শিরোনাম :

  • ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৬ মৃত্যু শনাক্ত আরও এক হাজার ৩৮৬ জনকরোনায় আক্রান্ত তসলিমা নাসরিনআজকের মেঘমালা দেশের ৭০ ভাগ অঞ্চলকে ছুঁয়েছেসিলেটের নতুন বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান
টাঙ্গাইলে পাহাড়পুর-ভাওড়া সড়ক ৮ কিলোমিটারে লাখো মানুষের দুর্ভোগ
রাব্বি ইসলাম, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ-
১৯ এপ্রিল, ২০২১ ১৫:৫৩:০০
প্রিন্টঅ-অ+

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাহাড়পুর-ভাওড়া-কামারপাড়া সড়কের ০৮ কিলোমিটারে খানাখন্দ ও সড়কের উন্নয়ন কাজ না হওয়াতে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলসহ পার্শ্ববর্তী ধামরাই, মানিকগঞ্জ পূর্ব, সাটুরিয়া এলাকার লাখো মানুষের।


সড়ক উন্নয়ন কাজের ২ বছর পেরিয়ে গেলেও সড়কটির তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। তবে, উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর জানিয়েছে দ্রæত সময়ের মধ্যে সড়কের কাজ শুরু হবে।


জানা যায়, দুই বছর পূর্বে পাহাড়পুর-ভাওড়া-কামারপাড়া সড়কের ০৮ কিলোমিটারের উন্নয়ন কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অবনি এন্টারপ্রাইজ। ফ্লাড প্রকল্পে ০৪ কোটির অধিক টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে এই উন্নয়ন কাজে। কিন্তু দুই বছরে বেশ কয়েকবার কাজ ধরলেও অজ্ঞাত কারণে কাজ সম্পন্ন না করেই চলে গিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ ভাগ কাজ হয়েছে বলে জানা গেছে।


স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সড়কটি করার জন্য পাশের আবাদি জমি থেকে মাটি নিয়ে সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য ব্যবহারের কথা থাকলেও আদৌ পর্যন্ত মাটি কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়নি। ফলে মাটিগুলো বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে অন্যত্র সরে যাচ্ছে এতে মাটিগুলো অপচয় হচ্ছে। অপরদিকে প্রচন্ড তাপদাহের কারণে ব্যাপক ধুলিকণারও সৃষ্টি হচ্ছে সড়কে। যা মানব স্বাস্থ্যের জন্যে অত্যন্ত ক্ষতিকর। অপরদিকে আশপাশের ফসলি জমি ও অন্যান্য ফসলাদিও নষ্ট হচ্ছে এই ধুলিকণার কারণে। অভিযোগ উঠেছে ভাওড়া উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা থেকে পাইখার ভাওড়া এলাকার ০৩ কিলোমিটারজুড়ে বেহাল দশার কারণে বিভিন্ন অসুস্থ্য রোগীদেরও হাসপাতালে নিতে খুব হিমশিম খেতে হয় চালক ও রোগীর স্বজনদের। এই ভোগান্তি থেকে রক্ষা চান সকলেই।


ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) মো. মোখলেছুর রহমান মুকুল বলেন, ভাওড়া, কামারপাড়ার এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে মির্জাপুর যাতায়াত করে লক্ষাধিক মানুষ। সড়কটি দ্রæত সংস্কার করা হলে সর্বসাধারণের যাতায়াতে সুবিধা হবে।


ইউনিয়ন আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. লিটন আহমেদ বলেন, এর আগের তারিখে সড়কের কাজ শুরু করল হঠাৎ কইরা কাজ বন্ধ হইয়া গেলো। আবার নতুন কইরা কাজ শুরু হলো, মালামাল আনলো, দুপাশের ফসলি জমি নষ্ট করে সড়কে মাটি দেয়া হলো, কিন্তু হঠাৎ করে দেখি লোক নাই। কি কারণ তাও জানতে পারি নাই। আমরা সড়কটি দ্রæত সংস্কার চাই।


ওই সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালক শহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা এই সড়কে চলি খুব কষ্ট কইরা। মনে করেন, অসুস্থ্য রোগীকে নিয়্যা খুব কষ্ট হইয়া যায়। আমরা এই রাস্তাডা নিয়া খুব বিপদের মধ্যে আছি। সড়কের অপর পাঁচ কিলোমিটারে খানাখন্দ থাকায় মাঝেমধ্যে গর্ভবতি নারীদের সময়মতো হাসপাতালে না নিয়ে যেতে পারায় ও অতিরিক্ত ঝাকুনির কারণে দুই তিনবার রাস্তায়ই বাচ্চা প্রসবের ঘটনাও ঘটেছে এই সড়কটিতে।


উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরাবর চিঠি দিয়েছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন দ্রæত সময়ের মধ্যে সড়কটির কাজ শুরু করা হবে।

আরো পড়ুন