পরিবর্তন ও প্রাণীর অভিযোজন প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
আমার বার্তা/জেএইচ

