
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি উত্তরাঞ্চলের দুই বিভাগ রাজশাহী ও রংপুরের ১৬ জেলার ৭২টি সংসদীয় আসনে একমাত্র নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
ফারজানা শারমিন পুতুল পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। বর্তমানে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির বিশেষ সহকারী, মানবাধিকারবিষয়ক কমিটির সদস্য এবং দলের মিডিয়া সেলের সদস্য ও নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। ফজলুর রহমান পটল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন এবং এই আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে টানা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এ তালহার কাছে পরাজিত হওয়ার পর আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। ২০১৬ সালে ফজলুর রহমান পটলের মৃত্যু হয়। বাবার মৃত্যুর পরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন পুতুল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে পুতুলের মা অধ্যক্ষ (অব.) কামরুনাহার শিরিন দলীয় মনোনয়ন পেলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বকুলের কাছে পরাজিত হন।
পুতুলের নির্বাচনে জয়লাভ অতটা মসৃন ছিলনা। তিনি দলের বহিস্কৃত বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ দপ্তর সম্পাদক বিদ্রোহী প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু এবং জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালমে আজাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী আবুল কালাম আজাদকে ১২ হাজার ৭৬৬ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
নারী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ব্যারিস্টার পুতুল সাইবার বুলিংয়ের শিকারও হয়েছেন। এমনকি দলের ভেতরের কিছু নেতা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। এসব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে প্রতিটি এলাকায় ধানের শীষের ভোট প্রার্থনা, গণসংযোগ করে গণমানুষের নেতা হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছেন। পরিবারের রাজনৈতিক দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিছেন তিনি। তার পরিবারের সঙ্গে আগে থেকে শক্ত দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্থানীয় বিএনপির বড় একটি অংশকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের মন জয় করে পার হন নির্বাচনী বৈতরণি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মধ্যে রাজশাহী বিভাগের একমাত্র নারী প্রার্থী পুতুল।
ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমি প্রথমেই দলের চেয়ারম্যানসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তারা আমার ওপরে বিশ্বাস করে ধানের শীষ তুলে দিয়েছিলেন। প্রতিদানে এ আসনের মানুষ আমাকে বিজয়ী করে তাকে সম্মানিত করেছেন। তিনি আমাকে মন্ত্রী পরিষদে জায়গা দিয়েছেন। আমি চেষ্টা করব যেন গণমানুষের সেবা করতে পারি এবং দলের ভাবমূর্তি উজ্জল করতে পারি।
আমার বার্তা/এমই

