ই-পেপার রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

যমুনা অয়েলে একক আধিপত্য: পাঁচ পদে মাসুদুল, নতুন এমডি চাপে

মোস্তফা সারোয়ার:
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:২৯
আপডেট  : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৩৭

গেল বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল বিকেল সোয়া চারটায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের নতুন এমডি হিসাবে দায়িত্ব নেয় মো: ইউসুফ হোসেন ভুইয়া । রোববার ছিল তার দ্বিতীয় কর্মদিবস । এর মাঝে আজ ১৯ এপ্রিল দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে প্রতিষ্ঠানটির জিএম এইচ আর মাসুদুল ইসলাম অফিস কক্ষেই অতর্কিত হামলা চালায় সাবেক ডিজিএম এইচ আর বর্তমানে ডিজিএম সেলস মো: হাসান ইমামের উপর । একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি চলে কিছুক্ষন। তাৎক্ষনিক বিষয়টি এমডিকে মৌখিক ভাবে জানিয়েছেন হাসান ইমাম। অবশ্য জিএম এইচ আর এর অত্যাচারে অনেকটা বাধ্য হয়ে চলতি মাসের ১৩ তারিখে তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগও করেছিল, কিন্তু পরের দিন সদ্য বিদায়ী এমডি প্রকৌশলী আমির মাসুদের অনুরোধে সেই পদত্যাগ পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে হাসান ইমাম । যমুনা ওয়েলের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তাদের দাবী পুরো প্রতিষ্ঠানটি জিম্মি হয়ে আছে মাসুদুল ইসলাম সিন্ডিকেটের কাছে । প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে সবকটি ডিপোতে রয়েছে তার সিন্ডিকেট সদস্য।

এক সাথে পাঁচ পদের দায়িত্বে

২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির জিএম এইচ আর পদে দায়িত্ব পান মো: মাসুদুল ইসলাম। সেই থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে পাকাপোক্ত করে তুলেছেন। তার ইচ্ছেই চলছে যমুনা ওয়েলের সকল প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড। মার্কেটিং কিংবা হিউম্যান রির্সোস ম্যানেজম্যান্টের উপর নুন্যতম কোন ডিগ্রী নেই, শিক্ষাগত যোগ্যতা বিকম তৃতীয় শ্রেনী,শুধু মাত্র চাটার্ড একাউন্টেসী কোর্স কমপ্লিট অথচ তিনি একই সাথে মহাব্যবস্থাপক মানবসম্পদ, মহাব্যবস্থাপক বিপনন, কোম্পানি সচিব, বিটুমিন সরবরাহ এবং অর্থ বিনিয়োগ কমিটির আহবায়কও। এছাড়া অল্প কয়দিন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রুটিন দায়িত্বও পালন করেছে৷ যমুনা অয়েলের প্রধান কার্যালয়ে আছে এই কর্মকর্তার পৃথক পৃথক তিনটি চেম্বার। অফিসারদের চেম্বার বন্টনের দায়িত্বেও তিনি ।এর সব কিছুর মুলে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুস্তফা কুদরুত -ই ইলাহির আর্শীবাদে। পরবর্তীতে অবশ্য প্রকৌশলী আমির মাসুদ নতুন এমডির দায়িত্ব নেয়ার পরেও সেই আগের মতোই ছিল মাসুদুল ইসলামের ক্ষমতা। ইতিমধ্যে নতুন এমডি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছে মো: ইউসুফ হোসেন। হয়তোবা তিনিও আগের এমডিদের মতো সমীহ করবেন মাসুদুল ইসলামকে, এমনটাই ধারণা করেছে যমুনা অয়েলের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। যদিও ২০১৬ সালে যমুনা ওয়েলের আভ্যন্তরিন একটি তদন্ত কমিটি রিপোর্টে এই মাসুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। এমনকি তৎকালীন সময়ে তদন্ত কমিটি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশও করেছিল। কিন্তু যেই লাউ সেই কদু। বরং গত ২৭ নবেম্বর ২০২৫ তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রুটিন এর দায়িত্বও পায়, ছিলেন ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। দায়িত্ব পেয়েই প্রথমে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সব চেয়ে বেশী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ডিপো অপারেশন ইনচার্জ শেখ জাহিদ আহমেদকে পদায়ন করে এজিএম (ডি, বি) ইনচার্জের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে।

