ই-পেপার মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

বর্তমান সংকট উত্তরণে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সুষ্ঠু নির্বাচন : দেবপ্রিয়

আমার বার্তা অনলাইন:
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৮
আপডেট  : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৩

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান সংকট উত্তরণের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি সুষ্ঠু কার্যকর গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। নির্বাচন এখন অত্যন্ত একটি প্রয়োজনীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সংলাপ ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের দৃষ্টিতে ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ একই সূত্রে গাঁথা। তিন সময়ের ভেতরে যে প্রত্যাশা এবং আকাঙ্ক্ষা তার ভেতরে আমরা বৈপরিত্য দেখি না। আমরা এর ভেতরে দ্বন্দ্ব দেখি না। আমরা মনে করি, সামাজিক সুবিচার, মানবিক মর্যাদা ও বৈষম্য বিরোধী আকাঙ্ক্ষা এটি সবই ধারাবাহিক প্রকাশ। আন্দোলন পরবর্তী প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দেশ আজ রাষ্ট্র সংস্কারের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। বিচার, নির্বাচন, সংস্কার ও নাগরিক অধিকার। এই চারটি বিষয় আলোচনার মুখ্য তাগিদ আমরা অনুভব করি এবং গুরুত্ব দেই। এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন যে, এই নির্বাচনে কার কথা স্থান পাবে। আগের মতোই সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে কি না?

তিনি আরও বলেন, অনেক সংশয়, অনেক দ্বন্দ্ব, অনেক ধরনের সংকট দেখতে পাই। তথাপি আমরা মনে করি, বাংলাদেশের বর্তমান উত্তরণের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি সুষ্ঠু কার্যকর গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। নির্বাচন এখন অত্যন্ত একটি প্রয়োজনীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ন্যায়ভিত্তিক অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা আকাঙ্ক্ষা কিন্তু আজও পূর্ণতা লাভ করেনি। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ভেতর দিয়ে স্বাধীনতা আমাদের পথচলা। নাগরিক সমাজ শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক শক্তি একত্রে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে সেদিন আমরা পথে এসেছিলাম। সেই সময় থেকে নাগরিক সমাজের সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা মানবাধিকার রক্ষা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রশ্নে রাষ্ট্রীয় চিন্তা সক্রিয়ভাবে আমাদের সামনে আসে। তবে পরবর্তী আর্থসামাজিক উন্নয়নের ধারা রাজনৈতির উত্থান-পতন আমাদের যে ভঙ্গুর এবং সীমাবদ্ধ কাঠামো আমাদের দেশে আছে, তাকে কিন্তু ভেঙে একেবারে মৌলিকভাবে সামনে এগানোর প্রচেষ্টা সফল আমাদের সেভাবে হয়নি। গত দেড় দশকে মত প্রকাশের সুযোগ সীমিত ছিল।

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, দুর্নীতি, ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ এবং নাগরিক পরিসেবার সংকুচিত হয়ে যাওয়ার প্রবণতা গভীরভাবে শাসনতান্ত্রিক সংকট সৃষ্টি করে। এরই পরিণতিতে জুলাইয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রজনতার অভ্যুত্থান ঘটে। কর্তৃত্ববাদ, ভয়ভীতি ও জবাবদিহী হীনতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আমরা প্রত্যাঘাত করি।

তিনি বলেন, আমাদের সবার সামনে প্রশ্ন আসে নির্বাচন কি সুষ্ঠু হবে? কিন্তু তার চেয়েও বড় প্রশ্ন এসেছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও যেকোন মাপকাঠিতে তা কি অর্থবহ? আমরা কি কোনো পরিবর্তন পাবো? নাকি আবার এই পুরনো ধারাবাহিকতার ভেতরে আমরা সেই গড্ডালিকা প্রবাহে প্রবেশ করব। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর সেখানে আসবে কিনা? নারীদের বিষয়ে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া বিপন্ন জনগোষ্ঠী তারা কি এর ভেতরে স্থান করে নিতে পারবে আগামী দিনের রাষ্ট্রচিন্তার ভেতরে? সেই বিষয়ে মাথায় রেখে রেখে আমাদের এই উদ্যোগ। আমাদের এই উদ্যোগের যেই ধারাবাহিকতা তার ভেতর দিয়ে আমরা একটি অংশগ্রহণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে গেছি।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। প্রশ্ন উঠছে-নির্বাচনী ইশতেহারে কি এই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে? রাজনৈতিক নেতারা যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তা কি বাস্তবে রূপ নেবে? পরিবর্তনের আলোচনায় ও বাস্তবায়নে কারা অন্তর্ভুক্ত হবে, আর কারা আবারও উপেক্ষিত থেকে যাবে?

