শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
বিএনপির ‘পকেট কমিটি’ নিয়ে হাতাহাতি
০৬ জানুয়ারি, ২০২২ ১১:০২:২৩
প্রিন্টঅ-অ+

বগুড়ার শাজাহানপুরের আমরুল ও খরনা ইউনিয়নে বিএনপির ওয়ার্ড কমিটিতে অনিয়ম ও পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে আমরুল ইউনিয়নে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।


বুধবার রাতে আমরুল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে এই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।


জানা গেছে, বুধবার রাতে উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর দাখিল মাদরাসা মাঠে ইউনিয়নে ওয়ার্ড কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির গুটি কয়েক নেতা তাদের পক্ষের ১০-১২ জনকে নিয়ে একত্রিত হন। খবর পেয়ে ইউনিয়নের তৃণমূল ত্যাগী নেতাকর্মীরা তাতে বাধা দেন। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও কিলঘুষির ঘটনা ঘটে।


আমরুল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব তমেজ উদ্দিন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মমিন জানান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী হায়দার তোতা, এনামুল হক শাহিনসহ হাতেগোনা দু’একজন নেতা ইউনিয়নের তৃণমূল ত্যাগী নেতা-কর্মীদের না জানিয়ে গোপনে ওয়ার্ড কমিটি করতে এসেছিলেন। এতে বাধা দেওয়া হলে তারা কোনো কথা না শুনে উল্টো তাদের ইচ্ছেমত কমিটি গঠন করেন।


উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান অটল জানান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির গুটি কয়েক নেতা বিএনপিকে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে যা ইচ্ছা তাই করছে। এটা দলের জন্য ক্ষতি বয়ে আনছে।


অপরদিকে একইদিন দুপুরে উপজেলার খরনা ইউনিয়নের বীরগ্রাম এলাকায় একই মঞ্চে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। যা সংগঠনের নিয়ম বহির্ভূত বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।


খরনা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ফজলুল হক উজ্জল জানান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির গুটি কয়েক নেতা তাদের চেয়ার ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। সেজন্য দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে তৃণমূল ত্যাগী নেতা-কর্মীদের না জানিয়ে গোপনে ওয়ার্ড পর্যায় থেকে তাদের পক্ষের লোকজনকে নিয়ে পকেট কমিটি গঠন করছেন। এতে করে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।


উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবুল বাশার জানান, অতীতে শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু বর্তমানে উপজেলা বিএনপির যে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে তা আওয়ামী লীগ ঘেঁষা। এরা ইউনিয়ন থেকে জাতীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষে কাজ করেছে। এখন এসে দলের ক্ষতি করতে দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের না জানিয়ে তাদের পক্ষের গুটি কয়েক লোকজনকে নিয়ে ওয়ার্ড পর্যায়ে পকেট কমিটি করছে। এতে করে ত্যাগী নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে। এভাবে চলতে থাকলে দলের বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সকল কমিটি ভেঙে দিয়ে ত্যাগী নেতাদেরকে নিয়ে নতুন করে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এনামুল হক শাহিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।


উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হাকিম জানান, ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি প্রোগ্রামে যেতে পারেননি। হাতাহাতির খবরও তিনি জানেন না।

আরো পড়ুন