মাসুদুল ইসলামের মহা জালিয়াতি

প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলী সব কিছুতে মাসুদুল ইসলামের একক নিয়ন্ত্রণ। কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বও তিনিই করে থাকেন । চলতি বছরের ২৬ ফেব্রয়ারী ডিজিএম এইচ আর মোহাম্মদ হাসান ইমামের স্বাক্ষরে তিন সিবিএ নেতাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় । এই তিন সিবিএ নেতার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে একাদিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আমার বার্তা। এদের বিরুদ্ধে গঠিত হয়েছে একাধিক তদন্ত কমিটিও। তবে বরাবরই এই তিন সিবিএ নেতার হয়ে প্রকাশ্যে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে জিএম এইচ আর মাসুদুল ইসলামের বিরুদ্বে। কিন্ত মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত এদেরকে এযাত্রায় বাঁচাতে পারেনি তিনি। বরখাস্তকৃত সিবিএ নেতাদের একজন আবুল হোসেন। তিনি যমুনা অয়েল লেবার ইউনিয়নের সভাপতি ও নিষিদ্ধ সংগঠন জাতীয় শ্রমিকলীগ বন্দর থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক। সাময়িক বরখাস্তকৃত সিবিএ এই নেতাকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে ২১ জুলাই হতে ৯ আগষ্ট ২০২৫ পর্যন্ত বিশেষাধিকার ছুটি ভোগ করেন। এরপর অনুপস্থিত,প্রাপ্ত তথ্য মতে কোতোয়ালী থানার জি আর মামলা নাম্বার ৪১৫/২০২৫ আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করে ২১ জুলাই চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজেষ্টেটের আদালতে প্রেরন করে। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করে। এমতাবস্থায় সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। অনুরুপ যমুনা ওয়েলের অপর সিবিএ নেতা এয়াকুবের বেলায়। এই সিবিএ নেতার বরখাস্তের চিঠিতে বলা হয়েছে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১২ জানুয়ারী ২০২৬ পর্যন্ত ছুটি ভোগ করেছে, এর পর অনুপস্থিত। প্রাপ্ত তথ্যমতে চান্দাগাও থামায় একটি মামলায় তাকে ১৩ ডিসেম্বর গ্রেফতার হয়ে, ১৪ ডিসেম্বরে আদালতের মাধ্যমে জেল খানায় প্রেরন করেছে ৷ এমতবস্থায় তাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয় । মজার বিষয় হলো এই দুই সিবিএ নেতা যেদিন গ্রেফতার হলেন, সেদিন থেকেই ছুটি মন্জুর হলো কিভাবে? তাছাড়া পুলিশ হেফাজতে থেকে তারা ছুটির আবেদনই বা করলো কিভাবে? অভিযোগ উঠেছে মাসুদুল ইসলাম নিজেই এদের স্বাক্ষর দিয়ে ছুটির আবেদন করে এবং পরবর্তীতে তিনি নিজেই তা মন্জুর করেন৷ মাস দেড়েক আগে এই দুই সিবিএ নেতা জামিনে জেল হাজত থেকে বের এসেছে । এরপরই এদের সাসপেন্ড প্রত্যাহারের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে মাসুদুল ইসলাম। এমনকি সকল প্রক্রিয়াও শেষ করেছিল । অভিযোগ উঠেছে ইতিমধ্যে এক কোটি বিশ লাখ টাকার রফাদফায় সিবিএ নেতা মুহাম্মদ এয়াকুবের সাসপেন্ড প্রত্যাহারের বিষয়টি চুড়ান্তও করেছিল তিনি । তারই মধ্যস্থতায় টাকার বিষয়টি রফাদফাও হয়েছিল সদ্য বিদায়ী এমডি প্রকৌশলী আমির মাসুদের সাথে, কিন্তু তাকে হুট করে এমডি পদ থেকে ছড়িয়ে দেয়ার তাদের প্লান ভেস্তে গেছে।

এদিকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাবাদীদের ভালো জায়গায় পোষ্টিং ও পদোন্নতি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মাসুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে৷ কোন নীতিমালা ও বিভাগীয় প্রধানদের সুপারিশ তোয়াক্কা না করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গত বছরের আগষ্টে তার ইচ্ছে মতো পাঁচ জনের নামের প্রস্তাব পাঠায় পদোন্নতি সভায়। পরবর্তীতে সকলেই পদোন্নতিও পায়৷ যমুনা অয়েল সুত্রে জানা গেছে ২০২৫ সালের ৩১ আগষ্ট মাসুদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত পদোন্নতি প্রাপ্ত তালিকাদের মধ্যে অন্যতম হলো কুতুবউদ্দিন হোসেন৷ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থেকে জুনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতি পাওয়া কুতুবউদ্দিন হলো নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক, সাবেক মেয়র আজম নাসিরের চাচাতো ভাই । বিগত আওয়ামিলীগ সরকারের আমলে আজম নাসিরের হাত ধরেই তার চাকরীতে যোগদান। তবে চাকরিতে যোগ দেয়ার পর থেকেই অফিসের কোন শৃঙ্খলা তোয়াক্কা করেননি। ইচ্ছে হলে অফিসে এসেছে ইচেছ না হলে আসেনি। তার এহেন কর্মকাণ্ডের জন্য একবার খুলনা বিভাগীয় অফিসে বদলী করা হলেও আজম নাসিরের ক্ষমতার দাপটে সেই বদলি স্থগিত হয়ে যায়৷ কিন্তু বিতর্কিত এই কর্মচারীকে নিজের ইচেছমতো পদোন্নতি দিয়েছে জিএম এইচ আর মাসুদুলু ইসলাম। দ্বিতীয় পদোন্নতির তালিকায় আছে মো: সহীদুল আলম, তাকেও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থেকে জুনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে । তার চাকরিও হয়েছে বিগত আওয়ামিলীগ সরকারের আলমে, তাও আবার রাউজানের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর আর্শীবাদে। এছাড়া সহীদুল আলম ছিল ছাত্রলীগের সাবেক দুর্ধর্ষ ক্যাডার ও রাউজান ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্রলীগের মনোনীত সাবেক ভিপি । বিগত সরকারের আমলে একদিনের জন্যও অফিসে যেতে হয়নি তাকে। কিন্তু তাকে দেয়া হয়েছে পদোন্নতি । পদোন্নতির তালিকায় আরও আছে ছাত্রলীগের ক্যাডার শেখ কামাল, ইকরাম ও মীর আরিফ। তাদের প্রত্যেককে কেরানি থেকে জুনিয়র অফিসার পদোন্নতি দেয়া হয়েছে ।

