শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
৮০ বছর ধরে নির্জন মঙ্গলপুর গ্রাম!
১৮ জুলাই, ২০২১ ২১:০৬:১০
প্রিন্টঅ-অ+


৮০ বছর ধরে নির্জন গ্রামটি! বোধ হতে পারে গ্রামটি নিশ্চয় ইউরোপ- আমেরিকা কিংবা আফ্রিকার কোন গ্রাম। নাহ গ্রামটি এতো দূরের পথের নয়। এই এশিয়ায় আমাদের বাংলাদেশেরই এই গ্রামটি। যেখানে ৮০ বছর ধরে মানুষের পদচারণা নেই। নেই কোন কোলাহল।  ১৬ কোটি মানুষের এই ছোট্ট দেশটিতে এমন গ্রাম থাকাটা অবাক হওয়ার মতো। যেখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বসবাস করে ১ হাজার ২৬৫ জন মানুষ। গ্রামটিতে মসজিদ, ঈদগাহ, পুকুরসহ বাড়ি-ঘর সবই আছে; কেবল নেই মানুষ। এমন অদ্ভূত গ্রামটি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নে অবস্থিত।

 এতো পরিচিত গ্রামে মানুষ না থাকার পেছনের গল্পটা জানিয়েছেন গ্রামের প্রবীণরা, বহু বছর আগে মহামারি কলেরায় ওই গ্রামের অনেক মানুষ প্রাণ হারান। মহামারি থেকে বাঁচতে গ্রামের মানুষেরা অন্যত্র চলে যান। তখন থেকেই গ্রামটি জনশূন্য হয়ে পড়ে। তারা সে গ্রামে দিনের আলোতে সেই গ্রামে গেলেও বিকালের আগেই ফিরে আসেন। ভূতের ভয়ে সেখানে কেউ রাত্রিযাপন করেন না। অথচ একটা সময় লোকে-লোকারণ্য ছিল গ্রামটি।

 ইতিহাস বলছে, এক সময় মঙ্গলপুর গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস ছিল। সেই গ্রামের জমিদারের নাম ছিল মঙ্গল পাঠান। তার নামেই গ্রামের নাম। মঙ্গল পাঠান ছিলেন প্রতাপশালী। গ্রামে তিন একর জমি নিয়ে বিশাল এক বাড়ি ছিল জমিদার মঙ্গলের। মঙ্গল পাঠান একসময় মারা গেলে তার জমিদারিত্ব হারিয়ে যায়। তার সমাধি এখনো আছে মঙ্গলপুর গ্রামে। তবে সেই বাড়ি ধ্বসস্তূপে পরিণত। বাড়ির চারিদিকে করা ৩০-৪০ ইঞ্চি চওড়া মাটির প্রাচীরেরও অস্তিত্ব নেই। তবে তার সমাধি এখনো জমিদারিত্বের প্রভাব প্রতিপত্তির চিহ্ন বহন করছে।

সম্প্রতি জনশূন্য মঙ্গলপুরে বসতি স্থাপনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে গ্রামটিতে ভূমিহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়েছে। যে কারণে মানুষের আনাগোনাও বেড়েছে।



 


আরো পড়ুন