ই-পেপার বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

ভোটের মতো সুষ্ঠুভাবে গণনা হলে ফলাফল যাই হোক মেনে নেবে জামায়াত

আমার বার্তা অনলাইন:
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৪৫

সারা দিন যেভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, ফলাফলও যদি সেই একই ধারায় অব্যাহত থাকে এবং বড় ধরনের কোনো হস্তক্ষেপ না হয়, তবে কেউ মানুক বা না মানুক জামায়াতে ইসলামী তা মেনে নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মিরপুর-১০ এর সি লাউঞ্জ রেস্টুরেন্টে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ঢাকা-১৫ আসনের উদ্যোগে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের দেশটি ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকবো। দেশটি যদি ভালো না থাকে তাহলে আমরা ভালো থাকবো না। এটা কোনো দল বা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়, দেশ সমাজ ও গণমাধ্যমের সমান অংশীদারিত্ব দরকার।

তিনি বলেন, জামায়াত ও নির্বাচনের ব্যাপারে অনেক শঙ্কা আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছিল। কিন্তু সবকিছু সত্ত্বেও নির্বাচনটা বড় ধরনের ক্যাজুয়ালটি ছাড়াই হয়ে গেছে আলহামদুলিল্লাহ।

নিজের ঢাকা-১৫ আসনে যারাই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন সবার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি যদি নির্বাচিত হই তাহলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, সহযোগিতা পরামর্শ নিয়ে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।

জামায়াত সরকার গঠন করার সুযোগ পেলে সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার কাজে হাত দেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় আমরা যদি সরকার গঠন করার সুযোগ পাই, তাহলে সব দলকেই সাহায্যকারী হিসেবে পাশে পেতে চাইবো। এটা আমাদের আকাঙ্ক্ষা। আমরা এটা দিল খুলে তাদের আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, আমাদের নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে। আমরা মোটেও জবাব দিইনি। আমরা কাজের মাধ্যমে জবাব দিতে চাই।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ন্যাযতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আমরা হিংসার কোনো পরিবেশ জিইয়ে রাখবো না। প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। খোলা ও উদার মন নিয়ে আমরা সম্পর্ক গড়বো, একসঙ্গে কাজ করবো। যার যেটা প্রাপ্ত, ন্যায্যতা অনুযায়ী দেবো। আবার নিজেদের প্রাপ্যটাও আদায় করে নেবো। সম্পর্ক হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার।

এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোর কৃতিত্ব তো আছেই। এই নির্বাচনকে অর্থবহ করে তোলার জন্য, মিডিয়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, নির্বাচন কমিশন, সরকার ও বিদেশি বন্ধুরা আছেন। এবার যে পরিমাণ বিদেশি পর্যবেক্ষক এসেছেন তা অন্য কোনো নির্বাচনে আসেননি। তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি।

ফলাফল যাই হোক সেটা মেনে নেবেন কিনা জানতে চাইলে জামায়াত আমির বলেন, সারাদিন যেভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, সেভাবেই যদি ফলাফলও যদি একই ধারায় অব্যাহত থাকে, বড় ধরনের কোনো হস্তক্ষেপ না হয় তাহলে কেউ মানুক বা না মানুক আমরা মেনে নেব।

তিনি জামায়াতে ইসলামীকে ইতিহাসের একটি দুঃখী দল উল্লেখ করে বলেন, এ দলটি তার জন্মের পর থেকে নিষিদ্ধ হয়েছে। কখনো নিষিদ্ধ হওয়ার পরে গোড়াতেই দলের হাল যারা ধরেছিলেন এখন তারা কেউই দুনিয়াতে নেই। তারা সবাই চলে গেছেন। কিছু নেতৃবৃন্দ স্বাভাবিকভাবে তাদের কাজ করেছেন। আর কিছু নেতৃবৃন্দ জুলুমের শিকার হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। আজকের আবেগ মুহূর্তে তাদের জন্য আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করি তারা যেন আল্লাহর কাছ থেকে উত্তম পাওনা দেন।

