শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
মুস্তাকিম আল মুনতাজ
ইতিকাফে নিশ্চিত লাইলাতুল কদর
২১ এপ্রিল, ২০২২ ২০:০৭:১৭
প্রিন্টঅ-অ+

‘কদর’ শব্দের অর্থ পরিমাণ নির্ধারণ ও হুকুম। যেহেতু এ রাতে সৃষ্টিকুলের ভাগ্যলিপিতে নির্ধারিত অংশের যেটুকু এ রমজান থেকে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত বাস্তবায়নযোগ্য, তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আদিষ্ট ফেরেশতাদের কাছে স্থানান্তর করা হয়। তাই এ রাতের নামকরণ করা হয় “লাইলাতুল কদর।” এছাড়াও “লাইলাতুল কদর” এর ব্যাপারে তাফসিরবিদরা বেশ কয়েকটি ব্যাখ্যা উল্লেখ্য করেছেন। কদর শব্দের আরেকটি অর্থ হলো- সম্মান ও মাহাত্ম্য। আবু বকর ওয়াররাক (রহ.) বলেন, এই রাতের নাম “কদরের রাত” এ জন্য বলা হয়েছে যে, এ সৌভাগ্যম-ি রাতে মাহাত্ম্যপূর্ণ কিতাব আল-কোরআন মর্যাদাশীল ফেরেশতা হজরত জিবরাঈল (আ.) সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী মহামানব মহানবি (সা.)-এর কাছে নিয়ে আসেন।


মহিমান্বিত পবিত্র শবে কদর মাহে রমজানের শেষ দশকের বে-জোড় সংখ্যার যে কোনো দিন হতে পারে। এর জন্য নির্দিষ্ট কোন দিন বা তারিখ নির্ধারণ করা হয় নি। প্রতিটি বে-জোড় সংখ্যায় শবে কদর তালাশ করার জন্য রাসুল (সা.) উম্মতে মুহাম্মদীকে নির্দেশ দিয়েছেন। যা হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, “হজরত রাসুল (সা.) রমজান মাসের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন এবং বলতেন, “তোমরা রমজানের শেষ দশ  রাতে শবে ক্বদর অনুসন্ধান করো। (বুখারি ও মুসলিম), অন্য আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, “মাহে রমজানের শেষ দশকের বে-জোড় রাতগুলোতে তোমরা শবে কদর অনুসন্ধান করো।” (সহিহ বুখারি)। তবে এই বে-জোড় সংখ্যা কোনটি তা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ২৬ রমজান দিবাগত রাতেই লাইলাতুল ক্বদর আসে বলে উলামায়ে কেরামগণের অভিমত রয়েছে। মুসলমানদের কাছে শবে ক্বদরের রাতের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। এ রাতে প্রতিটি মুমিন হৃদয় মহান রবের ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হয়ে পড়ে। কোরআন তেলাওয়াত, নামাজ, তাওবা-ইস্তিগফার ও জিকির-আজকারে কাটে পুরো রাত্রি।


লাইলাতুল ক্বদরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো-এ গৌরবময় রজনীতে মানবজাতির পথপ্রদর্শক ও মুক্তির সনদ মহাগ্রন্থ ‘আল কোরআন’ অবতীর্ণ হয়েছে। শবে ক্বদর সম্পর্কে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “মহান আল্লাহ তায়ালা এই রাত্রিকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন এবং এই একটি মাত্র রজনীর উপাসনা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক সওয়াব অর্জিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন- “নিশ্চয়ই আমি একে (কোরআন) নাযিল করেছি শবে-কদরে। শবে কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন? শবে ক্বদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।” (সূরা কদর, আয়াত ১-৫)। শ্রেষ্ঠতম এ রাতের ইবাদতে রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম ও বুখারি)


দুই ব্যক্তি বা পরিবারের মধ্যকার ঝগড়া-বিবাদ মিটিয়ে দেওয়া শবে কদরের অন্যতম ইবাদত। রাসুল (সা.) বলেন, “আমি তোমাদের শবে কদর সম্পর্কে অবগত করানোর জন্য বের হয়ে এসেছিলাম। কিন্তু অমুক অমুক ব্যক্তির ঝগড়ার কারণে আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।” (বুখারি)। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, “আমি রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! যদি আমি শবে কদর পেয়ে যাই, তবে আল্লাহর কাছে কী দোয়া করব? রাসুল (সা.) বলেন, “এ দোয়া পড়বে, “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুম তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।” অর্থ : “হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাকারী এবং আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।”


হে সিয়াম সাধক! মোবারকময় এ রজনীর শেষ দশকের প্রত্যেক বে-জোড় সংখ্যার রাত্রিতে শবে ক্বদর তালাশ করি। সৌভাগ্য প্রদীপ জ্বেলে খোদার রহমতের চাদরে আবৃত করিÑপাপ-পঙ্কিলতায় ভরপুর আমাদের জীবনকে। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।


লেখক : শিক্ষার্থী, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ।



mustakimmuntaj18@gmail.com 


 



 

আরো পড়ুন