
দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অধিনায়কদের নতুন করে সম্মানিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সাবেক অধিনায়কদের সম্মান জানাতে এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান এডহক কমিটি।
দেশের হয়ে অন্তত একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে যারা অধিনায়কত্ব করেছেন, তাদের সবাইকে এই কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাবেক অধিনায়কদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চিন্তা করছে বোর্ড।
এই ক্যাপ্টেনস কার্ড দিয়ে আইসিসি ইভেন্ট, এসিসি ইভেন্ট, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কিংবা বিপিএল যেকোনো ইভেন্টেই স্টেডিয়ামে যেতে পারবেন সাবেকরা। এ ছাড়া এই কার্ডধারী কেউ অসুস্থ হলে বিসিবির মেডিকেল টিম তার জন্য সবসময় অ্যাভেইলেবল থাকবে। কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগবে না।
দেশের ক্রিকেটের বিভিন্ন সময়ের অধিনায়করা একই ছাদের নিচে উপস্থিত হন। দেশের মোট ৩২ অধিনায়ক এই সম্মাননা পেয়েছেন। ২৭ জন পুরুষ অধিনায়ক ও ৫ জন নারী অধিনায়ক পেয়েছেন বিশেষ এই কার্ড।
এই কার্ড দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক পেসার তাপস বৈশ্য। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এই যুগের বৈষম্য!! আগে থেকেই খেলা দেখার জন্য অধিনায়কদের জন্য এসি বক্স আর অন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের জন্য সাধারণ গ্যালারি!! আর এখন তো কার্ড!! একদিন ভিডিও করে সকলকে বলব এই যুগেও কেমন বৈষম্য হয়!! অধিনায়করা রাজা আর অন্যরা প্রজা!! অধিনায়ক হলেই তুমি চৌধুরি আর অন্য সতীর্থরা? খেলে তো সকলেই মিলে ১১জন বা ১৪ জন, খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর সকলেই জাতীয় খেলোয়ার!’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘রফিক ভাইয়ের মতো জনপ্রিয় খেলোয়াড় কয়জন অধিনায়ক আছেন…। রফিক ভাই বসবে সাধারণ গ্যালারিতে আর আনকোরা অধিনায়ক এসি বক্সে…। কারো যদি আত্মসম্মান থাকে, তাহলে এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করবে। যারা কার্ড পাইছে তারা করবে না কারণ তারা এখন বাংলা সিনেমার চৌধুরি হইছে। অধিনায়কদের হেলথ ইনসুরেন্স দরকার আর অন্য সতীর্থদের! এই বৈষম্যের কারণে আমি আমার নিজেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়ড় হিসেবে পরিচয় দিতেই লজ্জা বোধ করছি। এই যুগে এটা চরম বৈষম্য। আমি চাই আর যেনো কখনোই কোনো সাবেক খেলোয়াড় বোর্ড সভাপতি না হয়। সব দেখা হয়ে গেছে।’

