
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানের পথে। কয়েকটি পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার এমন আশা আরও জোরালো হয়েছে। তেহরানে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ এক মধ্যস্থতাকারীর উপস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ইতিবাচক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়েও একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি ও নৌ অবরোধ কেটে গেলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিকের আশাও করা হচ্ছে। সম্ভাবনার এই ক্ষেত্র তৈরি করেছে লেবানন-ইসরায়েল সংঘাত বন্ধের উদ্যোগ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর ছয় সপ্তাহ পর লেবাননে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে বুধবার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা বৈঠকে বসে। অপরদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বৈরুত ও তেল আবিবের নেতাদের মধ্যে আলোচনা হবে। আর লেবানিজ কর্মকর্তাদের বরাতে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, খুব শিগগিরই একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হতে পারে।
যদিও লেবাননের একটি সরকারি সূত্র এএফপিকে বলেছেন, তারা এ ধরনের (আলোচনা) কোনো যোগাযোগের বিষয়ে অবগত নন। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে পরিকল্পিত কোনো যোগাযোগের বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। এমনকি আনুষ্ঠানিক কোনো চ্যানেলের মাধ্যমেও কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হওয়া আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছিল লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি। বুধবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা একটি চুক্তির বিষয়ে আশাবাদী। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা বেশ ফলপ্রসূ হচ্ছে।’ চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ করার খবর সঠিক নয় বলে দাবি করেন লেভিট। তিনি জানান, নতুন করে সরাসরি বৈঠকের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সেটি হলে পাকিস্তানে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, সেনাপ্রধান জেনারেল অসিম মুনির তেহরানে পৌঁছেছেন। রয়টার্সকে ইরানের একটি সূত্র জানিয়েছেন, গত দফার আলোচনার মধ্যস্থতাকারী মুনির এবার দুই পক্ষের মধ্যকার ‘দূরত্ব কমিয়ে আনার’ চেষ্টা করবেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অসিম মুনিরকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক্সে লিখেছেন, তেহরান এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে একদিকে যেমন হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হয়, তেমনি উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ইরান হামলা চালায়। এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ইরান ও লেবাননে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী ও নীতি নির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলেছে।
তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। বুধবার ওয়াল স্ট্রিটের সূচক রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায় এবং তেলের দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। জাপানের ফুজিতোমি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক তোশিতাকা তাজাওয়া বলেন, উত্তেজনা প্রশমনের আশা থাকলেও অনেক বিনিয়োগকারী এখনো সন্দিহান। কারণ এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা অগ্রগতির খুব কাছাকাছি গিয়েও ভেস্তে গেছে।

