শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
মো. জোবাইদুল ইসলাম
মৌমাছি আল্লাহর বিস্ময়কর সৃষ্টি
২৬ মে, ২০২২ ২১:৫১:৩৪
প্রিন্টঅ-অ+

মৌমাছি আল্লাহর এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। আল কুরআনে যেসব কীট-প্রতঙ্গের বর্ণনা এসেছে তন্মধ্যে মৌমাছি অন্যতম। মৌমাছির নামে একটি সূরার নামকরণও করা হয়েছে তা হলো সুরা আন নাহল। এ সুরায় আল্লাহ তায়ালা মৌমাছি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, তোমার রব মৌমাছির অন্তরে ইঙ্গিত দ্বারা নির্দেশ দিয়েছেন যে, তুমি গৃহ নির্মাণ কর পাহাড়, বৃক্ষ এবং মানুষ যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে। (সূরা আন নাহল : ৬৮)


পরের আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, এরপর প্রত্যেক ফল হতে কিছু কিছু আহার কর, অতঃপর তোমার রবের সহজ পথ অনুসরণ কর। ওর উদর হতে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয়, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিষেধক। অবশ্যই এতে রয়েছে নিদর্শন চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য। (সূরা আন নাহল : আয়াত ৬৯)


আলোচ্য আয়াত দুটিতে আল্লাহ তায়ালা মৌমাছি সম্পর্কে আলোচনার পাশাপাশি তাদের দ্বারা সৃষ্ট মধুর গুণাগুণও বর্ণনা করেছেন। মধু সাদা, হলদে, লাল ইত্যাদি বিভিন্ন রঙ-এর হয়ে থাকে। ফল, ফুল ও মাটির রঙ-এর বিভিন্নতার কারণেই মধুর এই বিভিন্ন রং হয়ে থাকে। মধুর বাহ্যিক সৌন্দর্য ও চমকের সাথে সাথে ওর দ্বারা রোগ হতেও আরোগ্য লাভ হতে থাকে। আল্লাহ তায়ালা এর দ্বারা বহু রোগ হতে আরোগ্য দান করে থাকেন। 


আয়াতে ‘তোমার রবের সহজ পথ অনুসরণ কর’ দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে চলুন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। কোন নতুন বাগান বা ফুলের সন্ধান পাওয়ার পর একটি মৌমাছি আবার মৌচাকে ফিরে যায় এবং মৌমাছি নৃত্য নামক আচরণের মাধ্যমে তার সহকর্মী মৌমাছিদেরকে সেখানে যাওয়ার সঠিক গতিপথ ও মানচিত্র বলে দেয়। অন্যান্য শ্রমিক মৌমাছিকে তথ্য দেয়ার লক্ষ্যে এ ধরনের আচরণ আলোকচিত্র ও অন্যান্য পদ্ধতির সাহায্যে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। মৌমাছি প্রত্যাবর্তনের সময় সরাসরি নিজেদের মৌচাকে পৌঁছে যায়। উঁচু পাহাড়ের চূড়া হোক, মরু প্রান্তর হোক, বৃক্ষ হোক, লোকালয় হোক, জনশূন্য স্থান ইত্যাদি যে স্থানই হোক না কেন ওরা পথ ভুলে না। যত দূরেই গমন করুক না কেন ওরা প্রত্যাবর্তন করে সরাসরি নিজেদের মৌচাকে নিজেদের বাচ্চা, ডিম ও মধুতে পৌঁছে যায়। 


আলোচ্য আয়াত দুটিতে মহান আল্লাহ তায়ালা মৌমাছিকে নির্দেশ দেয়ার জন্য স্ত্রীবাচক শব্দ ব্যবহার করেছেন। আগে মানুষ ভাবত কর্মী মৌমাছিরা পুরুষ এবং ঘরে ফিরে এসে তাদেরকে একটি রাজা মৌমাছির কাছে জবাবদিহিতা করতে হয়। কিন্তু এটা সত্য নয়, কারণ আল্লাহ তায়ালা কুরআনে স্ত্রীবাচক শব্দ ব্যবহার করেছেন যা প্রমাণ করে শ্রমিক মৌমাছিরা স্ত্রী এবং তারা রাজা নয় বরং রাণী মৌমাছির কাছে জবাবদিহিতা করে। 


আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যাতে রয়েছে মানুষের জন্য রোগের প্রতিষেধক। অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মধুতে মানুষের জন্য আরোগ্য রেখেছেন। এ সম্পর্কে হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি লোক রাসূল (সা) এর কাছে এসে বললো, আমার ভাই-এর পেট ছুটে গিয়েছে। (অর্থাৎ খুব পায়খানা হচ্ছে)। তিনি বলেন, তাকে মধু পান করিয়ে দাও। সে গেল এবং তাকে মধু পান করালো। আবার সে আসলো এবং বললো, হে আল্লাহর রাসূল (সা)! তার রোগ তো আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি এবারও বললেন, যাও, তাকে মধু পান করাও। সে গেল এবং তাকে মধু পান। করালো। পুনরায় এসে সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! তার পায়খানা তো আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বললেন, আল্লাহ সত্যবাদী এবং তোমার ভাই-এর পেট মিথ্যাবাদী। তুমি যাও এবং তাকে মধু পান করাও। সে গেল এবং তাকে মধু পান করালো। এবার সে সম্পূর্ণরূপে আরোগ্য লাভ করলো। (বুখারী ও মুসলিম)


হযরত ইবনু আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, তিনটি জিনিসে শিফা বা রোগ মুক্তি রয়েছে। শিঙ্গা লাগানো, মধুপান এবং (গরম লোহা দ্বারা) দাগ দিয়ে নেয়া। কিন্তু আমার উম্মতকে আমি দাগ নিতে নিষেধ করছি। (বুখারী)


আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সৃষ্টি এই ক্ষুদ্র পতঙ্গ মৌমাছির সৃষ্ট ঘরটি দেখলে বিস্মিত হতে হয়। ওটা কতই না মজবুত, কতই না সুন্দর এবং কতই কারুকার্য খচিত! 


লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলামিস্টমীরসরাই, চট্টগ্রাম।


mdjobaidulislam04@gmail.com

আরো পড়ুন