শিরোনাম :

  • দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী কাভার্ডভ্যান মালিকদের সঙ্গে আজ বৈঠকে বসবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের বিক্ষোভে নিহত ১০৬ : অ্যামনেস্টি এবার তাণ্ডব চালাবে ঘূর্ণিঝড় ‘কালমেগি’ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নোবেল পাওয়া উচিৎ
লক্ষ্মীপুরে সুপারির বাম্পার ফলন
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :
০৫ নভেম্বর, ২০১৯ ১৪:৪৮:০০
প্রিন্টঅ-অ+


দেশে সুপারি উৎপাদনের অন্যতম জেলা হিসেবে লক্ষ্মীপুরের রয়েছে আলাদা পরিচয়। এবারও লক্ষ্মীপুরে সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। চারদিকেই সুপারির ছড়াছড়ি।

সুপারি এ জেলায় অর্থকরী ফসল হিসেবে বিবেচিত। তাই উৎপাদনও ব্যাপক। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবছর জেলায় উৎপাদিত সুপারির বাজার মূল্য ৩৫০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুরে কৃষিজমির পাশে কিংবা বাড়ির আঙিনায় সারি সারি সুপারি গাছের দৃশ্য মুগ্ধ হওয়ার মতই। এ ফসলটি এ অঞ্চলের মানুষকে মোটা অংকের অর্থের জোগান দিয়ে থাকে। এবার লক্ষ্মীপুরের ৫ উপজেলায় ৬,৭৯৫ হেক্টর জমিতে সুপারি উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য ৩৫০ কোটি টাকা।

উৎপাদনের মৌসুম শুরু হলেই বিভিন্ন সুপারি বাগানের দাদনদাতা এবং সুপারি ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এবারও ইতোমধ্যেই এদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। সুপারির দামও অন্যান্য বছরের তুলনায় ভাল।

লক্ষ্মীপুরের সুপারি কেনা-বেচার জমজমাট মোকামগুলোর মধ্যে রয়েছে- সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর শহর, দালালবাজার, চররুহিতা, ভবানীগঞ্জ, মান্দারী, দত্তপাড়া, জকসিন, রায়পুর উপজেলা শহর, হায়দরগঞ্জ বাজার, সোনাপুর, দেনায়েতপুর, খাসেরহাট, মোল্লারহাট, মীরগঞ্জ, রামগঞ্জ উপজেলা শহর, কাঞ্চনপুর বাজার, করপাড়া বাজার ইত্যাদি।

সুপারি ব্যবসায়ী মো. জামাল জানালেন, মৌসুমের শুরুতে প্রতি পোন (৮০টি) পাকা সুপারি ১৬০ থেকে  ১৮০ টাকা দরে কেনা হয়েছে। বর্তমানে ৯০ থেকে ১২০ টাকা দরে কেনা হচ্ছে। তবে কাঁচা সুপারি কেনা হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। মৌসুমের শুরুতে কাঁচা সুপারি কেনা হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

সুপারি চাষি সোহাগ হোসেন জানান, সুপারি চাষ খুবই সহজ। গাছ বড় হওয়া পর্যন্ত একটু খেয়াল রাখতে হয়। এরপর কষ্ট নেই বললেই চলে। তাছাড়া প্রতি বছরই স্থানীয় বাজারে সুপারির ভালো দাম পাওয়া যায়। এখানকার প্রায় প্রত্যেক বাড়ির আঙ্গিনায় সুপারি বাগান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সুপারি গাছে ফুল আসে। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে এ ফুল পাকাপোক্ত সুপারিতে পরিণত হয়। মূলত কার্তিক আর অগ্রহায়ণ মাসেই সুপারির ভরা মৌসুম। এখানকার সুপারির প্রায় ৭০ ভাগ নদী-নালা, খাল-ডোবা, পুকুর ও পানিভর্তি পাকা হাউজে ভিজিয়ে রাখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আর ৩০ ভাগ সুপারি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ ছাড়াও রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়।

সুপারিগাছ একবার রোপণ করলে তেমন কোনো পরিচর্যা ছাড়াই টানা ৩৫-৪০ বছর ফলন দেয়। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় অন্যান্য ফসলের চেয়ে সুপারিতে বেশি আয় করা যায়। সুপারি বাগানে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কিংবা রোগ-বালাই কম থাকায় এ অঞ্চলের কৃষকেরা সুপারি চাষের দিকে বেশি ঝুঁকেছেন। এ বছর কাঁচা-পাকা সুপারির ভালো দাম পেয়ে খুশি এখানকার চাষি, গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তবে জেলার কোথাও সুপারির প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র না থাকায় অনেক সময় কৃষকেরা সুপারির ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন বলেও জানা গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত) কৃষিবিদ কিশোর কুমার মজুমদার বলেন, ‘এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আধুনিক পদ্ধতিতে সুপারি বাগান করায় এখানকার কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার এ জেলায় সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সচ্ছলতার পেছনে সুপারির অবদান অনস্বীকার্য।





আমার বার্তা/০৫ নভেম্বর ২০১৯/রহিমা


আরো পড়ুন