ই-পেপার বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আমাদের শিশুরা কতটা নিরাপদ

জামিল হোসেন
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:০৯
আপডেট  : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:২৯

শিশুরা একটি দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের হাসি, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্রের চিত্র। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে_আমাদের শিশুরা আসলে কতটা নিরাপদ? এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। কারণ শিশুর নিরাপত্তা শুধু ঘর কিংবা বিদ্যালয়ের নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি, সামাজিক পরিবেশ, সড়কব্যবস্থা এবং সামগ্রিক মূল্যবোধ।

একসময় শিশুর নিরাপত্তা বলতে মূলত ঘরের বাইরে বিপদ থেকে তাদের রক্ষা করার বিষয়টি বোঝানো হতো। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেক জটিল। একটি শিশু শারীরিকভাবে নিরাপদ একটি ঘরে বসেও অনলাইনে নানা ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেম, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ, সাইবার বুলিং কিংবা অনুপযুক্ত কনটেন্ট। এসব বিষয় শিশুর মানসিক ও সামাজিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে প্রযুক্তির সুবিধা যেমন শিশুদের শেখার সুযোগ বাড়িয়েছে, তেমনি নতুন ধরনের ঝুঁকিও তৈরি করেছে।

শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পরিবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সন্তান নিয়ে মা-বাবা এমনতিই উদ্বিগ্ন থাকেন। কোনো অঘটনের খবরে সে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। রাজধানীর অভিভাবকদের চাপ সম্ভবত আরেকটু বেশি। প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু সন্তানকে স্কুলে দিয়ে আসা। ছুটির পর নিয়ে আসতে কিছুটা দেরি হলে চিন্তায় পড়ে যাই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও স্বস্তি পাই না। সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে যেমন অভিভাবকের চিন্তা থাকে, তেমনি তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বিকাশ নিয়েও উদ্বেগ কম নয়।

অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে অভিভাবকেরা সন্তানের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে পারেন না। অথচ শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রথম ধাপ হলো তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা। কোনো শিশু যদি ভয়, অস্বস্তি বা নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা জানায়, তাহলে তাকে অবিশ্বাস বা দোষারোপ না করে গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখা প্রয়োজন। শিশুর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হলে সে বিপদের কথা সহজে জানাতে পারে।

বিদ্যালয়ও শিশুর নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। বিদ্যালয়ে শুধু ভালো ফলাফল নিশ্চিত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সেখানে শিশুর জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষক, কর্মচারী এবং সহপাঠীদের আচরণও শিশুর মানসিক নিরাপত্তার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। বুলিং, শারীরিক শাস্তি, অপমানজনক আচরণ কিংবা বৈষম্য কোনোভাবেই শিক্ষার স্বাভাবিক অংশ হতে পারে না। একটি শিশুকে নিরাপদ মনে করাতে হলে তাকে মর্যাদা দিতে হবে এবং তার অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

সড়ক নিরাপত্তাও আমাদের শিশুদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। প্রতিদিন অনেক শিশু স্কুলে যাতায়াত করে। অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন, ফুটপাতের অভাব, রাস্তা পারাপারের ঝুঁকি এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা তাদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। শুধু শিশুদের রাস্তা পারাপারের নিয়ম শেখালেই হবে না; চালক, পথচারী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—সবার দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশুর মানসিক নিরাপত্তা। আমরা অনেক সময় শিশুর শারীরিক সুস্থতার দিকে নজর দিলেও তার ভয়, উদ্বেগ, একাকিত্ব বা আত্মবিশ্বাসের সংকটকে গুরুত্ব দিই না। পরীক্ষার চাপ, পারিবারিক প্রত্যাশা, সামাজিক তুলনা কিংবা অনলাইন জগতের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা শিশুর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই শিশুর ভালো ফলাফলের পাশাপাশি তার মানসিক সুস্থতাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

শিশু নির্যাতন প্রতিরোধেও সমাজের প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব রয়েছে। কোনো শিশুর প্রতি নির্যাতন বা হয়রানির ঘটনা দেখেও যদি আমরা নীরব থাকি, তাহলে সেই নীরবতা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রতিবেশী, শিক্ষক, আত্মীয়স্বজন কিংবা সমাজের অন্য সদস্যদের উচিত শিশুর প্রতি কোনো অস্বাভাবিক আচরণ চোখে পড়লে দায়িত্বশীলভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা।