জামায়াত আমির বলেন, সারা দেশে নির্বাচনের প্রাথমিক তথ্য আসতে শুরু করেছে। এখনই অগ্রিম কিছু বলা আমাদের জন্য সহজ না। প্রাথমিক যে ফলাফল আসতে শুরু করেছে তাতে জনগণের আস্থার একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এটাকে নিশ্চয়তার জন্য অপেক্ষা করা উচিত। এখন গণনা শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, যদি জাতির কোনো দায়িত্ব মহান আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় আমাদের ওপরে আসে আপনাদের আমার পাশে পেতেই হবে। আপনারা যদি আমাকে সাহায্য করেন আমাদের সাহায্য করেন তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা এ দেশ জাতির জন্য কাজ করবো। আমাদের ভুল হলেও আমাকে ছাড়বেন না। যুক্তি সমালোচনা সহকারে তুলে ধরবেন।

নির্বাচনকালে জামায়াতে ইসলামীর নিউজ কভারেজের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, আমরা চাইবো আমাদের মিডিয়া জগৎ যেন এখানে পূর্ণ স্বাধীনতা পায় তবে সে স্বাধীনতাটা হতে হবে আমার স্বাধীনতা দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য দেশের সার্বভৌমত্ব৷ স্বাধীনতার কোনো ক্ষতি হয় এমন কোনো স্বাধীনতা ব্যক্তি পর্যায়ে হোক সমষ্টি পর্যায়ে হোক কারো জন্যই কাম্য না। কারণ দেশের আমরা এটুকু আপনাদের কাছে আশা করবো।

এ পর্যন্ত যে সমস্ত ফলাফল এসেছে বেশিরভাগ জায়গায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে আলহামদুলিল্লাহ আমাদের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। কিন্তু এটাকে এখনই নিশ্চয়তা বিধান করার মত পর্যায়ে আসেনি। আমাদের আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, এবারকার ইলেকশনের বেশ কতগুলো বৈশিষ্ট্য ছিল। এর মধ্যে একটি ছিল, গত তিনটি নির্বাচন পর পর আমরা ভোট দিতে পারিনি। বাইরে যারা ছিলেন তারাও পারেনি। আমরা যারা জেলে ছিলাম তাদের তো আর কোনো সুযোগই ছিল না।

দ্বিতীয়ত, প্রবাসীরা এই জীবনের প্রথম তারা ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন এবং ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। যদিও এই সংখ্যাটা উল্লেখযোগ্য না। তারপরে আমরা আনন্দিত যে ধারাটা শুরু হয়েছে। আগামীতে এটা আরো এগিয়ে যাবে আমরা আশা করি। আমাদের প্রবাসীরা আমাদের জাতীয় জীবনে অতি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। কিন্তু তাদের প্রাপ্যটা তারা আমাদের কাছ থেকে পান না। আমরা চিন্তা করলাম যে প্রাপ্য আদায় করতে হলে কোন জিনিসটা তাদের বেশি দরকার। তখনই আমাদের মনে হলো যে ভোটের অধিকারটাই তাদের আদায় হওয়া উচিত। এই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে বাকি অধিকারগুলো এর হাত ধরে চলে আসবে ইনশাল্লাহ। তারা আমাদেরই সন্তান আমাদেরই ভাই। আমাদের তারা দিয়ে যাচ্ছে বুক কলিজা উজাড় করে। কিন্তু আমরা যদি তাদের প্রতি সেই দায়িত্বটা আরো সুন্দরভাবে পালন করতে পারি তাহলে তাদের এই দেওয়ার গতিটা আরো বাড়বে। উৎসাহ তাদের বাড়বে। আর তারা যদি দেখে শুধু দিচ্ছে কিন্তু সরকার দেশ জাতি তাদের সেইভাবে সম্মানটুকু দিচ্ছে না তাহলে যেটুকু আমরা তাদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে পাই সেটাও থাকবে না।

তিনি বলেন, আমি অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে শুধু ফিনান্সিয়াল রেমিট্যান্স আনার পক্ষে না আমি যেখানেই গিয়েছি বিদেশের মাটিতে আমাদের প্রবাসীদের আমি আহ্বান জানিয়েছি যে ফিনান্সিয়াল রেমিটেন্সের পাশাপাশি আমাদের ইন্টেলেকচুয়াল রেমিটেন্স দরকার দেশকে গড়ার জন্য।

বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে জামায়াত আমির বলেন, আমাদের এবারকার এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শুধু বাংলাদেশি না প্রবাসী বন্ধুরা আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। তারা আমাদের ইশতেহার রচনা, পলিসি ডায়ালগ থেকে শুরু করে পলিসি পেপার তৈরি করা প্রত্যেকটি খুঁটিনাটি বিষয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। আমি তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি বিদায়ী আন্দোলনে যখন তারা ঘোষণা দিল যে এখন থেকে আর একটা টাকার বা রেমিট্যান্স বাংলাদেশে পাঠাবো না। স্টপ রেমিট্যান্স। তখনই কিন্তু তৎকালীন সরকারের ভীত নড়েছিল। এটুকু করে তারা বসে থাকতে পারতেন। এটাই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু না তারা বসে থাকেননি। বহু দেশে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা, অমান্য করে তারা রাস্তায় নেমেছেন, আন্দোলন করেছেন, মিছিল করেছেন, স্লোগান তুলেছেন। স্বৈরশাসনের পতনের জন্য। যার কারণে শুধু সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ২৩৭ জনকে বন্দি করে তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ক্রমান্বয়ে তারা মুক্তি পেয়েছেন দীর্ঘদিন পরে কেউ কেউ জেলের ভিতরে মারাও গিয়েছে। এরকম যারা ইন্তেকাল করেছেন আমি তাদেরকে আলাদাভাবে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।

তিনি বলেন, তাদের (প্রবাসী) স্থায়ী স্বীকৃতির জন্য কি করা যায় সেটা নিয়ে ভাববো। জামায়াত এটাও ভাবছে যে ভবিষ্যতে সুযোগ আসলে ইনশাআল্লাহ তারা যে হারে বিদেশে অবস্থান করলে সেই হারে তাদের জন্য কমফোর্ডেবল জায়গা আমাদের সরকারে তৈরি দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তখন তাদের অংশীদারিত্বটা আরো বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, জুলাই যুদ্ধে যে মা, মেয়েরা রাস্তায় নেমেছিলেন জীবন, ইজ্জতের ঝুঁকি নিয়ে তাদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং আমরা চেষ্টা করবো তাদের মর্যাদার আসনে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে।

আমার বার্তা/এমই

চার-পাঁচজন উপদেষ্টার কাছে গিয়েও ‘হেল্প’ পাইনি: মাহফুজ আলম

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে উপদেষ্টা থাকাকালীন কয়েকজন সহকর্মীকে নিয়ে সমালোচনা করেছেন জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচিত মাহফুজ

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ৮টি ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচির বুকলেট কপি প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ৮টি ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচির বুকলেট কপি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়েছেন দলটির

সাবেক মেয়র মনজুরের বাসা থেকে বেরিয়ে প্রশ্নের মুখে হাসনাত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়ে ‘জুলাই যোদ্ধা’

পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে ভাইরাল সেই ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন মাসুদ অরুণ

মেহেরপুর সদর উপজেলার বলিহারপুর গ্রামে গত ১১ এপ্রিল বিকালে জিয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করতে
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলে পাঠানো অস্ত্রের চালান জব্দ করলো বেলজিয়াম

চার-পাঁচজন উপদেষ্টার কাছে গিয়েও ‘হেল্প’ পাইনি: মাহফুজ আলম

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন ২০২৬ স্থগিত ঘোষণা

১৬ এপ্রিল ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা

রাশিয়ার তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন পেল বাংলাদেশ

প্রচণ্ড গরমে ব্যায়াম বা হাঁটার সময়ে সতর্কতা

ইসলামিক ফাউন্ডেশনে পুনরায় জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করলেন বিল্লাল বিন কাশেম

বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৫ ইউনিট

‘টাইম’র ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় তারেক রহমান

‘সুপারনিউমারারি পদোন্নতি’ পাওয়া ডিআইজিসহ পুলিশের ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি

প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নীতি সহায়তা চান পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকরা

মালদ্বীপের ‘পোল-অ্যান্ড-লাইন’ টুনা মাছ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত

অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নের বিকল্প নেই: অর্থ উপদেষ্টা

সেন্টমার্টিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ইউনূস-রিজওয়ানারা মানবসভ্যতার শত্রু

লেভেল থ্রি-কোর্সে প্রথম রাজ্জাক, দ্বিতীয় হান্নান যৌথ তৃতীয় নাফীস-ডলার

কর্ণফুলি টানেলকে কর্যকর করতে পণ্যবাহী যাতায়াত বাড়ানো প্রয়োজন

সদরঘাটে ৪০ লাখ টাকার জাল নোটসহ যুবককে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ

আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের পাশে থাকতে চায় যুক্তরাজ্য

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

যাত্রাবাড়ী ও উত্তরায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৬২ জন