গেল বছরের শেষের দিকে ফতুল্লা ডিপোতে পৌনে চার লাখ লিটার ডিজেল গায়েব হওয়ার ঘটনায় একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমাও দেয়া হয়েছে।সব কটি তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হয়ে কথা বলেছে ফতুল্লা ডিপোর অফিসার ( অপারেশন) ইমরান হোসেন। তিনি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন মাসুদুল ইসলাম সিন্ডিকেটের অন্যতম খলিফা জয়নাল আবেদীন টুটুলের বিভিন্ন অনিয়মের ফিরিস্তি ও তেল চুরির কাহিনি। তবে তার এই প্রতিবাদই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাড়ায় । ২৪ নভেম্বর ২০২৫ মাসুদুল ইসলামের স্বাক্ষরে তাকে বদলী করা হয়েছে ঢাকা বিভাগীয় বিক্রয় অফিসে ( অফিসার সেলস পদে)। এদিকে এজিএম টার্মিনাল (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাকছুদুর হলো জিএম এইচ আর মাসুদুল ইসলামের আরেকজন অত্যান্ত বিশ্বস্ত সহোচর। বিগত সময় চাকরী করেছে হিসাব শাখায় কিন্তু বছর খানিক আগে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয় এজিএম টার্মিনাল পদে ( অতিরিক্ত দায়িত্ব) ৷ অপারেশন বিভাগে কাজ করার নুন্যতম অভিজ্ঞতা নেই,কিন্তু সেই মাকছুদুর রহমানকে ১১ নবেম্বর ২০২৫ তারিখে এজিএম টার্মিনাল পদে চলতি দায়িত্বে পদায়ন করে মানব সম্পদ বিভাগের জিএম এই মো : মাসুদুল ইসলাম৷ সম্প্রতি তার সিন্ডিকেটের অন্যতম দুই সদস্য এজিএম সেলস সৈয়দ সফিকুর রহমান ও মোংলা ডিপো ইনচার্জ আল আমিন খানকে তেল চুরির অভিযোগে সাসপেন্ড করেছে । তবে এখনো সক্রিয় আছে তার সিন্ডিকেট অন্যান্য সদস্যরা। এই৷ তালিকায় আছে দৌলতপুর ডিপোর সিবিএ নেতা দেলোয়ার হোসেন বিশ্বাস, বাঘাবাড়ি ডিপোর ইনচার্জ আবুল ফজল সাদেকিন, এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মাহবুবুল আলম ( কোন নিয়মনীতি ছাড়াই মাহবুবল আলম একই ডিপোতে পাঁচ বছর ধরে চাকরি করছে) , পার্বতীপুর ডিপো থেকে সদ্য বদলীকৃত আইয়ুব আলী ( সিবিএ নেতা এয়াকুবের সহোদর) , ভৈরব ডিপোর ডেপুটি ম্যানেজার মতিয়ার রহমান , ধীমান কান্তি দাস মানেজার ( ফাইনান্স) ও হোসেন মোহাম্মদ ইয়াহিয়া ডেপুটি ম্যানেজার (এডমিন) এমডির দপ্তর প্রধান কার্যালয়।

মাসুদুল ইসলাম সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ধীমান কান্তি দাস ও হোসেন মোহাম্মদ ইয়াহিয়া নামক যমুনা অয়েলের এই দুই কর্মকর্তা । প্রথম জন ২০০৭ সালে একাউন্টস অফিসার হিসাবে প্রধান কার্যালয়ে যোগদান করে। বর্তমানে ম্যানেজার ( ফাইনান্স)। দ্বিতীয় জনের চাকরিতে যোগদান ২০১১ সালে। দীর্ঘ চাকরি জীবনে এদের কোনো বদলী নাই৷ যদিও ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর বিপিসির সমন্বিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে তাদের অধীনস্থ কোম্পানি সমুহে ৩ বছরের অধিক কর্মরত, ওদেরকে বদলী করতে। কিন্তু এই দুজনের বেলায় কিছুই হয়নি৷ বরং হোসেন মোহাম্মদ ইয়াহিয়া দেখভালের দায়িত্ব পালন করছে এমডির গোপনীয় সহকারে হিসাবে৷ এমডির দপ্তরে যেকোনো অভিযোগ গেলে তার হাত দিয়েই যেতে হয়৷ তাই তেল চোর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগই নজরে আসেনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের।