তবে শুধু পরিবার বা বিদ্যালয়ের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। রাষ্ট্রকে শিশুবান্ধব আইন ও সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য নিরাপদ খেলার মাঠ, নিরাপদ গণপরিবহন, মানসম্মত শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তার সুযোগ তৈরি করা দরকার। ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও শিশু ও অভিভাবকদের সচেতন করার উদ্যোগ বাড়াতে হবে।

সবশেষে বলা যায়, “আমাদের শিশুরা কতটা নিরাপদ?”—এটি শুধু একটি প্রশ্ন নয়, বরং আমাদের সামাজিক দায়িত্ববোধের একটি পরীক্ষা। শিশুকে নিরাপদ রাখতে হলে তাকে ভয় দেখিয়ে নয়, সচেতনতা, ভালোবাসা, সম্মান ও সুরক্ষার মাধ্যমে বড় করতে হবে। একটি সমাজ তখনই সত্যিকার অর্থে উন্নত, যখন সেখানে শিশুরা নিশ্চিন্তে খেলতে পারে, প্রশ্ন করতে পারে, ভুল করতে পারে এবং নিজের স্বপ্ন দেখার সুযোগ পায়। তাই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু তাদের অধিকার নয়; এটি আমাদের সবার দায়িত্ব।

লেখক : জামিল হোসেন, অনলাইন নিউজ এডিটর, দৈনিক আমার বার্তা, ঢাকা।

পকেটের চাপ, চিকিৎসায় আশা, আর বদলে যাওয়া বিশ্বের গল্প

সুপ্রভাত। সকালটা বেশ নিরীহ, কিন্তু খবরের কাগজ খুললেই বোঝা যায়—দেশের অর্থনীতি আজকাল বেশ রসিক হয়েছে।

মুকুটহীন সম্রাট শহীদ আহমদ শফীর শাহাদাতের ছয় বছর

বাংলা মুলুকের মুকুটহীন সম্রাট শহীদ আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর শাহাদাতের ছয় বছর; হত্যার

মিরকাদিমের ধবল গরু : ভবিষ্যতের জিনগত সম্পদ

ঈদুল আজহার আগে পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জের কোরবানির হাটে ভিড় তখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি। তবু হাটের

দেশের খাতায় আজও অঙ্ক মেলে না

দেশ যেন নতুন খাতা খুলেছে আজ, তবে হিসাবের অঙ্কগুলো বড় মজার—একদিকে তিতাস-২৮ কূপ থেকে দিনে
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লঞ্চের ভাড়া বাড়ল ৭.৫৪ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৩৫ টাকা

আমাদের শিশুরা কতটা নিরাপদ

ইসরায়েলকে খেলতে দিয়ে ‘অন্যায়কে বৈধতা দিচ্ছে’ উয়েফা, অভিযোগ অ্যামনেস্টির

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো নির্মাণে ৩৬৩০ কোটি টাকা ব্যয় অনুমোদন

পকেটের চাপ, চিকিৎসায় আশা, আর বদলে যাওয়া বিশ্বের গল্প

এ বছর নয়, আগামী বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন: প্রতিমন্ত্রী

ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি 

বিশ্বমঞ্চে জনস্বার্থ ও দেশের মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে চালু হবে ডিজিটাল আইডি: প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা 

মেলানিয়ার সঙ্গে ডা. জুবাইদার সৌজন্য সাক্ষাৎ: আলোচনায় শিশুদের ভবিষ্যৎ ও প্রযুক্তি

বাংলাদেশসহ অন্যান্যদের অপেক্ষায় রেখে তিন প্রভাবশালীর মোড়লের চূড়ান্ত সূচি

সংসদে পাস হওয়া তিন আইনে দেশের মানবাধিকার সুরক্ষা দুর্বল হয়েছে: এইচআরডব্লিউ

আজ সৌদি আরবের ৯৬তম জাতীয় দিবস 

সৌদি আরবের ৯৬তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে সৌদি রাষ্ট্রদূতের শুভেচ্ছা বার্তা

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, লক্ষ্য ৩০০ মেগাওয়াট

দলে হামজাদের বোঝাপড়া তৈরির চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ কোচের

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর সতর্কতা

৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এইচএসসি-সমমানের ফল প্রকাশের প্রস্তুতি

চলন্ত মেট্রোরেলের দরজা খুলে যাওয়ায় ২৬ মিনিট চলাচল বন্ধ

অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণে সহযোগিতা, ঢাকায় অফিস খোলার আগ্রহ মেটার