অনুষ্ঠানে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রবন্ধে বলা হয়েছে, গত দেড় দশকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়া, প্রতিষ্ঠানগত দুর্নীতি, ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ এবং নাগরিক পরিসর সঙ্কুচিত হওয়ার প্রবণতা গভীর শাসন সংকট তৈরি করে। বৈষম্য, বঞ্চনা এবং সুশাসনের ঘাটতির এই পুঞ্জীভূত বাস্তবতা শেষ পর্যন্ত সামনে আনে জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান। এটা ছিল ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে কর্তৃত্ববাদী শাসন, ভয়ভীতি ও জবাবদিহিহীনতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ও জোরালো প্রত্যাঘাত। এই অভ্যুত্থানে উচ্চারিত হয় একটি স্পষ্ট উপলব্ধি-এটাই সময় অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের। তাই ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪-এই তিন সময়ের চেতনার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য বা দ্বন্দ্ব নেই। একটি বৈষম্যবিরোধী ও সাম্যভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, জীবন ধারনের প্রথাগত চিন্তার বাইরের মানুষগুলো ও প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উদ্বেগ ও প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

নাগরিক প্ল্যাটফর্ম দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে ৮টি আঞ্চলিক পরামর্শ সভা এবং ১৫টি যুব কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে ৩৫টি জেলার প্রায় ১৫০০ জন স্থানীয় অংশীজন ও তরুণদের মতামত ও সুপারিশ সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্তব্য বাক্স ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মতামত আহরণ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় নাগরিক প্ল্যাটফর্মের জাতীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের ১৫০টিরও বেশি সহযোগী সংগঠন সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আমরা মানুষের অভিজ্ঞতা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ভবিষ্যৎ-ভিত্তিক আশা-আকাঙ্ক্ষা শোনার ও নথিভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।

প্রবন্ধে বলা হয়, নাগরিক সমাজ আজ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও পরিপক্ক ও সচেতন। এই দেশের মানুষের ভাবনার বৈচিত্র্য যেমন আমাদের শক্তি, মর্যাদা, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের প্রতি অভিন্ন আকাঙ্ক্ষাই আমাদের সম্মিলিত পথনির্দেশক। লক্ষ্য একটাই-বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া মানুষ যেন নির্বাচনী প্রচারের ডামাডোলে হারিয়ে না যায় এবং তরুণ, নারী, কৃষক, সংখ্যালঘু, প্রান্তিক ও বিশস্ত্র জনগণ যেন আগামীর রাষ্ট্রগঠনে সমান অংশীদার হতে পারে। আগামীদিনের বাংলাদেশ কেমন হবে, তার নকশা বুনেছেন নাগরিকরাই। নাগরিক প্ল্যাটফর্ম পরিচালিত বিভিন্ন আঞ্চলিক পরামর্শ সভা, বিশ্ববিদ্যালয় কর্মশালা এবং অনলাইন মতামত সংগ্রহে উঠে আসা নাগরিক প্রত্যাশা দেশের বহুমাত্রিক বাস্তবতার একটি সমকালীন প্রতিফলন।

আমার বার্তা/এল/এমই

জামায়াত আমিরের সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকাস্থ জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার

এবার গানম্যান পেলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী

মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ার অভিযোগ

রাজবাড়ীর সরকারি মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জেলা বিএনপির সাবেক

স্বাধীনতায় অবিশ্বাসীরা নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে: মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না,
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাসিনা, টিউলিপ ও আজমিনার মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি

মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক কমেছে, কমতে পারে ফোনের দাম

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন ফের পেছাল

ঢাকায় ফিরছে বিপিএল

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত ৩

চুয়াডাঙ্গায় সেনা অভিযানে আটকের পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

শিক্ষা শুধু চাকরির জন্য নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ার জন্যও

পাবনায় গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত

হাসিনার বিতর্কিত তিন নির্বাচনের নেপথ্যে ছিলেন যারা

ঢাকায় শুরু হচ্ছে ৪ দিনব্যাপী ডেনিম শো-২০২৬

জামায়াত আমিরের সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে ১৫ সংস্কার প্রস্তাব ও প্রতিশ্রুতি চায় সুজন

রমজানে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ছুটি সীমিত করল কুয়েত

বর্তমান সংকট উত্তরণে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সুষ্ঠু নির্বাচন : দেবপ্রিয়

মানবতাবিরোধী অপরাধ: ইনুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছেন কনস্টেবল মাসুদ

সিরির জন্য গুগলের জেমিনি এআই বেছে নিলো অ্যাপল

জুরাইনে রাস্তা পারাপারের সময় ট্রাকের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত

সুন্দরবনে ১০০ কেজি হরিণের মাংস ও ফাঁদ জব্দ

এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ই-রিটার্ন দাখিলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের করদাতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া