এদিকে ২০২০ সালের ২১ জুনে মাসুদুল ইসলাম ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ডিজিম ( একাউন্টস)। সেসময় জিএম অপারেশন বরাবর তার দেয়া একটা চিঠির বিষয়বস্তু হলো তেলের ক্ষতি প্রসঙ্গে। সেই চিঠিতে বলা হয়, মংলা অয়েল ইনষ্টেশন ডিপোর এপ্রিল ২০২০ মাসের এফও এর ট্যাংকে মজুদ এবং লাভ / ক্ষতির সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, তেলের কোনো ধরনের অপারেশন বিহীন ২০ এপ্রিল ২০২০ তারিখে ৩১° সে: তাপমাত্রায় মোট ২৯৯২৫ লিটার কার্যকালীন ক্ষতি দেখানো হয়েছে। উল্লেখিত ক্ষতি কিভাবে সমন্বয় করা হবে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এবং সদয় সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো । তবে এই ঘটনার পাঁচ বছর হয়ে গেলেও কোন সুরাহা হয়নি । অভিযোগ উঠেছে এই ঘটনার সাথে অভিযুক্ত তৎকালীন মংলা ডিপো ইনচার্জ আনিসুর রহমানকে বরিশাল ডিপোর মতো ভালো জায়গায় পোষ্টিংয়ের ব্যবস্থা করে দেয় এই মাসুদুল ইসলাম।এরকম অসংখ্য অভিযোগ মাসুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার আসামির পক্ষ নিলেন জিএম এইচ আর ও বাঘাবাড়ি ডিপো ইনচার্জ।

ডাকাতি মামলায় একটানা জেল হাজতে ছিল এক মাস সতের দিন৷ জামিনে বের হয়ে ফের চাকরীতে যোগ দিলেন। দীর্ঘদিন এই অনুপস্থিতিতির বিষয়টি অফিসকে জানানো হয়েছে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ জানা গেছে সিরাজগন্জের বাঘাবাড়ীর অয়েল ডিপোর অফিস সহকারী( হাজিরা ভিত্তিক) হোসাইন মো: ইসহাক মিল্টন গত ৬ জানুয়ারী ২০২৬ একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়৷ চট্রগ্রামের চন্দনাইশ থানার সেই মামলায় আদালতের জারীকৃত গ্রেফতারী পরোয়ানের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর থানা পুলিশ সেদিন তাকে গ্রেফতার করে । এবিষয়ে ৫ মার্চ আমার বার্তায় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, সেদিনই ইসহাক মিল্টনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে বাঘাবাড়ি ডিপো ইনচার্জ আবুল ফজল মো: সাদেকিন জিএম এইচ আর এর ক্যাশিয়ার হিসাবে পরিচিত। আর এই হোসাইন মো : ইসহাক মিল্টন হলো আবার এই ডিপো ইনচার্জের ক্যাশিয়ার। আবুল ফজল মো: সাদেকিন যেখানেই বদলী হয়ে যান, সাথে করে নিয়ে যায় এই ইসহাক মিল্টনকেও। ওরা দুজন সর্বশেষ চাকরি করেছে পার্বতীপুর ডিপোতে ৷ আবুল ফজল মো. সাদেকিন সেখান থেকে বাঘাবাড়িতে বদলী হয়ে আসার সময় সাথে করে ইসহাক মিল্টনকেও এখানে বদলী করে নিয়ে আছে ৷ তিন বছরের মাথায় বদলীর নিয়ম থাকলেও আবুল ফজল মো. সাদেকিন এখানে চাকরি করে যাচ্ছে নুন্যতম পাঁচ বছরের উপরে।

প্রতিষ্ঠানটিতে মাসুদুল ইসলামের চাকরি জীবন শুরু ১৯৯৬ সালের ১৪ অক্টোবর। কর্মরত অবস্থায় গাড়ি কেনার ঋন পায় একবার কিন্তু তিনি পেয়েছে দুবার। সিনিয়র একাউন্টস সময়কালী গাড়ি কিনতে ঋন নিয়েছে । এদিকে জিএম এইচ আর হওয়ার পর আগের ঋন সারেন্ডার করে নতুন করে আবেদন করে। পেয়েও যায় বিশ লাখ টাকার ঋন, কিন্তু গাড়ি না কেনে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে সেই টাকা । অবশেষে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে বছর খানিক পরে সেই টাকা ফেরত দেয় মাসুদুল ইসলাম। চাকরি জীবনে মালিক হয়েছে শত কোটি টাকার। চট্টগ্রাম হালিশহরের ব্লক এল, লেইন -১ রোড -১ বাড়ি নং ২২ দ্বিতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট রয়েছে তার । চউক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বাকলিয়ার কম্পোলেক আবাসিক প্রকল্পে আছে দুটো প্লট। ইতিমধ্যে একটি প্লটে ভবন নির্মাণ শুরু করেছে। একই এলাকায় আছে বৃহৎ একটি ডেইরি ফার্ম। বিনিয়োগ করে রেখেছে চট্টগ্রাম ষ্টক এক্সচেঞ্জে নামে বেনামে শত কোটি শেয়ার । এ সকল অভিযোগের বিষয়ে মাসুদুল ইসলামের সাথে কথা বলার জন্য একাধিকবার ফোন দেয়া কিন্তু তিনি ফোন ধরেনি, পাঠানো হয় ক্ষুদে বার্তা, এতেও তিনি সাড়া দেয়নি।

আমার বার্তা/এমই

ইসলামিক ফাউন্ডেশনে পুনরায় জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করলেন বিল্লাল বিন কাশেম

দেশের বিশিষ্ট কবি, লেখক ও এক সময়ের তুখোড় সাংবাদিক বিল্লাল বিন কাশেম সোহেল আবারও ইসলামিক

সিসি ক্যামেরায় ৫ লাখ টাকার ঘুষ গ্রহণের দৃশ্য, ঢাকায় কোটি টাকার ফ্ল্যাট

আওয়ামী লীগ আমলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) বিসিএস কর্মকর্তা মুহাম্মাদ নাসির উদ্দিনকে জুলাই

সংসদে হেড ফোন কেলেঙ্কারি, অনুসন্ধান শুরু দুদকের

" সংসদে হেড ফোন কেলেঙ্কারি, ৫ কোটি টাকার সাউন্ড সিষ্টেম অচল " শিরোনামে ১৪ মার্চ

তেল বরাদ্দে অনিয়ম, যমুনার এজিএম (সেলস) সাময়িক বরখাস্ত

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ফতুল্লা ডিপো হতে অতিরিক্ত তেল সরবরাহের অভিযোগে
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাস-লঞ্চ ভাড়া নির্ধারণ কমিটি পুনর্গঠনের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

ঘাটতি মেটাতে ৭ লাখ টন ইউরিয়া আমদানির উদ্যোগ: সংসদে শিল্পমন্ত্রী

ব্যবসা সহায়ক ও প্রবৃদ্ধিমুখী বাজেটের দাবি এমসিসিআই’র

ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন ঋতুপর্ণা-নিয়াজ মোর্শেদরা, নেই হামজা-সামিত

দক্ষ ও মানবিক প্রশাসন গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই: প্রতিমন্ত্রী

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে বাড়লো ২১২ টাকা

একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা-ডাটাবেইজ তৈরি করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি নিয়ে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে সরকার

এলপিজি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার: বিদ্যুৎমন্ত্রী

লোকজ ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির ছোঁয়ায় এনইউবিতে বৈশাখ উৎসব অনুষ্ঠিত

আইএমএফের অনেকগুলো শর্ত আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে অর্থমন্ত্রী

জুলাইয়ে অস্ত্র হাতে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন শামীম ওসমান, অভিযোগ প্রসিকিউশনের

যমুনা অয়েলে একক আধিপত্য: পাঁচ পদে মাসুদুল, নতুন এমডি চাপে

স্কুলে সংস্কৃতিচর্চা নিশ্চিত হলে দেশে উগ্রবাদের স্থান হবে না: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

আইএমএফের সঙ্গে তেলের দাম বাড়ানোর সম্পর্ক নেই: অর্থমন্ত্রী

ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এফবিসিসিআইকে দেখতে চাই: বাণিজ্যমন্ত্রী

এতো অল্প সময়ে সব জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়: পানিসম্পদ মন্ত্রী

ইরানকে পারমাণবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ট্রাম্প কে: পেজেশকিয়ান

মরক্কোর সার্বভৌমত্বের অধীনে স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনাকে সমর্থন করে ইইউ